ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গাজায় সাধারণ লাইটারের তীব্র সংকট, একটির দাম ৪ হাজার টাকা

গাজায় সাধারণ লাইটারের তীব্র সংকট, একটির দাম ৪ হাজার টাকা
×

একটি লাইটার হাতে গাজা সিটির বাসিন্দা রাবাব দেইফাল্লাহ। ছবি: আল জাজিরার সৌজন্যে

আল জাজিরা

প্রকাশ: ১৬ আগস্ট ২০২৬ | ১৮:১০ | আপডেট: ১৬ আগস্ট ২০২৬ | ১৮:১৪

একটি তাঁবুর ভেতরে গিয়ে গাজার বাসিন্দা রাবাব দেইফাল্লাহর (৪৬) হাতে পুরোনো লাইটার দেখা গেল। তিনি বারবার সেটিতে চাপ দিয়ে চুলার কাঠে আগুন ধরানোর চেষ্টা করছিলেন। পাঁচ সন্তানের এই জননীর কাছে লাইটারটি বর্তমানে জীবনধারণের অন্যতম অবলম্বন।

ইসরায়েলের হামলা শুরুর (২০২৩) পর থেকে গাজা উপত্যকার বাসিন্দাদের জন্য নতুন লাইটার কেনা প্রায় অসম্ভব হয়ে গেছে। ফলে পুরোনো লাইটারটিই ছেলেকে দিয়ে কয়েক দফায় মেরামত করিয়েছেন রাবাব। তাঁর কাছে রান্নার লাকড়িও এখন দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য অনুষঙ্গ। গ্যাসের মারাত্মক সংকট ও জ্বালানির আকাশচুম্বী দামের কারণে এই লাকড়ি জ্বালিয়ে তিনি রুটি বানান, সন্তানদের জন্য পানি গরম করেন।

আল জাজিরাকে রাবাব বলেন, খাবার খেয়ে টিকে থাকাটা এখন পুরোপুরি আগুনের ওপর নির্ভরশীল। সেই আগুন জ্বালানোর প্রথম ধাপ হলো একটি লাইটার। এটি এখন গাজায় সবচেয়ে দুষ্প্রাপ্য বস্তুগুলোর একটি।

যুদ্ধ শুরুর আগে বাজারে লাইটার বেশ সহজলভ্য ছিল। সে সময় এক শেকেল দিয়ে (০.৩৩ ডলার বা ৪০ টাকা) রাবাব তিনটি করে লাইটার কিনতে পারতেন। বর্তমানে একটি নতুন লাইটার কিনতে গুণতে হচ্ছে ২৭ থেকে ৩৩ ডলার (৩,৩১০ থেকে ৪,০৪০ টাকা) পর্যন্ত। এমনকি নিজের পুরোনো লাইটারটি মেরামত করতে রাবাবের খরচ হয়েছিল ১২ ডলার (১,৪৭১ টাকা)। 

রাবাব বলেন, ‘আমি এই টাকায় লাইটার কিনব, নাকি ময়দা কিনব?’

গাজার ফিলিস্তিনিরা বর্তমানে তাদের কাছে থাকা সীমিত অর্থ শুধু খাবারের পেছনে ব্যয় করতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে একটিমাত্র লাইটারও কয়েকটি তাঁবুতে থাকা পরিবারগুলো ঘুরে-ফিরে ব্যবহার করে। আগুন জ্বালাতে না পারলে পরিবারগুলোকে ঠান্ডা খাবার খেতে হয়, নয়তো প্রতিবেশীদের কাছে থেকে ধার নেওয়ার অপেক্ষা করতে হয়।

অনেক সময় প্রতিবেশীর জ্বলন্ত চুলা থেকে আগুন আনতে সন্তানদের হাতে কাঠের টুকরা তুলে দেন রাবাব। কখনও প্রতিবেশীর চুলাতে খাবার গরম বা রান্না করার জন্য অনুরোধ করেন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছানোয় নিজের কাছে থাকা পুরোনো লাইটারটি সতর্কতার সঙ্গে আগলে রাখেন রাবাব।  

আরেকটি সংগ্রাম
রাবাবের তাঁবুর কাছাকাছি এলাকাতে একই সংকটে ভুগছেন ৪৩ বছর বয়সী হাসনা মনসুর। তবে তাঁর সংগ্রামের ধরনটি একটু আলাদা।

জাবালিয়া শরণার্থী শিবির থেকে বাস্তুচ্যুত হওয়া হাসনা এখন মাটির তৈরি একটি চুলার পাশে বসে কাজ করেন। ছয় সন্তানের খরচ চালাতে নিজে রুটি বানিয়ে বিক্রি শুরু করেছেন।

একটি নতুন লাইটার কেনার সামর্থ্য না থাকায় হাসনাও তাঁর পুরোনো লাইটারটি বারবার মেরামত করে ব্যবহার করেন। যখন এটি জ্বালানো যায় না, তখন মেয়েকে পাঠান আগুন খুঁজতে। এমনও দিন গেছে যে, আগুন খুঁজতেই সকাল ১০টা পার হয়েছে।

নিষেধাজ্ঞার কারণে সংকট
গাজায় ইসরায়েলের অব্যাহত অবরোধের কারণেই মূলত লাইটারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। জাতিসংঘের মানবিক সমন্বয় সংস্থা (ওসিএইচএ) জানিয়েছে, পরিবহনের ওপর নানা ধরনের নিষেধাজ্ঞা এবং সীমান্ত ক্রসিংগুলো বন্ধ থাকায় নিত্যপণ্যের মারাত্মক ঘাটতি দেখা দিয়েছে। দামও আকাশচুম্বী। 

ওসিএইচএ জানায়, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ যেসব পণ্যকে দ্বিমুখী ব্যবহারযোগ্য (সামরিক ও বেসামরিক উভয়ক্ষেত্রে) হিসেবে চিহ্নিত করেছে, সেগুলো গাজায় প্রবেশের অনুমোদন পাওয়া অত্যন্ত কঠিন।

গাজা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি গত জুনে এক বিবৃতি দিয়েছিল। তাতে বলা হয়, সীমান্ত ক্রসিংগুলোর ওপর বিধিনিষেধ এবং বাণিজ্যিক পণ্য আমদানির জটিল প্রক্রিয়ার কারণে নিত্যপণ্যের স্বাভাবিক সরবরাহ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

আরও পড়ুন

×