ঢাকা শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬

করোনা শনাক্ত

পরীক্ষা বাড়ানোর ব্যবস্থা নিন

পরীক্ষা বাড়ানোর ব্যবস্থা নিন
×

--

প্রকাশ: ২৯ মার্চ ২০২০ | ১১:০২

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) তরফ থেকে রোববারের ব্রিফিংয়ে দ্বিতীয় দিনের মতো দেশে করোনায় আক্রান্ত নতুন কাউকে না পাওয়ার বিষয়টি আমাদের জন্য স্বস্তিদায়ক। কিন্তু অস্বস্তির বিষয় হলো, ব্রিফিংয়ের আগে ২৪ ঘণ্টায় মাত্র ১০৯ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এই নমুনার ওপর নির্ভর করে আমরা কোনোভাবেই নির্ভার থাকতে পারি না। রোববার সমকালে প্রকাশিত 'পরীক্ষা এত কম কেন' শীর্ষক প্রতিবেদনে আমরা দেখেছি, এ পর্যন্ত করোনার বিষয়ে হটলাইনে ৮ লাখের বেশি কল এলেও ১১শ'ও পরীক্ষা করা হয়নি। অথচ করোনাভাইরাস প্রতিরোধে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফ থেকে বারবার পরীক্ষার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। যেখানে সন্দেহভাজন যে কাউকেই পরীক্ষার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, সেখানে দেশে ফোনকলের ১ শতাংশকেও পরীক্ষার আওতায় আনতে না পারার বিষয়টি উদ্বেগজনক। আমরা বিস্মিত, করোনাভাইরাসের পরীক্ষায় আমরা কেন এতটা পিছিয়ে! প্রশাসনের তরফ থেকে বারবার আশ্বাস দেওয়ার পরও কেন পরীক্ষার আওতা বাড়ানো হয়নি? এক আইইডিসিআরের বাইরে এতদিন পর মাত্র এ সপ্তাহের শুরুতে চট্টগ্রামের বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস হাসপাতালে পরীক্ষা চালু হয়েছে। অথচ আমাদের বিভাগীয় পর্যায় তো বটেই; জেলা পর্যায়ে এমনকি বেসরকারিভাবেও এ পরীক্ষাটির ব্যবস্থা করা সম্ভব ছিল। তিন মাস পর্যন্ত সময় পাওয়ার পরও পরীক্ষার-নিরীক্ষার এমন প্রস্তুতিহীনতা অগ্রহণযোগ্য। আমরা জানি না, পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর্যাপ্ত সুযোগ না থাকায় দেশের কত মানুষ অদৃশ্যভাবে এই ভাইরাস বহন করে বেড়াচ্ছেন! করোনাভাইরাস পরীক্ষায় কিট সংকটের বিষয়টিও সংবাদমাধ্যমে এসেছে। এ ব্যাপারে সংশ্নিষ্ট দায়িত্বশীলরা দায় এড়াতে পারেন না। আমরা মনে করি, ঢাকায় কেন্দ্রীয়ভাবে পরীক্ষা এবং শুধু আইইডিসিআরের ওপর আমাদের নির্ভরতা দুঃখজনক। আমরা দেখেছি, দেশের বিভিন্ন জায়গায় সাধারণ জ্বরে আক্রান্ত হয়ে কয়েকজন মারা গেছেন। এমনকি হাসপাতালের করোনা ইউনিটেও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। অথচ আমাদের জানারই উপায় ছিল না, তারা আদৌ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন কিনা। করোনা ঠেকাতে সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছুটি দিয়েছে। সারাদেশে ১০ দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে 'লকডাউন' করা হয়েছে। এর সঙ্গে করোনা পরীক্ষার বিষয়টিও বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে ব্যবস্থা করলে, তা যথাযথ প্রস্তুতি হতো। আমরা চাই, আর দেরি না করে শিগগিরই সে ব্যবস্থা করা হোক।

আরও পড়ুন

×