ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ক্রাচে ভর করেও জীবন জয়ের গল্প

ক্রাচে ভর করেও জীবন জয়ের গল্প
×

নিজের কারখানায় সাইফুল আলম মারুফ [ডানে]

সাজ্জাদ রানা

প্রকাশ: ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৭:১৪ | আপডেট: ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ | ১৯:৩৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

সাইফুল আলম মারুফের জীবনের গল্প অনেকটা সিনেমার মতোই। তাঁর বাড়ি কুষ্টিয়া শহরের চৌড়হাস এলাকায়। বিদেশি একটি কোম্পানিতে কান্ট্রি ম্যানেজার হিসেবেও চাকরি করতেন। তবে ২০০৬ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর জখম হন। পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েন। চিকিৎসকরা বলেছিলেন তিনি আর চলাফেরা করতে পারবেন না। বিছানায় কাটাতে হবে বাকি জীবন। এ কথা শুনে হতাশ হয়ে পড়েন প্রকৌশলী সাইফুল আলম মারুফ। চাকরিও চলে যায়। বিছানায় শুয়ে শুয়ে ভাবতে থাকেন কী করে বাকি জীবন কাটাবেন।

মনোবল চাঙ্গা করতে ফিজিওথেরাপি নেওয়ার পাশাপাশি ব্যায়াম ও সাঁতার কাটা শুরু করেন। কিছুদিন ক্রাচে ভর দিয়ে এক পা, দুই পা করে ঘরেই হাঁটাহাঁটি শুরু করেন। এরপর ঘর ছেড়ে বাইরে বের হয়ে আসেন। শারীরিক অক্ষমতা আর কষ্ট সহ্য করে ক্রাচে ভর দিয়ে চাকরি খোঁজা শুরু করেন। এ অবস্থায় চাকরি না পেয়ে নিজের মেধা ও বুদ্ধি খাটিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পরামর্শক হিসেবে কাজ করেন। এ সময় চাল খাতের আধুনিক যন্ত্রপাতি নিয়ে কাজ শুরু করেন। পাশাপাশি চামড়া ও চাল খাতের কাজ শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে তাঁর কালার সর্টিং মেশিন ব্যাপক সাড়া ফেলে সারাদেশে।

এখন তিনি ক্রাচে ভর দিয়ে হাঁটছেনই না, অন্যদের হাঁটার পথও গড়ে দিচ্ছেন। কুষ্টিয়া শহরের বটতৈল এলাকায় পাঁচ বিঘা জমির ওপর গড়ে তুলেছেন কারখানা। নাম গ্লোবাল সলিউশন মেশিনারিজ (জিএসএম)। সেখানে দেশের কৃষক ও চালকল মালিকদের জন্য তৈরি হয় নানা আধুনিক যন্ত্রপাতি। দেশ-বিদেশ থেকে এক্সপার্টরা আসেন এখানকার কর্মযজ্ঞ দেখতে। সরকারি নানা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী-কর্মী-গবেষকও আসেন হাতে-কলমে কাজ শিখতে।  

সাইফুল আলম মারুফ বলেন, ‘আমি মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে এসেছি। সৃষ্টিকর্তা আমাকে দ্বিতীয় জীবন দান করেছেন। যেখানে আমার বিছানায় থাকার কথা, সেখানে আমি দেশ-বিদেশ চষে বেড়াই। আমার প্রতিষ্ঠানে অটো রাইস মিলগুলোর দামি সব যন্ত্রপাতি তৈরি হয়। আগে যেসব পার্টস চীন বা ভারত থেকে আনা হতো, এখন তা আমার কারখানায় তৈরি হচ্ছে। দামেও অনেক কম। এ পর্যন্ত ৬০০ অটোমিলে আমার তৈরি কালার সর্টিং মেশিন স্থাপন করা হয়েছে।’ 

প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, অটো চালকলের ৯০ শতাংশ যন্ত্রপাতি তৈরি হয় এ কারখানায়। এমনকি বিভিন্ন কলকারখানার গাড়ির নানা যন্ত্রাংশ উৎপাদন হচ্ছে এখানে। দেশের অন্তত ৩০ জেলায় বাজারজাত করা হচ্ছে এসব যন্ত্রপাতি। সাইফুল আলম স্বীকৃতি পেয়েছেন দেশের নানা প্রতিষ্ঠান থেকে। সরকার থেকেও তাঁকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। কুষ্টিয়া চেম্বারের নেতৃত্ব দেওয়া ছাড়াও সামাজিক নানা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নিজেকে জড়িয়ে রেখেছেন।

আরও পড়ুন

×