কম বরাদ্দের এডিপিও বাস্তবায়ন হচ্ছে না
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫ | ০৭:০৫
| প্রিন্ট সংস্করণ
বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি অনেক দিন ধরেই নিম্নমুখী। গত অক্টোবরে বাস্তবায়ন ব্যয় কিছুটা সন্তোষজনক ছিল। নভেম্বরে এসে এডিপি কার্যক্রম আবার গতিহীন। চলতি অর্থবছরের জুলাই মাস থেকে নভেম্বর পর্যন্ত গত ৫ মাসে বিদেশি ঋণের অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে খরচের খাতাই খুলতে পারেনি সরকারের ৫ মন্ত্রণালয় ও বিভাগ। সব মিলিয়ে অর্থ খরচের দিক থেকে গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে চলতি অর্থবছরের প্রথম ৫ মাসে এডিপি ব্যয়ের পরিমাণ ৬ হাজার ১৭১ কোটি টাকা কম।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে। আইএমইডির প্রতিবেদন অনুসারে, জুলাই-নভেম্বর সময়ে এডিপিতে বিদেশি ঋণের বরাদ্দ করা অর্থ ব্যয়ে খরচের খাতা খুলতে না পারা মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো হচ্ছে–স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, সংসদবিষয়ক সচিবালয়, জননিরাপত্তা বিভাগ এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
এছাড়া আরও সাত মন্ত্রণালয় ও বিভাগে বিদেশি ঋণ বরাদ্দের বাস্তবায়নের হার ৩ শতাংশর কম। এ তালিকায় খোদ আইএমইডিও রয়েছে। বিভাগটির বাস্তবায়নের হার মোট বরাদ্দের শূন্য দশমিক ৮৬ শতাংশ। এ ছাড়া পরিসংখ্যান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের বাস্তবায়নের হার ১ দশমিক ২৫ শতাংশ। জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের এ হার ১ দশমিক ২৯ শতাংশ। অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের বাস্তবায়নের হার ১ দশমিক ৫৫ শতাংশ। আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের বাস্তবায়ন হার ১ দশমিক ৮৯ শতাংশ।
গত পাঁচ মাসে এডিপির বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান খাতে ব্যয় হয়েছে ১০ হাজার ৭৯৪ কোটি টাকা, যা বরাদ্দের ১২ দশমিক ৫৫ শতাংশ। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ খাতে ব্যয় হয়েছিল ১১ হাজার ৪০৭ কোটি টাকা।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের নেওয়া উন্নয়ন প্রকল্পগুলো কতটা প্রয়োজনীয় তা পর্যালোচনা করেছে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার। এ প্রক্রিয়ায় অনেক প্রকল্প বাদ পড়েছে। স্থগিত রাখা হয়েছে কিছু প্রকল্প। আবার কিছু প্রকল্পের বরাদ্দ কমানো হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এডিপি বাস্তবায়ন সর্বকালের সর্বনিম্ন। বাস্তবায়ন হয় ৬৮ শতাংশেরও কম। বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন বিষয় পর্যালােচনা করে চলতি অর্থবছরের এডিপির আকার ছোট করা হয়। এডিপির আকার ধরা হয়েছে ২ লাখ ৩৮ হাজার ৬৯৬ কোটি টাকা, যা গত অর্থবছরে ছিল ২ লাখ ৭৮ হাজার ২৮৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ গত অর্থবছরের তুলনায় চলতি অর্থবছরে এডিপির আকার ৩৯ হাজার ৫৯৩ কোটি টাকা কম।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা নিয়ে সরকারের মধ্যে উদ্বেগ আছে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে বাস্তবায়নের হার বাড়ানোর জন্য বিশেষ নজরদারি চলছে। বাস্তবায়নের গতি বাড়াতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা। সেখানে বাস্তবায়নের গতি বাড়াতে বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অর্থ ছাড়সহ অন্যান্য প্রক্রিয়ায় সব ধরনের জটিলতা এড়ানো হয়েছে। সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত নতুন আইন ও বিধিমালা হয়েছে। এতে শতভাগ ক্রয় অনলাইনভিত্তিক করা হয়েছে। এসব উদ্যোগের সুফল হিসেবে প্রকল্প বাস্তবায়ন বাড়বে বলে আশা করা হয়েছিল। এডিপি বরাদ্দ গত অর্থবছরের চেয়ে বেশ খানিকটা কমানোর পরও বাস্তবায়নে গতি ফেরেনি।
আইএমইডির তথ্য-উপাত্ত বলছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ৫ মাসে বিভিন্ন প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ২৮ হাজার ৪৪ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে ব্যয়ের পরিমাণ ছিল ৩৪ হাজার ২১৫ কোটি টাকা। এর আগে ২০২৩-২৪ ও ২০২২-২৩ এই সময়ে এডিপি ব্যয় ছিল যথাক্রমে ৪৬ হাজার ৮৫৭ কোটি টাকা এবং ৪৭ হাজার ১২২ কোটি টাকা।
চলতি অর্থবছরের প্রথম ৫ মাসে এডিপি বাস্তবায়নের হার বরাদ্দের মাত্র ১১ দশমিক ৭৫ শতাংশ। আগের অর্থবছরে একই সময়ে এ বাস্তবায়ন হার ছিল ১২ দশমিক ২৯ শতাংশ। ওই অর্থবছরে বরাদ্দও বেশি ছিল। আগের দুই অর্থবছর ২০২৩-২৪ ও ২০২২-২৩ অর্থবছরে প্রথম পাঁচ মাসে এডিপি বাস্তবায়ন হার ছিল যথাক্রমে ১৭ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ ও ১৮ দশমিক ৪১ শতাংশ। গত ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম ৫ মাসে এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছিল বরাদ্দের ১৮ দশমিক ৬১ শতাংশ। অর্থাৎ গত কয়েক বছর ধরে এডিপি বাস্তবায়নের হার কমছেই।
এ দিকে একক মাসের হিসাবেও গত নভেম্বরে বাস্তবায়নের হার অন্যান্য বছরের একই মাসের চেয়ে কম। মাসটিতে এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছে বরাদ্দের মাত্র ৩ দশমিক ৪২ শতাংশ, যা গত অর্থবছরের একই মাসে ছিল ৪ দশমিক ৪০ শতাংশ। গত নভেম্বরে ব্যয় হয়েছে ৮ হাজার ১৬৫ কোটি টাকা। গত বছরের নভেম্বরে এ পরিমাণ ছিল ১২ হাজার ২৩৬ কোটি টাকার বেশি।
আইএমইডির প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে সরকারি তহবিল থেকে ব্যয় হয়েছে ১৫ হাজার ৬১৪ কোটি টাকা, যা বরাদ্দের ১০ দশমিক ৮৪ শতাংশ। গত অর্থবছরের একই সময়ে ব্যয় হয়েছিল ১৯ হাজার ৪১১ কোটি টাকা, যা ছিল বরাদ্দের ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ।
- বিষয় :
- এডিপি
