ইরান যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন
ছবি-সংগৃহীত
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০২৬ | ০৭:২৯ | আপডেট: ০৬ নভেম্বর ২০২৬ | ০৭:৩৮
| প্রিন্ট সংস্করণ
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় বিজয়ের পর থেকেই প্রশ্ন উঠছে ইরান যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নিয়ে। আবারও যুদ্ধ শুরু করার আশঙ্কা বেড়েছে, নাকি কমেছে? মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ধারণা করা হচ্ছিল, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে নতুন বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরুর দ্বারপ্রান্তে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন কূটনীতিকদের পরিবারের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। একই সময়ে ওই অঞ্চলে অতিরিক্ত সামরিক সরঞ্জাম ও বাহিনী পাঠায় যুক্তরাষ্ট্র। নতুন করে ভয়াবহ সংঘাত শুরু হতে পারে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন আরব নেতারাও।
তবে সেই হামলা শেষ পর্যন্ত হয়নি; বরং মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের কাছে বড় ব্যবধানে হারের জন্য এখন ইরান যুদ্ধ, এমনকি ইসরায়েলকেও দায়ী করতে শুরু করেছেন রিপাবলিকানরা। গত বুধবার মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সরাসরি বলেন, ‘আমরা হেরেছি যুদ্ধের কারণে। প্রেসিডেন্ট নিজেই বুধবার এ কথা বলেছেন।’ দলের বড় পরাজয়ের জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককেও দায়ী করেন তিনি। এদিকে, গত বুধবার তেলের দাম ৯ শতাংশ কমে যাওয়ার ঘটনা বাজারের প্রত্যাশায় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। আমেনা স্ট্র্যাটেজিসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মেরিসা খুরমা মিডল ইস্ট আইকে বলেন, নির্বাচনের ফলাফল ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মহল ও কংগ্রেসকে যুদ্ধ আবার শুরু করা থেকে তাঁকে বিরত রাখার সুযোগ তৈরি করতে পারে।
ইরান ও ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আলোচনা
আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ফোনে কথা বলেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ও ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি। ইরান সরকার এ তথ্য জানিয়েছে।
হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে উত্তেজনা বাড়ার মধ্যেই তাদের এই আলোচনা হলো। ওমানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী উত্তেজনা প্রশমনের পর্যায় পেরিয়ে বাস্তবভিত্তিক সমঝোতার মাধ্যমে দীর্ঘস্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন।
হরমুজে জাহাজে আগুন
ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত নৌপথ। উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস রপ্তানি হয় এই পথ দিয়ে। এদিকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, ‘অননুমোদিত পথে’ চলাচলের চেষ্টা করার পর হরমুজ প্রণালিতে দুটি তেলবাহী জাহাজ ও একটি টাগবোটে আগুন ধরে যায়।
তেহরানে ট্রাম্পের পোস্টারে আগুন
মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির বড় পরাজয়ের পর তেহরানের কেন্দ্রীয় এনগেলাব স্কয়ারে এক সমাবেশে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ও তাঁর মিত্রদের বিশাল একটি পোস্টারে আগুন ধরিয়ে দেন ইরানিরা। পোস্টারটিতে ট্রাম্প ছাড়াও তাঁর ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং নেতানিয়াহুর ছবি ছিল।