করোনাদুর্গত
জনগণের 'পাশে' থাকুন জনপ্রতিনিধি
×
ফাইল ছবি
--
প্রকাশ: ২৯ মার্চ ২০২০ | ১১:০২
জনপ্রতিনিধি বিশেষত সংসদ সদস্যদের 'পাশে' চাইছে বিপদগ্রস্ত মানুষ- রোববার সমকালের শীর্ষ প্রতিবেদনে উঠে আসা এই চিত্র স্বাভাবিক। এই পাশে মানে শারীরিকভাবে জনঘনিষ্ঠ হওয়া নয়। করোনা সংক্রমণ ও বিস্তার রোধে এখন যে বরং সামাজিক দূরত্ব রক্ষা করা জরুরি, মনে রাখতে হবে। মন্ত্রী বা সংসদ সদস্যরা সাধারণত যে জনবহর সঙ্গে নিয়ে চলাফেরা করেন, তা বরং বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর জন্য বুমেরাংই হতে পারে। আমরা চাই, সাধারণ ছুটি ও ঘরবন্দির এই সময়ে বিভিন্ন জনপদের খেটে খাওয়া মানুষ যে জীবিকা সংকটে পড়েছেন, সেখানে নিত্যপ্রয়োজনীয় সাহায্যসামগ্রী নিয়ে এগিয়ে আসুক সংসদ সদস্যরা। অস্বীকার করা যাবে না যে, এই 'লকডাউন' পরিস্থিতিতেও অনেকে ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়ে দিয়েছেন, সমকালের আলোচ্য প্রতিবেদনে স্পষ্ট। আমরা চাই, প্রত্যেক সংসদ সদস্যই একইভাবে এগিয়ে আসুন। সংসদ সদস্যদের মূল দায়িত্ব যদিও আইন প্রণয়ন, আমাদের দেশের বাস্তবতায় নিজ নিজ আসনে উন্নয়ন, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমের কেন্দ্রে থাকেন তারা। এই বাস্তবতা আমলে নিয়ে জাতীয় বাজেটে তাদের জন্য থাকে 'থোক বরাদ্দ'। আমরা মনে করি, সেই বরাদ্দ জনস্বার্থে ব্যবহারের এখনই প্রকৃষ্ট সময়। শুধু লকডাউনের দিনগুলোতে নয়, দিন এনে দিন খাওয়া মানুষদের জন্য ত্রাণ সহায়তা প্রয়োজন হবে আরও অনেক দিন। আমরা এখনও জানি না, করোনা পরিস্থিতি কতদিন দীর্ঘায়িত হবে। যতদিনই হোক, সবাইকে পাশে থাকতে হবে। ত্রাণসামগ্রীর পাশাপাশি ওষুধপত্র, স্বাস্থ্যবিধিসম্মত পোশাক সংক্রান্ত সহায়তাও জরুরি। নিজের পক্ষে ছাড়াও অন্যান্য উৎস থেকে আসা ত্রাণসামগ্রী যাতে নয়ছয় না হয়; যাতে করে উপযুক্ত ব্যক্তির বদলে স্বজন ও দলপ্রীতিতে ব্যবহূত না হয়; তাও সংসদ সদস্যরা দেখবেন বলে প্রত্যাশা। দেশের বেশিরভাগ মানুষ আতঙ্কে রয়েছে। আতঙ্কের কারণে হাসপাতালগুলোতে সাধারণ স্বাস্থ্যসেবা মিলছে না। ফলে সাধারণ রোগাক্রান্ত মানুষের জন্য চিকিৎসাসেবা প্রাপ্তি কঠিন হয়ে পড়েছে। সংসদ সদস্যরা ভূমিকা রেখে সীমিত সাধ্যের মধ্যেও সাধারণ চিকিৎসাসেবা সচল রাখতে পারলে তা হবে বিপদগ্রস্তদের জন্য বড় উপকার। আমরা এও জানি, আমাদের দেশের অধিকাংশ সংসদ সদস্য অর্থনৈতিকভাবেও সচ্ছল। নির্বাচনের আগে তারা ভোটারদের আকৃষ্ট করতে নিয়মের বাইরে গিয়েও ব্যাপক ব্যয় করে থাকেন। প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি পৌঁছে দেন নগদ উপহারও। ঠিক সেই আন্তরিকতা ও সদিচ্ছাই এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। সরকারি বরাদ্দের পাশাপাশি নিজেদের সাধ্যমতো মানুষের পাশে দাঁড়ান। নানা আতঙ্ক ও গুজব মোকাবিলায় ব্যক্তি উদ্যোগের প্রচার ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম হতে পারে আরেকটি কার্যকর ভূমিকা। কেবল সংসদ সদস্যরা নন, বিগত নির্বাচনগুলোতে প্রার্থী হিসেবে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক, অরাজনৈতিক ব্যক্তিদেরও একই ভূমিকায় দেখতে চাই আমরা। এগিয়ে আসতে পারেন স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধিরা, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীরাও। মনে রাখবেন, এই দুঃসময়ে আপনাদের ভূমিকাই জনসাধারণ আখেরে মনে রাখবে। বাংলাদেশের মানুষ আগেও দুঃসময় পার করেছে। আমরা সবাই আন্তরিকভাবে এগিয়ে এলে এই দুঃসময়ও নিশ্চয়ই পাড়ি দিতে পারব।
- বিষয় :
- করোনাদুর্গত
