ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

প্রস্তুতি

বাজেট হোক স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের হাতিয়ার

বাজেট হোক স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের হাতিয়ার
×

খোন্দকার লুৎফুল খালেদ, বদরুল হাসান ও জাহিদুল হাসান

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬ | ২০:৩০

অর্থনীতি এখন কঠিন সময় পার করছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের আশপাশে, রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের ক্রমবর্ধমান বোঝা, রপ্তানি প্রবৃদ্ধিতে শ্লথগতি এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে টানাপড়েন সব মিলিয়ে অর্থনীতির ভিত এখন নাজুক। ঠিক এমন সময়েই জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পেশ হলো। আর এবারের বাজেট অন্যবারের মতো নয়।

কারণ ঠিক এই সময়েই বাংলাদেশ জাতিসংঘের স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে। মূল সূচি অনুযায়ী ২০২৬ সালের ২৪ নভেম্বর এই উত্তরণ কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। তবে অর্থনৈতিক অভিঘাত ও প্রস্তুতির সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে সরকার উত্তরণের প্রস্তুতিকাল ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত তিন বছর পিছিয়ে নেওয়ার আবেদন করেছে। জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি) এই আবেদনে ইতিবাচক সাড়া দিলেও তিন বছরের চেয়ে কিছুটা কম সময়ের সুপারিশ করেছে; চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে আগামী সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে। অর্থাৎ উত্তরণ সম্ভবত কিছুটা পিছিয়ে যাবে, কিন্তু থেমে থাকবে না।

এই দুই বাস্তবতা মিলে যে চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে, তা মোকাবেলায় আমাদের নীতি-ভাবনায় একটি মৌলিক পরিবর্তন দরকার। এতদিন আলোচনা হয়েছে মূলত 'কীভাবে এলডিসি থেকে বের হওয়া যাবে' তা নিয়ে। এখন প্রশ্নটা হওয়া উচিত—'উত্তোরণের পর কী হবে?' বিশেষ বাণিজ্য সুবিধা কমে যাবে, প্রতিযোগিতা বাড়বে, আন্তর্জাতিক মান পূরণের চাপ বাড়বে। এই পরিবর্তিত বাস্তবতায় বাংলাদেশ কি কেবল নিজেকে টিকিয়ে রাখতে পারবে, নাকি এগিয়েও যাবে?
উত্তরণের সম্ভাব্য বিলম্বকে তাই স্বস্তির উপলক্ষ ভাবলে ভুল হবে; বাড়তি সময় আসলে প্রস্তুতির সুযোগ। এই সুযোগ কাজে লাগবে কি না, তার অনেকখানি ঠিক হয়ে যাবে আগামী কয়েকটি বাজেটে।

সরকার এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে একটি সুচারু উত্তরণ কৌশল বা স্মুথ ট্রানজিশন স্ট্র্যাটেজি (এসটিএস) প্রণয়ন করেছে। কিন্তু কৌশল থাকলেই চলে না, তাকে বাস্তবে রূপ দিতে হয়। আর সেই রূপ দেওয়ার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার জাতীয় বাজেট। তাই ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট কেবল একটি আর্থিক দলিল নয়; এটি হতে পারে উত্তরণ-পরবর্তী বাংলাদেশ গড়ার প্রথম বাস্তব পদক্ষেপ।
শূন্যস্থান পূরণ: কৌশল আছে, বরাদ্দ নেই
এসটিএসে বেশ কিছু অর্জনযোগ্য লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে: রাজস্বের টেকসই ভিত্তি গড়া, রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনা, মানবসম্পদ উন্নয়ন, শাসন সংস্কার ও পরিবেশগত স্থিতিশীলতা। কিন্তু বাস্তব অভিজ্ঞতা বলে, কৌশলপত্রে যা লেখা থাকে তা বাজেটে প্রতিফলিত না হলে মাঠপর্যায়ে কিছুই বদলায় না।
এই ফাঁক বন্ধ করতে সরকারকে একটি স্পষ্ট সংযোগ-কাঠামো তৈরি করতে হবে, যাতে বাজেটের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যয়-খাতের সঙ্গে এসটিএসের নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রার সরাসরি যোগসূত্র থাকে। তখন নীতিনির্ধারক থেকে উন্নয়ন অংশীদার, ব্যবসায়ী ও সাধারণ নাগরিক—সবাই বুঝতে পারবেন, সরকারি অর্থ কোন লক্ষ্যে ব্যয় হচ্ছে। জাতীয় বাজেটের পাশাপাশি একটি আলাদা 'এসটিএস বাজেট বিবৃতি' প্রকাশ করলে এই স্বচ্ছতা আরও দৃঢ় হবে এবং মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে নীতিগত সমন্বয়ও জোরদার হবে।
 

রপ্তানি বাড়াতে হলে, পথ বদলাতেও হবে
বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশের বেশি এখনো তৈরি পোশাকের ওপর নির্ভরশীল। স্বল্পোন্নত দেশ থেকে চূড়ান্ত উত্তরণের পরবর্তী যুগে এই অতিনির্ভরতাই দেশের অর্থনীতির জন্য সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখা দিতে পারে। এতদিন এলডিসি হিসেবে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বাজারে যেসব বিশেষ বাণিজ্য সুবিধা পেয়ে এসেছে, উত্তরণের পর সেগুলো স্বাভাবিকভাবেই ধাপে ধাপে কমতে শুরু করবে।
যেমন আমাদের তৈরি পোশাক রপ্তানির অর্ধেকেরও বেশি যায় ইউরোপীয় ইউনিয়নে। এলডিসি উত্তরণের পরও ইইউ আরও তিন বছর (২০২৯ সাল পর্যন্ত) শুল্কমুক্ত সুবিধা অব্যাহত রাখবে। তবে এই সময়সীমা পার হওয়ার পর যদি 'জিএসপি প্লাস' বা অন্য কোনো দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি নিশ্চিত করা না যায়, তবে বাংলাদেশি পোশাককে ইউরোপের বাজারে গড়ে প্রায় সাড়ে ১২ শতাংশ শুল্কের মুখে পড়তে হতে পারে। এর ফলে বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা ধরে রাখা এবং নতুন বাজার অনুসন্ধান করা—উভয় ক্ষেত্রেই তীব্র চ্যালেঞ্জের সৃষ্টি হবে।
এই বাস্তবতায় রপ্তানি বহুমুখীকরণ আর কোনো বিকল্প নয়, বরং টিকে থাকার প্রধান বাধ্যবাধকতা। বিশ্ববাজারের নতুন শর্ত ও প্রতিযোগিতার সঙ্গে মানিয়ে নিতে হলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের (এসএমই) জন্য সহজ ঋণ নিশ্চিত করা, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোকে (ইপিবি) আরও কার্যকর করা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানো প্রয়োজন। এসব উদ্যোগকে নিছক 'ব্যবসায়ী-সুবিধা' না ভেবে জাতীয় প্রতিযোগিতা-সক্ষমতা বৃদ্ধির দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ হিসেবে দেখা উচিত।

বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ: ঘোষণা নয়, বরাদ্দ চাই
বাংলাদেশে ব্যবসা করা কতটা সহজ-এই প্রশ্নে আন্তর্জাতিক সূচকগুলো বরাবরই হতাশাজনক চিত্র তুলে ধরে। ব্যবসা নিবন্ধনের জটিলতা, কাস্টমস ছাড়পত্রে দীর্ঘসূত্রিতা, এক দপ্তর থেকে আরেক দপ্তরে ছোটাছুটি, এসব বিনিয়োগকারীকে নিরুৎসাহিত করে। উত্তরণের পর যখন প্রণোদনানির্ভর সুবিধা কমে আসবে, তখন প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হবে দক্ষতা আর বিশ্বাসযোগ্যতার জোরে।
বাজেটে কেবল ঘোষণা নয়, ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়নে সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ জরুরি। ব্যবসা নিবন্ধনের ডিজিটাইজেশন, কাস্টমস প্রক্রিয়ার স্বয়ংক্রিয়করণ, কাগজবিহীন বাণিজ্যের প্রসার এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য এক-স্টপ সেবা সত্যিকার অর্থে কার্যকর করতে অর্থের প্রয়োজন। এই বিনিয়োগ হলে লেনদেন ব্যয় কমবে, স্বচ্ছতা বাড়বে এবং বাংলাদেশ একটি আস্থাযোগ্য বিনিয়োগ-গন্তব্য হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে পারবে।

উত্তরণের ভার যেন সাধারণ মানুষের কাঁধে না পড়ে
অর্থনৈতিক রূপান্তরের ইতিহাস বলে, পরিবর্তনের সুফল সবার কাছে একসঙ্গে পৌঁছায় না। বরং বড় কাঠামোগত পরিবর্তনের সময় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন নিম্ন আয়ের মানুষ, অদক্ষ শ্রমিক ও প্রান্তিক উদ্যোক্তারা। বিশেষত উচ্চ মূল্যস্ফীতির এই সময়ে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর ওপর চাপ এমনিতেই বাড়তি। স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণও এর ব্যতিক্রম হবে না—যদি না সামাজিক সুরক্ষার বলয় যথেষ্ট শক্তিশালী হয়।
এসটিএস নিজেও স্বীকার করেছে, উত্তরণ প্রক্রিয়া অন্তর্ভুক্তিমূলক না হলে তা টেকসই হবে না। বাজেটে তাই সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি, লক্ষ্যভিত্তিক নগদ সহায়তা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং শ্রমিকদের নতুন দক্ষতা অর্জনের সুযোগ—এই খাতগুলোয় বরাদ্দ বাড়ানো জরুরি। এই ব্যয়কে 'বোঝা' ভাবার সুযোগ নেই; বরং সামাজিক স্থিতিশীলতা ধরে রেখে অর্থনৈতিক রূপান্তর নিশ্চিত করার এটাই সবচেয়ে কার্যকর পথ।

জবাবদিহি ছাড়া কৌশল কাজ করে না
বাংলাদেশে ভালো পরিকল্পনার অভাব নেই; অভাব বাস্তবায়নে। প্রকল্প অনুমোদন হয়, অর্থ বরাদ্দ হয়, অথচ ফলাফল প্রত্যাশিত মাত্রায় আসে না। উত্তরণ-পরবর্তী যুগে এই দুর্বলতা আর চলবে না, কারণ তখন উন্নয়ন অংশীদার, বিদেশি বিনিয়োগকারী ও আন্তর্জাতিক বাজার বাংলাদেশকে বিচার করবে পরিকল্পনার কাগজে নয়, বাস্তব ফলাফলে।
তাই বাজেটে নিরীক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা, সরকারি ক্রয়ে স্বচ্ছতা আনা, কার্যকর পর্যবেক্ষণ কাঠামো গড়া এবং সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনার সংস্কারে সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ দরকার। পাশাপাশি মন্ত্রণালয়গুলোর সমন্বয়হীনতা দূর করতে একটি কার্যকর আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় ব্যবস্থা অপরিহার্য। সংস্কারের উদ্যোগ যদি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে বিচ্ছিন্নভাবে চলে এবং পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ না থাকে, তাহলে সবচেয়ে ভালো কৌশলও ব্যর্থ হবে।

পরিবেশগত, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও সুশাসন
বৈশ্বিক ব্যবসায়িক পরিবেশে এখন পরিবেশ, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও সুশাসন—সংক্ষেপে ইএসজি—বিবেচনা দ্রুত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বড় বাজারগুলো আমদানি পণ্যের ক্ষেত্রে একের পর এক ইএসজি-শর্ত আরোপ করছে—কার্বন সীমান্ত সমন্বয় ব্যবস্থা (সিবিএএম) থেকে শুরু করে সরবরাহ-শৃঙ্খলে যথাযথ অনুসন্ধানের (ডিউ ডিলিজেন্স) বাধ্যবাধকতা। আন্তর্জাতিক মূল্য-শৃঙ্খলে (ভ্যালু চেইন) যুক্ত থাকতে এবং বিদেশি বিনিয়োগ টানতে হলে এই মানদণ্ড পূরণ এখন অনিবার্য।
বাংলাদেশের এসটিএস ইএসজিকে কৌশলগত অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত করেছে। কিন্তু নীতিগত স্বীকৃতিই যথেষ্ট নয়। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে নবায়নযোগ্য শক্তি, শক্তিসাশ্রয়ী অবকাঠামো, বৃত্তাকার অর্থনীতি (সার্কুলার ইকোনমি) ও পরিবেশবান্ধব শিল্প-রূপান্তরে বিনিয়োগ থাকতে হবে। পাশাপাশি চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্মার্ট ম্যানুফ্যাকচারিং ও ডেটা বিশ্লেষণ গ্রহণে উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে রাজস্ব প্রণোদনা রাখা দরকার।

ডিজিটাল ইএসজি প্রতিবেদন, সরবরাহ-শৃঙ্খলের ট্র্যাকযোগ্যতা, কর্মীদের পুনঃদক্ষতায়ন এবং বিজ্ঞান-প্রযুক্তি-প্রকৌশল-গণিত (এসটিইএম) শিক্ষায় বাজেট-সহায়তা শিল্পখাতকে বৈশ্বিক মান পূরণে সক্ষম করবে। এগুলো নিছক পরিবেশ রক্ষার উদ্যোগ নয়; বরং বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি প্রতিযোগিতা-সক্ষমতার ভিত্তিপ্রস্তর।

বাজেট যদি না বদলায়, কৌশল বদলাবে না
এসটিএস নিঃসন্দেহে একটি চমৎকার কৌশলপত্র। কিন্তু শেষ বিচারে রপ্তানি বৈচিত্র্য থেকে সামাজিক সুরক্ষা, শাসন সংস্কার থেকে ইএসজি মানদণ্ড—সবকিছুর বাস্তবায়ন নির্ভর করে একটিমাত্র প্রশ্নের ওপর: সরকারি অর্থ কোথায় যাচ্ছে, আর কীভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে?
রাজস্ব সীমাবদ্ধতার কথা সত্যি। কিন্তু এই কৌশল বাস্তবায়নে অগত্যা বিশাল নতুন ব্যয় লাগবে না। দরকার বিদ্যমান ব্যয়ের পুনর্বিন্যাস, অগ্রাধিকার ঠিক করা এবং মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে সমন্বয়। বাংলাদেশ তার উত্তরণের পথ বেছে নিয়েছে; এখন দরকার সেই পথকে বাজেটের ভেতরে গেঁথে দেওয়া—সুনির্দিষ্ট বরাদ্দে, কার্যকর তদারকিতে আর জবাবদিহির সংস্কৃতিতে।

স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণ একটি মাইলফলক, যাত্রার শেষ নয়; নতুন যাত্রার শুরু। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট হোক সেই যাত্রার প্রথম পদক্ষেপ।

খোন্দকার লুৎফুল খালেদ: শিক্ষা ও সামাজিক নীতি বিশেষজ্ঞ এবং জাতিসংঘের সাবেক পেশাজীবী; 
বদরুল হাসান: উন্নয়ন ও মানবিক নীতিবিশেষজ্ঞ
জাহিদুল হাসান: একটি শিল্পগোষ্ঠীর সিএসআর ও সাসটেইনেবিলিটি বিভাগের প্রধান নির্বাহী এবং জাতিসংঘের সাবেক পেশাজীবী

 

আরও পড়ুন

×