আইসিসিবির মত
জাপানের সঙ্গে ইপিএ বাংলাদেশের জন্য সহায়ক হবে
শিল্প ও বাণিজ্য ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ এপ্রিল ২০২৬ | ০৭:৩৩
| প্রিন্ট সংস্করণ
বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে গত ফেব্রুয়ারিতে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) স্বাক্ষর একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এটি শুধু একটি সাধারণ বাণিজ্য চুক্তি নয় বরং ভবিষ্যতের জন্য একটি পরিকল্পনা, যা এলডিসি-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী ও আধুনিক করে তুলতে সহায়তা করবে। চুক্তির মূল সুবিধাগুলো খুবই সরাসরি এবং স্পষ্ট। ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স, বাংলাদেশ (আইসিসিবি) তাদের ত্রৈমাসিক বুলেটিনের সম্পাদকীয়তে এমন মত দিয়েছে।
আইসিসিবি মনে করে, শুল্ক সুবিধার বাইরে ইপিএ চুক্তি অনেক বিস্তৃত ও আধুনিক। এতে বাণিজ্যের বাইরে সেবা খাত, বিনিয়োগ, কাস্টমস প্রক্রিয়া সহজ করা, মেধাস্বত্ব এবং ডিজিটাল বাণিজ্য–এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। জাপান বাংলাদেশের জন্য ১২০টি সেবা খাত খুলে দিয়েছে, আর বাংলাদেশ জাপানের জন্য ৯৭টি খাত উন্মুক্ত করেছে। এর ফলে বাংলাদেশের দক্ষ কর্মীরা; বিশেষ করে আইটি, ইঞ্জিনিয়ারিং এবং কেয়ারগিভিং খাতে জাপানে কাজের নতুন সুযোগ পাবে। একই সঙ্গে এই চুক্তি বাংলাদেশে জাপানের বিনিয়োগ বাড়াতে উৎসাহ দেবে, বিশেষ করে উচ্চমূল্যের উৎপাদন খাত ও প্রযুক্তি খাতে। এতে নতুন প্রযুক্তি আসবে এবং শিল্প খাত আরও উন্নত হবে।
এতে বলা হয়, জাপান বাংলাদেশের ৭,৩৭৯টি পণ্যে শুল্কমুক্ত (ডিউটি ফ্রি) প্রবেশাধিকার দিয়েছে। এতে বাংলাদেশের মোট রপ্তানির প্রায় ৯৭% পণ্য অন্তর্ভুক্ত, যার মধ্যে সবচেয়ে বড় খাত তৈরি পোশাকও রয়েছে। সাধারণত এলডিসি থেকে বের হলে বিভিন্ন দেশে রপ্তানির ওপর শুল্ক আরোপ হয়। এই চুক্তির মাধ্যমে জাপানের মতো বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতিতে বাংলাদেশ আগের মতোই সহজ শর্তে পণ্য রপ্তানি করতে পারবে।
আইসিসিবির মতে, বাংলাদেশ-জাপান ইপিএ চুক্তিটি একটি শক্ত উদাহরণ তৈরি করেছে। এর ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আসিয়ান দেশগুলো এবং যুক্তরাজ্যের মতো বড় অর্থনীতির সঙ্গে আলোচনায় বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্ত হবে। সরকারের নীতিনির্ধারক এবং বেসরকারি খাত– দুপক্ষই এ চুক্তিকে ভবিষ্যতের অন্যান্য ইপিএ ও এফটিএর জন্য একটি মডেল হিসেবে দেখছে।
- বিষয় :
- জাপান
