জাতিসংঘের প্রতিবেদন
বিশ্বব্যাপী খাদ্যপণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী
চলতি বছর কমতে পারে গম উৎপাদন
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ মার্চ ২০২৬ | ০৮:৪৮ | আপডেট: ০৭ মার্চ ২০২৬ | ১১:৪৪
| প্রিন্ট সংস্করণ
টানা পাঁচ মাস নিম্নমুখী থাকার পর ফেব্রুয়ারিতে বৈশ্বিক খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে। গম, ভোজ্যতেল ও মাংসের দামের কারণে এ ঊর্ধ্বগতি বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)। গতকাল শুক্রবার সংস্থাটি এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
এফএও জানায়, মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংকট শুরুর আগের তথ্যের ভিত্তিতেই এই হিসাব করা হয়েছে। তবে চলমান সংঘাত বৈশ্বিক জাহাজ চলাচলসহ জ্বালানি তেল সরবরাহে ব্যাঘাত তৈরি করছে, আগামীতে দামের ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করবে।
এফএওর ফুড প্রাইস ইনডেক্স অনুযায়ী, জানুয়ারি মাসের তুলনায় খাদ্যপণ্যের দামের সূচক শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে।
ভোজ্যতেল
ভোজ্যতেলের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ভোজ্যতেলের দাম ফেব্রুয়ারিতে ৩ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। ২০২২ সালের জুনের পর এটি সর্বোচ্চ। আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা বাড়লেও উৎপাদন কমে যাওয়ায় এই দাম বেড়েছে। সয়াবিন তেলের দামও বেড়েছে। এফএও বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে জৈব জ্বালানি নীতির প্রভাবে এই দাম বেড়েছে। তবে আর্জেন্টিনা থেকে রপ্তানি বাড়ায় সূর্যমুখী তেলের দাম কিছুটা কমেছে।
চাল-গমের দাম
জানুয়ারির তুলনায় ফেব্রুয়ারিতে গমের দাম ১ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে। ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অঞ্চলে তীব্র শীত এবং রাশিয়া ও কৃষ্ণসাগর অঞ্চলে সরবরাহ ব্যবস্থায় জটিলতার কারণে বিশ্ববাজারে গমের দাম বেড়েছে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা বেশি থাকায় জানুয়ারির তুলনায় দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে বাসমতি চালের দাম।
মাংসের দামও ঊর্ধ্বমুখী
জানুয়ারির তুলনায় ফেব্রুয়ারিতে মাংসের দাম দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। ভেড়ার মাংসের দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। চীন ও যুক্তরাষ্ট্রে চাহিদা বাড়ায় গরুর মাংসের দামও বেড়েছে। পোলট্রি মাংসের দামও সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছে এফএও।
দুগ্ধজাত পণ্য ও চিনি
দুগ্ধজাত পণ্যের দাম জানুয়ারির তুলনায় ফেব্রুয়ারিতে ১ দশমিক ২ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে চিনির দাম কমেছে ৪ দশমিক ১ শতাংশ।
৪১ দেশে খাদ্য সহায়তা প্রয়োজন
এফএওর পৃথক একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বে বর্তমানে ৪১টি দেশে খাদ্য সহায়তা প্রয়োজন। এর বেশির ভাগই আফ্রিকার দেশ। সংঘাত, নিরাপত্তাহীনতা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে খাদ্য সংকটে ভুগছে এসব দেশ। ৪৪টি নিম্ন আয়ের দেশে ২০২৫-২৬ মৌসুমে শস্য উৎপাদন প্রায় ১ শতাংশ কমতে পারে।
