ট্রাফিক সিগন্যাল মানা নাগরিক দায়িত্ব
ফারিহা জামান নাবিলা
প্রকাশ: ২৯ নভেম্বর ২০২৫ | ০৬:৪৩
| প্রিন্ট সংস্করণ
ঢাকার ট্রাফিক পরিস্থিতি শুধু যানজট নয়, নিরাপত্তাহীনতারও বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিন খবর শোনা যায়– সিগন্যাল ভেঙে দ্রুত যাওয়ার চেষ্টায় দুর্ঘটনা, পথচারী আহত হওয়া বা মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ। ট্রাফিক সিগন্যাল কেন আছে, কীভাবে কাজ করে, কেন মানতে হবে– এসব জানা থাকা সত্ত্বেও অনেকে নিয়ম উপেক্ষা করেন। ফলে প্রশ্ন ওঠে– এটি কি মানুষের আচরণগত সমস্যা, নাকি সিস্টেমের দুর্বলতার প্রতিফলন?
ঢাকায় সড়ক দুর্ঘটনার প্রায় ৩৬ শতাংশ ঘটে ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্যের কারণে। বাংলাদেশি চালকদের ৬৫ শতাংশ স্বীকার করেছেন, তারা অন্তত একবার ইচ্ছাকৃত সিগন্যাল ভেঙেছেন। কারণ রাস্তা ফাঁকা ছিল বা তাড়াহুড়া, যা আচরণগত সমস্যার বড় উদাহরণ। মানুষের ধৈর্যশক্তি অনেক কম। ফলে তারা ট্রাফিক সিগন্যাল মানতে চায় না।
আচরণগত সংকট, অসহিষ্ণুতা ও ভুল মানসিকতা ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করার পেছনে বিশেষ কারণ হিসেবে কাজ করে। অনেক চালক মনে করেন, কিছুক্ষণ দাঁড়ালে সময় নষ্ট হয়। এই ভুল বিশ্বাস থেকেই সিগন্যাল ভাঙা তাদের কাছে স্বাভাবিক হয়ে গেছে। তাড়াহুড়া, অধৈর্য এবং নিজের সুবিধাকেই বড় ভেবে নেওয়ার মনোভাব সমস্যা আরও গভীর করেছে।
ট্রাফিক সিস্টেমে ক্যামেরা নজরদারি, স্বয়ংক্রিয় জরিমানা বা কঠোর মনিটরিং নেই। ফলে সিগন্যাল ভাঙলেও ধরা পড়ার ভয় কম। এ সুবিধার মানুষ অপব্যবহার করে। ঢাকার তীব্র যানজট মানুষকে ক্লান্ত, বিরক্ত ও অস্থির করে তোলে। ফলে সামান্য সুযোগ পেলেই নিয়ম ভেঙে এগিয়ে যাওয়াকে তারা বুদ্ধিমানের কাজ মনে করে। চালকরা নিয়ম মানতে গেলেও পথচারী বা মোটরবাইক রাইডাররা হঠাৎ রাস্তা পারাপার বা সিগন্যাল ভাঙায় পুরো সিস্টেম বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ে। এতে নিয়ম মানা কঠিন হয়ে যায়। জনগণের মাঝে ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলতে কিছু প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
সিগন্যাল অমান্য করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে গাড়ির নম্বর স্ক্যান করে জরিমানা– এটি বিশ্বের অনেক দেশে কাজ করেছে। বাংলাদেশেও তা চালু করা গেলে নিয়ম ভঙ্গ অনেক কমে যাবে। সিগন্যালের আধুনিকায়ন ও সঠিক টাইমিংয়ের ব্যবস্থা করা। সিগন্যাল সমন্বিত ও টাইমিং ঠিক এবং নষ্ট সিগন্যাল দ্রুত মেরামত করতে হবে। বিভ্রান্তি কমলে চালকরাও নিয়ম মানবেন।
ট্রাফিক পুলিশের উপস্থিতি, ড্রোন মনিটরিং, মোবাইল কোর্ট– সবকিছু নিয়মিত হলে চালকরা সাহস পাবেন না নিয়ম ভাঙার। স্কুল-কলেজে ট্রাফিক সচেতনতা, চালকদের প্রশিক্ষণ, গণমাধ্যমে নিয়ম মানার গুরুত্ব তুলে ধরা মানুষের মানসিকতায় পরিবর্তন আনে। পথচারী চলাচল নিয়মতান্ত্রিক করলে চালকদের জন্য সিগন্যাল মানা সহজ হবে।
ফারিহা জামান নাবিলা: শিক্ষার্থী, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা
বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
farihazaman524@gmail
- বিষয় :
- ট্রাফিক
