ঢাকা মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

সেমিনারে বক্তারা

বঙ্গবন্ধুর আদর্শে প্রণীত সংবিধানেই নারীর উন্নয়ন সম্ভব

বঙ্গবন্ধুর আদর্শে প্রণীত সংবিধানেই নারীর উন্নয়ন সম্ভব
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৮ মার্চ ২০২০ | ০৮:৫৬ | আপডেট: ০৮ মার্চ ২০২০ | ০৯:১১

বঙ্গবন্ধুর আর্দশে প্রণীত সংবিধানেই নারীর উন্নয়ন সম্ভব- বলে মন্তব্য করেছেন বক্তারা। তারা বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর আর্দশের ভিত্তিতে স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধান প্রণীত হয়েছে। এই সংবিধানেই নারী ও পুরুষের সমানাধিকার ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ে তোলার রুপরেখা রয়েছে। তাই নারীর ক্ষমতায়ন ও অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য সংবিধানের মূলনীতি বাস্তবায়ন জরুরি।

রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবে 'নারী উন্নয়নে বঙ্গবন্ধু' শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে জাতীয় প্রেস ক্লাব এ সেমিনারের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে জাতীয় প্রেস ক্লাবের পক্ষে সম্মাননা প্রদান করা হয় কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনকে। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন।

এতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সিনিয়র সহসভাপতি ওমর ফারুকের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন- একুশে পদকপ্রাপ্ত সাহিত্যিক নাজমুন নেসা পিয়ারী, নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের সভাপতি নাসিমুন আরা হক মিনু, একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি হেলাল হাফিজ, বাংলাদেশ খবরের সম্পাদক ও প্রেস ক্লাবের সহসভাপতি আজিজুল ইসলাম ভুইয়া, প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক সোহরাব হাসান, ইমপালস হাসপাতালের পরিচালক জহির আল আমিন প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রেস ক্লাবের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য শাহনাজ বেগম। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ইত্তেফাকের সম্পাদক তাসমিমা হোসেন ও মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মাহবুবা চৌধুরী।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্পিকার ড.শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, পুরুষের সহযোগিতার মধ্যে দিয়ে নারী-পুরুষের সমতা ও অগ্রযাত্রা পূর্ণতা পায়। বঙ্গবন্ধু নারীর উন্নয়নে নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছিলেন; যা সংবিধানে প্রতিফলিত হয়েছে। যার একটি হচ্ছে সংসদেও নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন। বর্তমানে নারীদের জন্য সংবিধানের ৫০টি আসন সংরক্ষিত রয়েছে। এটি থাকবে কিনা তা অন্য আলোচনার বিষয়।

তিনি বলেন, এখন সংরক্ষিত এবং সরসারি ভোটের মাধ্যমে নারীরা সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছেন। বর্তমানে ৭২ জন নারী সংসদে আছেন। তারা নারীর ক্ষমতায়নে কাজ করছেন। এটি আমাদের সংবিধানের অনন্য বৈশিষ্ট্য। অথাৎ সংবিধানেই নারীর অধিকার ও ক্ষমতা সুসংহত রয়েছে। তাই নারীর অধিকার বাধাগ্রস্ত করা সহজ নয়। পিছিয়ে পরা নারী ও শিশুদের উন্নয়নেও সংবিধানে বঙ্গবন্ধু সকল ব্যবস্থা রেখে গেছেন। তাই সংবিধান বাস্তবায়ন করা জরুরি।

সম্মাননাপ্রাপ্তির অনুভূতি প্রকাশ করে সেলিনা হোসেন বলেন, নারী-পুরুষের সমতা আনার জন্য সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

মূল প্রবন্ধে ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, নারীর উন্নয়নে, ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ সরকার ভাল ভাল উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। দৃশ্যমান অনেক পরিবর্তন হয়েছে। এতকিছুর পরও কথা থেকে যায়। বন্ধ হয়নি নারীর প্রতি সহিংসতা। এখনও নারী ঘরে বাইরে নির্যাতিত হচ্ছে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলায় এখনও নারী ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। কর্মক্ষেত্রে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে, গণপরিবহনে এমনকি রাস্তাঘাটে নারী যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, নারীর প্রতি সমাজের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন হয়নি। এখনও নারীকে দেখা হয় অধস্তন হিসাবে। এখনও সর্বক্ষেত্রে অর্জিত হয়নি নারী পুরুষের সমতা। জাতির পিতার স্বপ্ন সেদিন স্বার্থক হবে যেদিন আর একটিও নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটবে না। নারীর ক্ষমতায়নে আমাদের যেতে হবে আরও বহুদূর।

আরও পড়ুন

×