জুলাই স্মৃতি জাদুঘর
উপচে পড়ছে দর্শনার্থী, শৃঙ্খলা ফেরানোর চেষ্টা
উদ্বোধনের পর থেকেই জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে ছিল দর্শনার্থীর উপচে পড়া ভিড়। এতে কিছুটা অব্যবস্থাপনা তৈরি হলেও কর্তৃপক্ষ শৃঙ্খলা ফেরানোর চেষ্টা করছে। গতকাল শনিবার জাদুঘরের মূল ফটকের ছবি - সমকাল
দ্রোহী তারা
প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২৬ | ০৮:১৬ | আপডেট: ০৯ আগস্ট ২০২৬ | ০৯:০৭
| প্রিন্ট সংস্করণ
জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধনের পর থেকে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়। ভিড়ের কারণে কিছুটা অব্যবস্থাপনা তৈরি হলেও কর্তৃপক্ষ এখন শৃঙ্খলা ফেরাতে জোর চেষ্টা চালাচ্ছে। গতকাল শনিবার জাদুঘরের মূল ফটকের বাইরে বাঁশ দিয়ে লাইন তৈরি করে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সামাল দেয় কর্তৃপক্ষ।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের স্মৃতি ধরে রাখতে গণভবনে নির্মিত এই জাদুঘর ৫ আগস্ট উদ্বোধন করা হয়।
প্রথম দিন থেকেই জাদুঘরে দর্শনার্থীর চাপ সামাল দেওয়ার মতো যথাযথ প্রস্তুতি দেখা যায়নি। টিকিট কাউন্টার থেকে প্রবেশপথ– কোথাও কাঙ্ক্ষিত নিয়ন্ত্রণ ছিল না। দ্বিতীয় দিনেও পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি। উৎসুক দর্শনার্থীরা মূল ফটক খুলে ভেতরে ঢুকে পড়েন। দর্শনার্থীর চাপে গণভবনের মূল ভবনে প্রবেশের নিরাপত্তা গেট ভেঙে যায়। এ সময় অনেকেই ভেতরে ঢুকে পড়ে। আবার প্রবেশের সময় ঠেলাঠেলির কারণে অনেকে লাইন থেকে ছিটকে পড়েন। গতকাল শনিবার মূল ফটকের বাইরে বাঁশ দিয়ে লাইন তৈরি করে দর্শনার্থী ঢোকানো হয়।
গতকাল সরেজমিন দেখা যায়, জাদুঘরের মূল ফটকের বাইরে বাঁশ দিয়ে নারী ও পুরুষের জন্য পৃথক সারি তৈরি করা হয়েছে। নিরাপত্তাকর্মীরা সারি ধরে দর্শনার্থী ঢোকানোর চেষ্টা করছেন। আগের দিনের তুলনায় শৃঙ্খলা ফিরলেও প্রবেশে দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হয়। বিশেষ করে অনলাইনে অগ্রিম টিকিট কেটে আসা দর্শনার্থীদের অনেকেরই প্রবেশ নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়।
অনলাইন টিকিটের কিউআর কোড স্ক্যান করে ঢোকার কথা বলা হলেও স্ক্যান করার কার্যকর কোনো ব্যবস্থা দেখা যায়নি। ফলে অনলাইনে টিকিট কাটা এবং সশরীরে টিকিট কেনা– দুই ধরনের দর্শনার্থীকেই প্রায় একই প্রক্রিয়ায় ভেতরে ঢুকতে হয়। এ নিয়ে দর্শনার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
গাজীপুর থেকে আসা মোসলেম উদ্দীন বলেন, ‘আমি নিজের টিকিট অনলাইনে কেটেছি। কিন্তু স্ত্রীর জন্য কাটতে পারিনি। এখন তার জন্য সশরীরে টিকিট কাটতে হচ্ছে। একই জায়গায় দুটো টিকিটের ব্যবস্থা রাখলে ভালো হতো।’
স্লটের সময় মানা হচ্ছে না
জাদুঘরের ওয়েবসাইটে দেওয়া সূচি অনুযায়ী বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা, দুপুর ১টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৩টা ৩০ মিনিট এবং বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা– তিনটি স্লটে দর্শনার্থীদের পরিদর্শনের কথা। কিন্তু নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মীর দাবি, অনেকে নির্ধারিত ২ ঘণ্টার মধ্যে বের হচ্ছেন না। কেউ তিন-চার ঘণ্টা অবস্থান করছেন, আবার কেউ সকালে ঢুকে বিকেলের আগে বের হচ্ছেন না। স্লট অনুযায়ী দর্শনার্থী প্রবেশ-বাহিরের বিষয়টি এখনও ঠিক হয়নি।
স্বেচ্ছাসেবকদের নির্দেশনা উপেক্ষা
জাদুঘরের বিভিন্ন স্থানে স্বেচ্ছাসেবক থাকলেও তাদের নির্দেশনা উপেক্ষা করে অনেক দর্শনার্থী হাত দিয়ে স্মারক স্পর্শ করছেন। গণভবন প্রাঙ্গণে জুলাই আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত ভাস্কর্যে হাত দেওয়া, তাতে উঠতে চাওয়া, ঝরনায় প্রবেশসহ প্রতীকী কবরের ঘাস ছিঁড়ে নষ্ট করার ঘটনাও ঘটতে দেখা গেছে।
মূল ফটকে টিকিটের দায়িত্বে থাকা কর্মী ইসমাইল বলেন, ‘এই জাদুঘর নিয়ে মানুষের আগ্রহ অনেক বেশি, মূলত সে কারণেই এই জনজোয়ার। আমরাও হিমশিম খাচ্ছি। তবু দর্শনার্থীদের সহায়তা করার সর্বাত্মক চেষ্টা করছি, যাতে তারা নির্বিঘ্নে জাদুঘর দেখতে পারেন এবং কোনো জিনিসের ক্ষতি না হয়। পুরো পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় লাগবে।’
শৃঙ্খলা ফেরানোর চেষ্টায় কর্তৃপক্ষ
জুলাই জাদুঘরের মহাপরিচালক তানজিম ওহাব সমকালকে বলেন, দর্শনার্থীদের প্রত্যাশার চেয়েও বেশি সাড়া মিলেছে। এই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে দর্শনার্থী ও কর্তৃপক্ষের সম্মিলিত সচেতনতায় জাদুঘরের শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। তিনি বলেন, ভিড়ের কারণে বা স্থানটির সংবেদনশীলতা না বুঝে অনেকের ভাস্কর্যে হাত দেওয়া বা ঘাস নষ্ট করার মতো ঘটনা ঘটছে। এ জন্য ‘মিউজিয়াম এক্সপ্লেইনার’ বা স্বেচ্ছাসেবকের সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পর্যাপ্তসংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করা হলে পরিস্থিতির ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ আসবে বলে আশা করছেন তিনি। পাশাপাশি সামাজিক মাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
টিকিট ব্যবস্থাপনা নিয়ে তানজিম ওহাব বলেন, পুরো প্রক্রিয়াকে ডিজিটালাইজড করা হচ্ছে। কিউআর কোড স্ক্যানের মাধ্যমে তথ্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকবে। পাশাপাশি ঢাকার বাইরে থেকে আসা দর্শনার্থীদের কথা বিবেচনা করে স্পট রেজিস্ট্রেশন বা অফলাইন টিকিটের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। জাদুঘরের ধারণক্ষমতা বিবেচনায় দর্শনার্থীদের নির্ধারিত স্লট মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি।
- বিষয় :
- জুলাই স্মৃতি জাদুঘর