ঢাকা শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আনিসুল ও সালমানের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলেন শ্রমিক দলের নেতা

আনিসুল ও সালমানের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলেন শ্রমিক দলের নেতা
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬ | ০২:৩৯

জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থান চলাকালে কারফিউ দিয়ে গণহত্যায় উস্কানিসহ মানবতাবিরোধী অপরাধে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বিরুদ্ধে সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন ঢাকার পল্লবী থানা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক আল আমিন হোসেন। 

গতকাল মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর সদস্য বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর একক বেঞ্চে দেওয়া জবানবন্দিতে সেদিনের ভয়াবহ ঘটনার বর্ণনা দেন আল আমিন। বর্তমানে গার্মেন্টস ব্যবসার পাশাপাশি তিনি রাজনীতি করছেন। ২০২৪ সালে একই শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন তিনি। 

জবানবন্দিতে এই শ্রমিক দল নেতা বলেন, ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত আমরা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নিই। এরই ধারাবাহিকতায় ১৮ জুলাই মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় পপুলার ডায়াগনস্টিক হাসপাতালের সামনে আমরা যাই। রাত ১০টার পর আমাদের ওপর গুলি ছোড়েন আট-দশজন পুলিশ সদস্য। তাদের মাঝখানে তিন-চারজন সাদা পোশাকধারী লোককেও ঢুকতে দেখি। পুলিশের ছোড়া একটি গুলি আন্দোলনরত রাব্বানী হোটেলের কর্মচারী সিয়াম সর্দারের বাঁ চোখে বিদ্ধ হয়। গুলিটি তাঁর মাথার পেছন থেকে বেরিয়ে আমার মাথার সামনে এসে লাগে। এতে আমার মাথায় ক্ষত হলে মাটিতে পড়ে যাই।

আল আমিন বলেন, এ অবস্থা দেখে আশপাশের লোকজন এসে আমাকে মাটি থেকে উঠিয়ে পানি ঢালেন। একপর্যায়ে জ্ঞান ফিরলে দেখি সিয়ামের মাথার মগজ ও রক্ত আমার টি-শার্টে লেগে আছে। তখন লোকজন মিলে সিয়ামকে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠালে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। 

জবানবন্দিতে তিনি আরও উল্লেখ করেন, ১৯ জুলাই সকাল থেকে পুনরায় আন্দোলনে অংশ নেন তারা। একপর্যায়ে জুটপট্টির আসিফ, পারভেজ, রুবেলসহ আরও অনেকেই শহীদ হয়েছেন বলে তাদের কাছে খবর আসে। 

শ্রমিক দল নেতা বলেন, ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে একটা কল রেকর্ড প্রকাশিত হয়। ওই কল রেকর্ডে সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হকের কথোপকথন শুনতে পাই। কারফিউ জারি করে আন্দোলনকারীদের শেষ করে দেওয়ার কথা বলেন তারা। এ ঘটনার জন্য শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদের, সালমান এফ রহমান, আনিসুল হকসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের দায়ী করি। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। 

জবানবন্দি শেষে আল আমিনকে জেরা করেন আনিসুল হক ও সালমান এফ রহমানের আইনজীবী পলাশ চন্দ্র রায়।

আরও পড়ুন

×