ঢাকা শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬

ফ্রান্সে ফের বিক্ষোভের ডাক

ফ্রান্সে ফের বিক্ষোভের ডাক
×
×

ছবি-সংগৃহীত

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০২৬ | ০৭:৩৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

ফ্রান্সে আবারও নতুন করে বিক্ষোভ ও ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন শ্রমিক সংগঠন ও শিক্ষার্থীরা। জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়, মজুরি, জনসেবা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নত পরিবেশের দাবিতে গতকাল বৃহস্পতিবার দেশটির বিভিন্ন শহরে বড় ধরনের বিক্ষোভের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এতে প্রায় সাত লাখ ৮০ হাজার মানুষ অংশ নিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেশজুড়ে ৭০ হাজার পুলিশ ও জেন্ডারম (আধাসামরিক পুলিশ) মোতায়েন করেছে কর্তৃপক্ষ। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ফ্রান্সের বামপন্থি শ্রমিক সংগঠন সিজিটিসহ বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়ন এ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে। শিক্ষার্থী সংগঠনগুলোও এতে সমর্থন জানিয়েছে। ইতোমধ্যে প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে স্কুল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অবরোধের ঘটনাও ঘটেছে। কোথাও কোথাও শিক্ষার্থীরা রাস্তায় ময়লার বিন রেখে যান চলাচলে বাধা সৃষ্টি করেছেন।

গত কয়েক সপ্তাহের অস্থিরতার পর নতুন এই কর্মসূচি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর সরকারের জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে গত ১৭ অক্টোবরের সহিংস বিক্ষোভের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে সরকার সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।

রয়টার্স জানায়, সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় মাখোঁ নিরাপত্তাবিষয়ক বৈঠক করেছেন। সরকার এবার বিক্ষোভ যাতে ব্যাপক সহিংসতায় রূপ না নেয়, সে বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।

ফরাসি সম্প্রচারমাধ্যম বিএফএমটিভির বরাতে জানা গেছে, বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত আন্তঃইউনিয়ন জোটের পূর্বাভাস অনুযায়ী, প্যারিসের বাইরে পাঁচ থেকে সাত লাখ মানুষ বিক্ষোভে অংশ নিতে পারেন। আর রাজধানী প্যারিসে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ৪০ হাজার থেকে ৮০ হাজার হতে পারে।

বিক্ষোভে শ্রমিক, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলনের কর্মীদের পাশাপাশি মাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের প্রধান দাবি, বেতন বৃদ্ধি এবং মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ। গত সেপ্টেম্বরে শিক্ষার্থীদের এই বিক্ষোভ আন্দোলন শুরু হয়।

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ বুধবার জানিয়েছেন, বিক্ষোভ ঘিরে নিরাপত্তাব্যবস্থা গত ৩১ অক্টোবরের বিক্ষোভের সময় নেওয়া ব্যবস্থার মতোই রাখা হবে। নিরাপত্তার দায়িত্বে ২৬টি সাঁজোয়া যান, প্রায় ১৫টি জলকামান, হেলিকপ্টার ও ড্রোন মোতায়েন করা হচ্ছে। পাশাপাশি পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট বিআরআই, রেইড  এবং জিআইজিএনের সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করবেন। বিক্ষোভকারীদের জন্য যতটা সম্ভব নিরাপদ চলাচলের পথ নিশ্চিত করাই এ নিরাপত্তাব্যবস্থার মূল লক্ষ্য বলেন তিনি। একই সঙ্গে শহরের কেন্দ্রস্থলসহ স্পর্শকাতর এলাকাগুলো এড়িয়ে চলার ব্যবস্থা করা হবে।

এদিকে দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত বিদ্যুৎ কোম্পানি ইডিএফ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবারের ধর্মঘটে জ্বালানি খাতের কর্মীদেরও অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে বিভিন্ন সরকারি সেবা ও গুরুত্বপূর্ণ খাতে কর্মবিরতির প্রভাব পড়তে পারে।

আগামী পাঁচ মাসের মধ্যে ফ্রান্সে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এমন সময়ে নতুন করে শ্রমিক অসন্তোষ ও জনবিক্ষোভের মুখে পড়ায় মাখোঁ সরকারের রাজনৈতিক চাপ আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন

×