ঢাকায় নেটওয়ার্কে এগিয়ে থাকার দাবি রবির
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬ | ২২:০৪
ঢাকার মোবাইল নেটওয়ার্কে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার দাবি করেছে রবি আজিয়াটা। রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় ৪ হাজার ৮০০টির বেশি সাইট আধুনিকায়নের পর নেটওয়ার্কের মানে বড় ধরনের উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছে অপারেটরটি। তবে নতুন সাইট স্থাপনের জন্য জায়গা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ায় কিছু এলাকায় নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন রবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াদ সাতারা।
বুধবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে রবির করপোরেট কার্যালয়ে ঢাকার নেটওয়ার্ক আধুনিকায়ন নিয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
জিয়াদ সাতারা বলেন, আধুনিকায়নের ফলে রবির নেটওয়ার্ক অনেক শক্তিশালী হয়েছে। ঢাকায় এখন রবির নেটওয়ার্ক সবচেয়ে শক্তিশালী। তবে কিছু এলাকায় এখনও কাজ বাকি রয়েছে। এসব এলাকায় নতুন সাইট প্রয়োজন হলেও সাইট স্থাপনের জায়গা পাওয়া ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।
ঢাকার প্রতিটি এলাকায় একই মানের সেবা নিশ্চিত করতে নতুন সাইট স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় জায়গা পেতে মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সহযোগিতা চান তিনি।
রবি জানিয়েছে, বৃহত্তর ঢাকার গাজীপুর, সাভার, মানিকগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় ৪ হাজার ৮০০টির বেশি সাইট আধুনিকায়ন করা হয়েছে। প্রায় কোনো ধরনের গ্রাহকসেবা বিঘ্ন ছাড়াই তিন মাসে এ কাজ শেষ করা হয়েছে। আধুনিকায়নের পর বিভিন্ন ক্লাস্টারে গ্রাহক অভিজ্ঞতা সর্বোচ্চ ১২৫ শতাংশ পর্যন্ত উন্নত হয়েছে বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। কল ড্রপ কমেছে ২০ শতাংশ।
বৃহত্তর ঢাকা ও গাজীপুরে ইনডোর নেটওয়ার্ক কভারেজ আগের তুলনায় তিন গুণ হয়েছে বলেও জানিয়েছে রবি। নতুন বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী প্রযুক্তির কারণে প্রতি জিবি ডেটা ব্যবহারে বিদ্যুৎ খরচ ২০ শতাংশ কমেছে।
রবির চিফ টেকনোলজি অফিসার পেরিহান এলহামে আহমেদ মেতাওয়েহ বলেন, ঢাকার নেটওয়ার্ক আধুনিকায়ন দেশব্যাপী নেটওয়ার্ক রূপান্তর কর্মসূচির অংশ। নতুন প্রজন্মের ‘গিগা গ্রিন ৪জি/৫জি রেডি’ প্রযুক্তির যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে নেটওয়ার্ক আধুনিকায়ন করা হয়েছে। এখন আধা-শহুরে এলাকাগুলোতে নেটওয়ার্ক আরও শক্তিশালী করার দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে।
ঢাকার পর চট্টগ্রামের নেটওয়ার্ক আধুনিকায়নের কাজও শিগগির শেষ করার কথা জানিয়েছেন জিয়াদ সাতারা। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে দেশের সেরা মানের নেটওয়ার্ক হিসেবে রবির অবস্থান ধরে রাখার চেষ্টা করা হবে। এ শ্রেষ্ঠত্ব শুধু প্রচারে নয়, গ্রাহকের বাস্তব নেটওয়ার্ক অভিজ্ঞতাতেও প্রতিফলিত হবে।
নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে জায়গার সংকটের বিষয়টি অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামও। তিনি শহরের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলেও উন্নত মোবাইল সেবা নিশ্চিত করতে অপারেটরদের প্রতি আহ্বান জানান। তাঁর মতে, ব্যবসায়িকভাবে শহরে বিনিয়োগ বেশি লাভজনক হলেও গ্রামের মানুষকে উন্নত সেবা থেকে বঞ্চিত রাখা যাবে না।
মন্ত্রী বলেন, প্রত্যন্ত এলাকায় নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে টাওয়ার শেয়ারিংয়ের সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। বর্তমানে অপারেটরদের মধ্যে টাওয়ার শেয়ারিং হচ্ছে। এতে কম সুবিধাপ্রাপ্ত এলাকাতেও নেটওয়ার্ক বিস্তারের সুযোগ বাড়ছে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এবং বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারীও বক্তব্য দেন।
রবি জানিয়েছে, ২০২০ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে ৯ হাজার ৩৩১ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ করেছে তারা। এ সময়ে ৪জি সাইটের সংখ্যা ১৩ হাজার ১৭৩ থেকে বেড়ে ১৯ হাজার ৬৪৬টিতে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে দেশের ৯৮ দশমিক ৯৮ শতাংশ জনসংখ্যা রবির ৪জি নেটওয়ার্কের আওতায় রয়েছে বলে দাবি প্রতিষ্ঠানটির।