বিজেপির অভিযোগ
ককরোচ পার্টির সঙ্গে বিদেশি অর্থ ও পাকিস্তান যোগ রয়েছে
ছবি-সংগৃহীত
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০২৬ | ০৭:২৪ | আপডেট: ০৬ নভেম্বর ২০২৬ | ০৭:৩৮
| প্রিন্ট সংস্করণ
ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিরুদ্ধে বিদেশ থেকে অর্থ পাওয়া এবং পাকিস্তানের সঙ্গে যোগসূত্র থাকার গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। গত বুধবার বেঙ্গালুরুতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ভারতের জিতেন্দ্র সিং এই অভিযোগ তোলেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
জিতেন্দ্র সিংয়ের দাবি, বিদেশ থেকে বেআইনি পথে অর্থ এনে ভারতে অশান্তি তৈরির চেষ্টা করছেন সিজেপির সঙ্গে জড়িত কয়েকজন। তবে বিরোধী দল কংগ্রেসের পাল্টা দাবি, তেমন যদি হয় প্রমাণ দেখাক সরকার। দলের মুখপাত্রদের কথায়, সরকারের বিরুদ্ধে কথা বললেই এমন কাহিনি খাড়া করতে চায় সরকার।
জিতেন্দ্র বলছেন, ককরোচ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং তাদের প্রধান কৌশলপ্রণেতা আশুতোষ রাঙ্কার সঙ্গে বিদেশি অর্থদাতাদের যোগাযোগের অকাট্য প্রমাণ রয়েছে। অননুমোদিত উৎস এবং দেশ-বিদেশের ভারতবিরোধী বিভিন্ন সংগঠন তাদের পেছনে অর্থ ঢালছে। বিদেশি তহবিলে চলা কিছু এনজিও এবং ‘ডিপ স্টেট’ চক্রান্তকারীরা এই ন্যারেটিভ তৈরি করছে। তিনি অভিযোগ করেন, অভিজিৎ দীপকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক দাতাদের কাছ থেকে অর্থ নিচ্ছেন। আর আশুতোষ রাঙ্কাকে সরাসরি টাকা দিচ্ছেন পাকিস্তানি রাজনীতিকরা।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিকে বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র তুহিন এ সিনহা বলেন, গত এক মাসে সিজেপির কর্মসূচির লক্ষ্য ছিল উৎসবের মৌসুমে রাজধানীতে বিশৃঙ্খলা তৈরি করা। তিনি বলেন, প্রতিবাদের আড়ালে পরিকল্পিতভাবে অরাজকতার পরিবেশ তৈরির চেষ্টা হয়েছে। গত এক মাস ধরে সিজেপির কৌশল ছিল সমাজে বিদ্রোহ তৈরি করা। রাজধানীতে অরাজকতা সৃষ্টি করা।
যন্তরমন্তরের ঘটনায় সৌরভ ও রাঙ্কাকে তলব
রাজনৈতিক এই উত্তেজনার মধ্যেই সিজেপির দুই মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে গতকাল বৃহস্পতিবার দীর্ঘ সময় জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ। দিল্লির যন্তরমন্তরে অনুমতি ছাড়া প্রবেশ ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের অভিযোগে হওয়া দুটি এফআইআরের ভিত্তিতে দিল্লির পুলিশ রাজৌরি গার্ডেন অফিসে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে। এর আগে গত ২২ অক্টোবর তাদের হাজিরা দেওয়ার নোটিশ পাঠানো হলেও তারা সময় চেয়েছিলেন।
বিজেপির দাবি উড়িয়ে দিল বিরোধীরা
কেন্দ্রীয় সরকারের এই বিদেশি ষড়যন্ত্রের অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে বিরোধী দলগুলো। বেঙ্গালুরুতে কর্ণাটকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিয়ঙ্ক খাড়গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং গোয়েন্দা সংস্থা আইবি ও ‘র’-এর সক্ষমতা নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেন। তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ বিজেপি নেতারা দাবি করছেন কংগ্রেসের পেছনে বিদেশি অর্থায়ন রয়েছে। অথচ তারা এক টুকরো কাগজ বা প্রমাণও হাজির করতে পারছেন না। এতেই অমিত শাহ, জয়শঙ্কর এবং ‘র’-এর দক্ষতার দৌড় বোঝা যায়।
সিইসির বিরুদ্ধে ঘুষের তদন্ত শুরু হচ্ছে
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ঘুষ মামলার তদন্ত শুরুর নির্দেশ দিল কেরল সরকার। আইনজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করার পর কংগ্রেসশাসিত কেরলের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ চেন্নিথালা গতকাল বৃহস্পতিবার ওই নির্দেশ দেন। জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ২০০৬ সালে কেরল সরকারের পূর্ত সচিব থাকাকালে এক সড়ক প্রকল্পের বকেয়া বিল মেটানোর বিনিময়ে তিনি দুই কোটি রুপি ঘুষ দাবি করেছিলেন। অভিযোগ, যে ব্যক্তির কাছে ঘুষ চাওয়া হয়েছিল, তিনি ছিলেন মালয়েশিয়ার এক সংস্থার কর্তা। তিনি আত্মহত্যা করেছিলেন। সুইসাইড নোটে ঘুষ চাওয়ার জন্য তিনি জ্ঞানেশের নামও উল্লেখ করেছিলেন। বলেছিলেন, ঘুষ না দেওয়া হলে পূর্ত দপ্তর টাকা আটকে রাখবে বলেছিল।
- বিষয় :
- বিজেপি