আবারও আগের বৃত্তে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান
তেহরানেও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয়
ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। ফাইল ছবি
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬ | ০৭:০৪ | আপডেট: ১৭ জুলাই ২০২৬ | ০৭:০৪
একদিকে স্থবির হয়ে পড়েছে আলোচনা, অন্যদিকে চলছে হামলা। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতি আবারও ফিরে গেছে আগের সমীকরণে। নতুন বাস্তবতায় গতকাল বৃহস্পতিবার ষষ্ঠ দিনের মতো সংঘাতে জড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান। গতকাল বৃহস্পতিবার উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে তেহরান। তারা আরও জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি ইরানের অবকাঠামোতে আঘাত হানেন, তাহলে তারা উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত সব মার্কিন অবকাঠামোতে হামলা চালাবে।
ওয়াশিংটন গত বুধবার রাতে ইরানের বিভিন্ন স্থানে আঘাত হানে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে নির্দোষ নাবিকদের প্রতি হুমকি কমাতে ইরানের সামরিক সক্ষমতা সীমিত করার অভিযানে নেমেছে তারা। বন্দর আব্বাস, কেশম দ্বীপ ও চাবাহারে হামলা হওয়ার কথা জানিয়েছে ইরান। রাজধানী তেহরানেও গতকাল আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছিল। ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, ইরানের কমান্ড সেন্টার, আকাশ প্রতিরক্ষা সাইট, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা এবং উপকূলীয় নজরদারি স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
এদিকে, পাল্টা জবাবে নতুন করে জর্ডান, কুয়েত ও বাহরাইনে হামলা চালিয়েছে ইরান। আলজাজিরার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে তথ্যটি। ইরানের সামরিক বাহিনী জানায়, কুয়েত ও বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের রাডার ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় আঘাত হেনেছে তারা। অন্যদিকে ইরানি গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, কুয়েতে আলি আল সালেম বিমানঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীর প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যাটারি ও জ্বালানি ট্যাঙ্ক লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। কুয়েত ইরানের ছোড়া চারটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ২১টি ড্রোন প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সর্বশেষ হামলার আগে ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ইরান আলোচনার টেবিলে না ফিরলে আরও হামলা হবে। তবে ইরানের দাবি, তাদের ওপর হামলা চালানোর মধ্য দিয়ে পূর্ববর্তী সব কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সংঘাত শুরু হয়েছে হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠাকে কেন্দ্র করে। ইরান চায় না এই হাতিয়ার হারাতে, যুক্তরাষ্ট্র চায় না এটিতে ইরানের অধিকার প্রতিষ্ঠা হতে দিতে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়নি।
ইরান যে হরমুজ প্রণালিতে অন্য কারও নিয়ন্ত্রণ চায় না, তা তারা আগে থেকেই স্পষ্টভাবে বলে আসছে। এমনকি ওই প্রণালিতে স্থাপন করা মাইন অপসারণেও পশ্চিমা কোনো দেশের সহায়তা নিতে চায়নি দেশটি। হরমুজে বাইরের কোনো হস্তক্ষেপকে নিজেদের সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকি হিসেবে দেখছে ইরান। গতকাল বৃহস্পতিবারও তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হরমুজ প্রণালি তাদের জন্য অলঙ্ঘনীয় সীমারেখা।
হরমুজে তেলের ট্যাঙ্কারে হামলা যুক্তরাষ্ট্রের
এদিকে, হরমুজ প্রণালি ইরান বন্ধ করে দিয়েছে গত শনিবার। পরে গত মঙ্গলবার থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী সেখানে ও ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ দিয়েছে। বিবিসির খবর বলছে, মার্কিন অবরোধ না মেনে একটি তেলের ট্যাঙ্কার ইরানের বন্দরে ভেড়ার চেষ্টা করায় হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী। গত বুধবার হামলার তথ্যটি নিশ্চিত করে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড। তারা জানায়, বেলমা নামে জাহাজটি একাধিক সতর্কতা উপেক্ষা করেছিল এবং খার্গ দ্বীপের তেল টার্মিনালের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল।
পাকিস্তানের অনুরোধ
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গতকাল বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে সংঘাত অবসানের ও কারিগরি আলোচনায় ফিরে আসার অনুরোধ জানিয়েছে। তারা আরও উল্লেখ করেছে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া শান্তিচুক্তি চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে। গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাইব তথ্যগুলো তুলে ধরেন। তিনি নিশ্চিত করেন, পাকিস্তান সব পক্ষকে সংঘাত নিরসনে উৎসাহিত করা অব্যাহত রাখবে।
- বিষয় :
- ইরান
- হামলা
- যুক্তরাষ্ট্র