পানিতে ডুবে মৃত্যু সাত শিশু ও দুই কিশোর-তরুণের
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৬ | ০৮:১৪
| প্রিন্ট সংস্করণ
দেশের ছয় জেলায় দুদিনে পানিতে ডুবে মৃত্যু হয়েছে পাঁচ শিশুসহ সাতজনের। ঈদের ছুটিতে পানিতে ডুবে প্রাণ গেছে ১২ জনের। সব মিলিয়ে সাত দিনে মারা গেছেন ২০ জন।
গতকাল সোমবার শেরপুরের শ্রীবরদীতে কলাগাছের ভেলা নিয়ে খেলার সময় ডুবে মারা গেছে দুই শিশু। এদিন দুপুরে উপজেলার গোসাইপুর ইউনিয়নের পূর্ব বাদে ঘোনাপাড়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। মৃত শিশুরা হলো– ওই গ্রামের আলমগীর হোসেনের ছেলে মো. হানজালা (৯) ও নেকাবর আলীর ছেলে সিদ্দিক মিয়া (৬)।
দুপুর আড়াইটার দিকে দুই শিশু বাড়ির পাশের ডোবায় কলাগাছের ভেলা নিয়ে খেলতে যায়। হঠাৎ পা পিছলে তারা পানিতে তলিয়ে যায়। অনেক খোঁজাখুঁজির পর স্বজনরা ডোবা থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে বলে জানান গোসাইপুর ইউপি চেয়ারম্যান শাহ জামাল আশিক।
একই দিন কুমিল্লার দেবিদ্বারে বড় বোনের সঙ্গে খালে গোসলে নেমে স্রোতে তলিয়ে মৃত্যু হয়েছে ফারিয়া আক্তার (৮) নামের এক শিশুর। এদিন দুপুরে উপজেলার বড়শালঘর ইউনিয়নের সংচাইল ব্রিজসংলগ্ন লক্ষার খালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রায় তিন ঘণ্টা পর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ফারিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে। সে সংচাইল গ্রামের মো. শাহাদাত হোসেনের মেয়ে।
মুরাদনগর ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা মো. আমজাদ হোসেন বলেন, বৃষ্টিতে পানি বাড়ায় খালে তীব্র স্রোত ছিল। এ কারণেই শিশুটি তলিয়ে যায়।
এদিকে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে গতকাল বিকেলে পুকুরে ডুবে মারা গেছে সৃজন কুমার (৬) ও বৃন্দা রানী (৫) নামে দুই শিশু। তাদের মধ্যে সৃজন উপজেলার বেলকা ইউনিয়নের পূর্ব বেলকা (কদমতলী) গ্রামের নিরাশা বাদিয়ার ছেলে ও অন্যজন বৃন্দা বিধান চন্দ্র দাসের মেয়ে।
স্থানীয় লোকজন জানায়, বিকেলের দিকে একই গ্রামের সবির মিয়ার পুকুরপাড়ে জাম কুড়াতে যায় সৃজন ও বৃন্দা। সবার অজান্তে তারা পুকুরে ডুবে যায়। খোঁজাখুঁজির পর স্বজনেরা তাদের ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করেন। দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলে তিনি শিশু দুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।
কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে গোসলে নেমে নিখোঁজ হওয়া তরুণের মরদেহ গতকাল উদ্ধার হয়েছে। এদিন ভোরে নাজিরারটেক উপকূলে পাওয়া যায় মোহাম্মদ আবির (১৮) নামের ওই তরুণের মরদেহ। তিনি ঢাকার লালবাগের শহীদনগর এলাকার ইলিয়াস মুন্সীর ছেলে। রোববার ঢাকা থেকে ৯ বন্ধু কক্সবাজারে আসেন। সকাল ৭টার দিকে শহরের একটি গেস্টহাউসে ওঠেন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সী-গাল পয়েন্টে গোসলে নামলে আবির ভেসে যান।
গতকাল সন্ধ্যায় সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং পর্যটনকেন্দ্রে পানিতে ডুবে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। সন্ধ্যা ৬টার দিকে
জাফলং জিরো পয়েন্ট থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মৃত ইমতিয়াজ হোসেন রাহি চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার ফতেহাবাদ গ্রামের জসিম উদ্দিনের ছেলে। ১২ জনের দলের সঙ্গে সে জাফলং বেড়াতে এসেছিল।
এদিকে পঞ্চগড়ে পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে আসিফ (১১) ও সাথি আক্তার (৯) নামে ভাইবোনের মরদেহ। রোববার রাতে সদর উপজেলার চাকলাহাট ইউনিয়নের কেকুপাড়ায় ঘটনাটি ঘটে। এলাকাবাসীর ধারণা, আম পাড়তে গিয়ে তারা পানিতে পড়ে যায়।
শিশু দুটির বাবা আইজুল ইসলাম নেন্দ কয়েক বছর আগে মারা যান। তাদের মা আছিয়া খাতুন শ্রমিকের কাজ করে সংসার চালাতেন। চাকলাহাট ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম বলেন, রাতে বাড়ির পাশের পুকুরে আসিফের মরদেহ ভাসতে দেখেন পরিবারের সদস্যরা। পরে স্থানীয় লোকজন পুকুরে নেমে তল্লাশি করে তার ছোট বোন সাথির মরদেহ উদ্ধার করেন।
(তথ্য দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি)
- বিষয় :
- মৃত্যু
