ঢাকা মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

নাগরিক সমাবেশে বক্তারা

বাজেটে উচ্চ ঋণ গ্রাস করছে স্থায়িত্বশীলতার সুযোগ

বাজেটে উচ্চ ঋণ গ্রাস করছে স্থায়িত্বশীলতার সুযোগ
×

ছবি: সংগৃহীত

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৪ | ২১:৫৩

আসন্ন বাজেটে ঘাটতি কমাতে যে নজিরবিহীন ঋণ এবার নেওয়া হচ্ছে, তা শেষ পর্যন্ত মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে টিকে থাকার পথ রুদ্ধ করে দেবে। এতে উচ্চ হারের ঋণ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পথে অন্তরায়।

শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ইক্যুইটিবিডি আয়োজিত আসন্ন ২০২৪-২৫ বাজেট সংক্রান্ত নাগরিক সমাবেশে বক্তারা এসব কথা বলেন। কোস্ট ফাউন্ডেশনের পরিচালক মোস্তফা কামাল আকন্দের পরিচালনায় সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ইক্যুইটিবিডির প্রধান সঞ্চালক রেজাউল করিম চৌধুরী। বক্তব্য রাখেন, ক্লিনের হাসান মেহেদী, আন্তর্জাতিক গ্রামীন নারী দিবস উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস আরা রুমি, ওয়াটার কিপারস বাংলাদেশের মামুন কবীর, বিডিসিএসও প্রসেসের ওমর ফারুক ভুইয়া, ইক্যুইটিবিডির আবুল হাসান, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলী, ইয়ং চেঞ্জমেকারের সোহানুর রহমান সোহান, এবং অনলাইন নলেজ সোসাইটির প্রদীপ কুমার রায়।

বিডিসিএসও প্রসেসের ওমর ফারুক ভুইয়া বলেন, আসন্ন ২০২৪-২৫ বাজেটের পরিমাণ হলো ৮.০৫ লাখ কোটি টাকা, যেখানে ঋণের পরিমাণ হলো ২.৭৫ লাখ কোটি টাকা। ইতিমধ্যে মাথাপিছু ঋণ গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৫৮০ ডলারে। এই বিপুল পরিমাণ ও নজিরবিহীন ঋণ সাধারণ মানুষের অনেক জীবনরক্ষাকারী খাতে সুযোগ হ্রাস করবে।

আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস আরা রুমি বলেন, বাংলাদেশে অনানুষ্ঠানিক খাতে শ্রমজীবী রয়েছে ৯১% যার ৯৫.৭% নারী। তাদের কতটুকু অগ্রগতি হলো তা অবশ্যই প্রতিবছর জেন্ডার-বাজেট রিপোর্টিং সিস্টেমের মাধ্যমে মূল্যায়ন করতে হবে।

ইক্যুইটিবিডির মোস্তফা কামাল আকন্দ বলেন, ২০২৩ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান সাড়ে আট হাজার মানুষ। আসন্ন বাজেটে সড়ক ও জনপথ খাতে ৮৭ হাজার কোটি টাকা বাজেট থাকলেও নিরাপদ সড়কের জন্য, এত প্রাণহানী প্রতিরোধের জন্য কোনো বরাদ্দ নেই। যাত্রী বীমা বাবদ বীমা কোম্পানি বছরে ৩০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়, অথচ দুর্ঘটনার শিকার পরিবারগুলো কোনো ক্ষতিপূরণ পায় না।

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একোয়াকালচার বিভাগের সভাপতি মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, প্রায় দেড় কোটি মানুষের কর্মসংস্থান রয়েছে মৎস খাতে, অথচ বছরে ৩-৪ দফা মৎস আহরণে নিষেধাজ্ঞার সময় দরিদ্র জেলে পরিবারগুলো কী করবে, বাজেটে তার কোনো বিধান নেই।

ইক্যুইটিবিডির আবুল হাসান বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নে জলবায়ু-তাড়িত বাস্তুচ্যুতি একটি বড় অন্তরায়। জলবায়ু-জনিত বাস্তুচ্যুতি বিষয়ক কৌশলপত্র প্রণয়নের ৫ বছর হয়ে গেলেও তা বাস্তবায়নের জন্য বাজেটে আমরা কোনো বরাদ্দ দেখছি না।

ক্লিনের হাসান মেহেদী বলেন, অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় বলা হয়েছিল, ২০২৫ সালের মধ্য অন্তত ১০% নবায়নযোগ্য জ্বালানি অর্জন করবে বাংলাদেশ। এখন পর্যন্ত তা মাত্র ৩% অর্জিত হয়েছে। বিদ্যুত ও জ্বালানি খাতে বাজেট বরাদ্দ প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু নবায়নযোগ্য জ্বালানি অর্জন বাস্তবায়নে আমরা যথেষ্ট বরাদ্দ দেখতে পাচ্ছি না।

সমাবেশের সমাপনী বক্তব্যে রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, পুরো বাজেট প্রণয়ন প্রক্রিয়াটি আমলা-নির্ভর ও অগণতান্ত্রিক। এমনকি এখানে সংসদ সদস্যদের অংশগ্রহণও প্রশ্নসাপেক্ষ।

আরও পড়ুন

×