কবিতা
অলংকরণ :: ধ্রুব এষ
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬ | ০৮:০২
| প্রিন্ট সংস্করণ
ঘাসরং
শিহাব শাহরিয়ার
চোখ ও চুম্বন আড়ালে রেখে
ফিরে গেছ অন্ধকার গায়ে মেখে
তোমার চুম্বনগুলো শুষে নিচ্ছে
আখাউড়ার সন্ধ্যাঘন জলখুঁটিরা
পেছন থেকে তাকাই আমি–
দাঁড়িয়ে থাকি কুইবেক থেকে দূরে
কিংবা ফোর্থস্ট্রিটে একা... তাকাই, দেখি
তোমার লালমনিরহাট মরে গেছে কুয়াশায়
ঈশ্বর চেয়েছেন আমি যেন–
গোপন রাখি তাকানোর রহস্য
রহস্যরা মাছির মতো ওড়ে এবং ওড়ে
কখনও তোমার প্রৌঢ় ঠোঁটের কোণে...
নিঃশ্বাস নাও এবং হাতে রাখো ঘাসরং
আমি অটোয়া নদীর জল দিয়ে দুঃখ মুছেছি
অমলিন-অপরাজিত
সব্যসাচী সেনগুপ্ত
কুয়াশারাতের সন্ধ্যাকাশে বিকশিত থোকা থোকা
হলুদ বিকেলের গান, কাঠচাঁপার আধেক ছায়াবিম্বিত আলোর
কোমল সম্পাতে গলে পড়ছে ফুরোনো মোমের নিঃশেষ নরম
আলোর রেশটুকু। কবেকার ধূসর পাতায় গেঁথে থাকা ধূলোভরা
নিহিত দিনের কথা, প্রাচীন চিঠির কয়েকটি লাইন তার মলিন
অস্পষ্ট অক্ষরের শুকনো বিবর্ণ কালিতে মাখা, যেন উস্কে দেওয়া
হারানো মুহূর্তগুলোর পিছুটান-জ্যোৎস্নায় ভেসে আসা কোনো
রক্তিম হৃদয়ের গোলাপ, অমলিন-অপরাজিত, কোনো
প্রতিবিম্বিত আলো-আঁধারের খেলার স্পর্শের
মহিমায় সমাহৃত...
ফুল কিংবা পাখির ঈশ্বর
শাখাওয়াত তানভীর
বংশপরম্পরায় উত্তরাধিকারসূত্রে
ঈশ্বরকে বুকে নিয়ে অর্থহীন জন্ম আমার!
জন্মের গূঢ় অর্থের খোঁজে বের হয়ে
প্রকৃতিসূত্রে অতঃপর জানলাম–
সারাদিন সৌরভ ছড়িয়ে সন্ধ্যায়
যে ফুলটি ঝরে গেল অবহেলায়
তার সুগন্ধি বুকেও ঈশ্বর ছিলেন!
অরণ্য থেকে অরণ্যে আলোর গান গেয়ে
যে পাখিটি ঠোঁটে অন্ধকার নিয়ে নীড়ে ফিরে
তার সুরেলা বুকেও ঈশ্বর ছিলেন!
খিল এঁটে রাখা সনাতন বুকে
পর্যাপ্ত জায়গা ছিল না বিধায়
ফুলের ঈশ্বর কিংবা পাখির ঈশ্বর
আমার অন্তরে প্রবেশ করল না!
নন-স্টপ
জুনান নাশিত
এত অন্ধকার! পিচ্ছিল পথ!
নিড়ানি ছিল না হাতে
তাই আগাছা পাহাড়সমান
তর্ক করো না, এগোতে দাও
মেঘের ডানায় দেখো সূর্যাস্তের মুখ
যদি পারো হাত ধরো
উষ্ণ করো শীতল দু’হাত
শোকের শেষ বিন্দুতে
চৌকো আলোর ঘেরে
অপ্রাপ্তির হিসেব লিখে রেখো না আর
বরং সমুদ্র ছড়াও নিঃশ্বাসের প্রতি বাঁকে।
পা দুটো রক্তাক্ত? তাতে কী?
থেমে যাবে, তাই বলে?
ছায়ারা ডাকুক যত খুশি
অমাবস্যা মিশে যাবে মধুচন্দ্রিমায়।
বলিও নদীরে
দ্বিত্ব শুভ্রা
ঘন বর্ষায় দালানের ঝরিতেছে চুনকাম। প্রলেপের নিচে ধরে রাখা মেঘ
এতদিনে ঝরিতেছে, বারান্দায় কামিনীর সাথে। বিষাদের গন্ধ নাই, আগুনে
পানিতে জন্ম যার, হঠাৎ দপিয়া উঠে মুহূর্তে চিড়িয়া ফেলে লম্বা আকাশ।
পুড়ে পুড়ে একা তালগাছ দমিয়া আছে কতদিন, তারও বাকল আজ গেছে
খসিয়া। সকলেই ক্রন্দন করে, করিতেছে, উত্তরের দিকে গাঢ় করে চাহিয়া।
টপটপ জল, প্রেমের কান্নার মতো স্বচ্ছ্ব, অবিকল। জানালার ওপাশে তিরতির
শীর্ণ শাখার ধারা চওড়া হয় নিঃশব্দে। বছর বাড়িয়া হইয়াছে যুগ, এখনও তার
গুঙিয়া ওঠার নির্দেশ নাই। ফাঁপিয়া ফাঁপিয়া বাড়িয়াছে বেনেজল। টোপাপানা
ঢাকিয়াছে, ঢাকিয়াছে হিজলে, নিজেরে না জানি রাখিয়াছে কতকিছুতে ঢাকিয়া!
জোয়ারের জলে ভাসিয়া আছে যে কচুরির ফুল, তারে বুকে তুলিবার কেহ নাই।
বারান্দায় দু খানা কাপড়, জলে মুচড়াইয়া আহা তার কি হইয়াছে চেহারা!
কোথাও কাঁপিয়া ওঠে চড়চড় শব্দে, সেও অমন তবে! অবদমিত আবাসনে
কঙ্কালের আদল, কাদা মাটি খুঁড়ে ফুটাইয়া চলিতেছে বেলি ফুল।
- বিষয় :
- কবিতা
