ঢাকা শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

চট্টগ্রাম-৮ উপনির্বাচন

বিএনপির ফ্যাক্টর মোর্শেদ খান

বিএনপির ফ্যাক্টর মোর্শেদ খান
×

তৌফিকুল ইসলাম বাবর, চট্টগ্রাম

প্রকাশ: ১১ ডিসেম্বর ২০১৯ | ১৩:৩০

চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও-পাঁচলাইশ) আসনে উপনির্বাচনে বিএনপির অন্যতম 'ফ্যাক্টর' হয়ে দাঁড়িয়েছেন দল থেকে পদত্যাগ করা সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম মোর্শেদ খান। ধানের শীষ প্রতীক পাওয়া চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আবু সুফিয়ানের সঙ্গে সাবেক এমপি মোর্শেদ খানের এক সময় সুসম্পর্ক থাকলেও এখন নেই। এ কারণে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করার কথাও ভাবছেন তিনি। এক সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও দলের ভাইস চেয়ারম্যানের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকায় এখনও এলাকায় বিস্তর প্রভাব রয়েছে তার। শেষ পর্যন্ত মোর্শেদ খান নির্বাচন না করলেও সেই প্রভাবে 'নাস্তানাবুদ' হতে পারেন বিএনপি প্রার্থী আবু সুফিয়ান।

গত সোমবার রাতে এ আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হয়। নির্বাচনে 'নৌকার মাঝি' মনোনীত করা হয়েছে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমদকে। এলাকায় ব্যাপক প্রভাব রয়েছে বর্ষীয়ান এ আওয়ামী লীগ নেতারও। তাকে মোকাবিলার পাশাপাশি মোর্শেদ খানকেও সামলাতে হবে আবু সুফিয়ানকে। ইতোমধ্যে সুফিয়ানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন 'ইস্যু' তৈরি করে তার বিরোধিতা করছেন বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীরা। যারা এসব কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন, তারা এলাকায় মোর্শেদ খানের 'লোক' হিসেবে পরিচিত। এ জন্য আবু সুফিয়ানও সরাসরি অভিযোগের আঙুল তুলছেন মোর্শেদ খানের দিকে।

যোগাযোগ করা হলে আবু সুফিয়ান রাখঢাক না করে সমকালকে বলেন, 'কিছু লোক পরিকল্পিতভাবে আমার পেছনে লেগেছে। যারা এসব কাজ করছে তারা মোর্শেদ খানের মানুষ। তিনিই আমার বিরুদ্ধে তাদের মাঠে নামিয়েছেন। সবাই এটা ভালো করেই জানে।'

নির্বাচনে অংশ নিতে ইতোমধ্যেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে রিটার্নিং অফিসারের কাছ থেকে ফরম সংগ্রহ করেছেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মোর্শেদ খান। চান্দগাঁও থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফ উদ্দিন খান তার পক্ষে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন। এ জন্য কেন্দ্রীয় বিএনপি থেকে শোকজ করা হয়েছে শরীফকে। মোর্শেদ খানের চাচাতো ভাই হন শরীফ। অবশ্য আদৌ তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন কিনা, তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। কারণ, এ নিয়ে নিজেই দোটানায় রয়েছেন তিনি। সমকালের সঙ্গে মোবাইল ফোনে আলাপচারিতায় মোর্শেদ খান বলেন, 'আমি আগেই বলেছি নির্বাচন করব না। যদিও এলাকার মানুষ আমাকে ভালোবাসে। যতবার নির্বাচন করেছি ততবারই জয়লাভ করেছি। এবারও তারা চায় আমি নির্বাচন করি। কিন্তু আমি নির্বাচন করতে চাইছি না। এবার বিরতি দিতে চাইছি।' এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'আমি তো নির্বাচনই করছি না। ফলে কে কী বলছে, তা আমার দেখার বিষয় নয়।'

মোর্শেদ খানের ঘনিষ্ঠ একাধিক বিএনপি নেতা জানিয়েছেন, তিনি দল থেকে পদত্যাগ করলেও এখনও দলের অনেক নেতাকর্মী তার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে চলেন। উল্লেখযোগ্য কয়েকজনের নামও বলেছেন তারা। তাদের দেওয়া তথ্যমতে, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আহমদ খলিল খান, বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. আজিজুল হক চেয়ারম্যান, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আরইউ চৌধুরী শাহীন, বোয়ালখালী পৌর বিএনপির সভাপতি মো. শওকত, পাঁচলাইশ থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনির চৌধুরী, চান্দগাঁও থানা বিএনপির সভাপতি মো. আজম, সাধারণ সম্পাদক শরীফ উদ্দিন খানসহ আরও অনেকের সঙ্গে মোর্শেদ খানের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। নির্বাচনী মাঠে তারাও বড় 'ফ্যাক্টর'। মনোনয়ন চেয়ে না পাওয়া বিএনপি নেতা এরশাদ উল্লাহর সঙ্গে সুসম্পর্ক রয়েছে মোর্শেদ খানের।

মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক এরশাদ উল্লাহ সমকালকে বলেন, মোর্শেদ খান চট্টগ্রাম-৮ আসন থেকে চার দফায় নির্বাচন করে প্রতিবারই জয়লাভ করেছেন। এলাকায় তার প্রভাব থাকাটাই স্বাভাবিক। তিনি বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ। তাই তিনি নির্বাচন করবেন কিনা, সেটি তার একান্তই নিজস্ব ব্যাপার। কারণ, নির্বাচনের ভালো-মন্দ দুটি দিকই রয়েছে।

একই কথা বলেন বিএনপি নেতা শরীফ উদ্দিন খানও।

চট্টগ্রাম-৮ আসনটি একসময় বিএনপির দখলে ছিল। মোর্শেদ খান আসনটি থেকে বিভিন্ন সময় নির্বাচন করে জয়লাভ করেন। কিন্তু ২০০৮ সালের নির্বাচনে তিনি অংশ নিতে না পারায় সেখানে দলের প্রার্থী করা হয় চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এরশাদ উল্লাহকে। তিনি মহাজোট প্রার্থী জাসদ নেতা মইনউদ্দীন খান বাদলের কাছে পরাজিত হন। ২০১৪ সালের নির্বাচন বয়কট করে দলটি। ওই নির্বাচনেও জয়লাভ করেন বাদল। সর্বশেষ ২০১৮ সালের নির্বাচনে মোর্শেদ খান দলের মনোনয়ন চাইলেও পাননি। তার পরিবর্তে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আবু সুফিয়ান মনোনয়ন পেলেও জয়লাভ করতে পারেননি। আসনটিতে হ্যাটট্রিক জয় পান বাদল। গত ৭ নভেম্বর ভারতের ব্যাঙ্গালুরুতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা গেলে আসনটি শূন্য হয়। আগামী ১৩ জানুয়ারি এ আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

আরও পড়ুন

×