ওয়ার্কার্স পার্টির ওয়েবিনার
রাষ্ট্রায়ত্ত পাটশিল্প বন্ধের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২০ | ০৮:০৩
পাটখাত নিয়ে আয়োজিত এক ওয়েবিনার থেকে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বন্ধের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। বক্তারা বলেছেন, পাটকল ও পাটশিল্প বন্ধ করার মধ্য দিয়ে গোটা পাটখাতই ধ্বংস হয়ে যাবে। এতে কেবল শ্রমিকই নন, পাটচাষী, কৃষক ও দেশের অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
শনিবার বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির উদ্যোগে ‘রাষ্ট্রায়ত্ত্ব পাটকলের আধুনিকায়ন, না ধ্বংস সাধন?: পাটখাত সুরক্ষায় ভাবনা ও করণীয়’ শীর্ষক এই ওয়েবিনার অনুষ্ঠিত হয়।
বক্তারা আরো বলেন, পাটকল বন্ধ করে আধুনিকায়নের নামে যে সময় নেওয়া হবে, তাতে বাংলাদেশ বিশ্বে পাটপণ্যের বাজার হারাবে। অন্যরা সেই বাজার দখল করে নেবে। পরে সেটা আর ফিরেও পাওয়া যাবে না।
ওয়েবিনারে সভাপতির বক্তব্যে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, কেবল কতিপয় আমলা-ব্যবসায়ী নয়, পাটসংশ্লিষ্ট সব অংশিদারের সঙ্গে আলোচনা করে পাটশিল্প বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এ বিষয়ে সংলাপ ডাকার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
জাতীয় সমাজাতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেন, পাটকল বন্ধের সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক, আত্মঘাতী ও অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকারক। দেশ ও জনগণের স্বার্থেই সরকারকে এই আত্মঘাতী পথ থেকে সরে আসতে হবে।
ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পঙ্কজ ভট্টচার্য বলেন, পাটকল বন্ধের অজুহাত হিসেবে লোকসানের কথা বলাটা বজ্রপাত তুল্য। সত্যটা হচ্ছে দুর্নীতির কারণেই এই লোকসান হচ্ছে। এজন্য পাটকল ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত কর্মকর্তাদের দুর্নীতি ও অযোগ্যতা পর্যালোচনা হওয়া উচিৎ।
পাট কমিশনের সাবেক সদস্য খালেদ রব বলেন, পাটের বাজার টিকিয়ে রাখতে কারখানাগুলো চালু রাখতে হবে। বাজার একবার হারালে আর ফিরে পাওয়া যাবে না।
অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক এমএম আকাশ বলেন, পাট কোনো ‘অস্তগামী’ শিল্প নয়। অথচ বিশ্বব্যাংককে সন্তুষ্ট করার জন্য রাষ্ট্রায়ত্ত্ব পাটকল বন্ধের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ওয়েবিনারে মূলপত্র উপস্থাপন করে ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা। আরও বক্তব্য দেন- পাট বিশেষজ্ঞ ড.মইনুল ইসলাম, পাটকল শ্রমিক নেতা শহিদুল্লাহ চৌধুরী, জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি কামরূল আহসান, স্কপের কেন্দ্রীয় নেতা রাজেকুজ্জামান রতন, গণতান্ত্রিক বাজেট আন্দোলনের নেতা আমানুর রহমান, মোস্তফা মনোয়ার, যশোর জুটমিল সিবিএ’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক হারুন রশিদ মল্লিক, হাফিজ জুটমিল সিবিএ’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম, খুলনার প্লাটিনাম জুটমিল সিবিএ’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান প্রমুখ।
ওয়েবিনারে পাটশিল্প রক্ষায় নয় দফা সুপারিশ ও প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়।
- বিষয় :
- পাটকল
- ওয়ার্কার্স পার্টি