স্থানীয় ভোটের প্রস্তুতি এককভাবে এনসিপির, জোটের সিদ্ধান্ত পরে
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৬ মে ২০২৬ | ০০:৪৯ | আপডেট: ১৬ মে ২০২৬ | ০২:০১
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এককভাবে লড়াইয়ের প্রস্তুতি গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে এনসিপি। তবে জোট হবে কিনা- এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে তপশিল ঘোষণার পর। এককভাবে স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে প্রার্থী বাছাইয়ের সিদ্ধান্ত হলেও গণভোটের ফলাফল অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটের কর্মসূচিতে সক্রিয় থাকবে এনসিপি।
শুক্রবার রাজধানীর বাংলামোটর কার্যালয়ে এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সভায় এসব সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগের দিন নির্বাহী কাউন্সিলের (ইসি) সভায় প্রস্তাব করা হয়েছিল, এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠন এবং দায়িত্ব পুনর্বণ্টন হবে। বিলুপ্ত হবে মুখ্য সংগঠক, মুখ্য সমন্বয়ক, মুখপাত্র পদ বিলুপ্ত হবে। বিভাগীয় সম্পাদক সৃষ্টি করা হবে। সাধারণ সভায় এসব প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।
এদিন বিকেল ৪টায় শুরু হয়ে রাত ১০টা পর্যন্ত সাধারণ সভা চলে। এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব সমকালকে বলেছেন, আগামী বছরের জানুয়ারিতে দলের জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনে আলোচনা হয়েছে। এর আগে জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন পরিষদ পর্যায়ে কমিটি গঠন করা হবে। বর্তমানে আহ্বায়ক কমিটি দিয়ে কার্যক্রম চলছে। জাতীয় কাউন্সিলের আগে জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন পর্যায়ের কমিটিগুলোতে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক নির্বাচন হবে।
সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের সঙ্গে জোট করে নির্বাচন করে এনসিপি। তবে তপশিল ঘোষণার পরও দলটির নেতাদের একাংশ বিএনপির সঙ্গে জোট চেয়েছিল। ভোটের পর জামায়াতের জোট নির্বাচনী ঐক্য থেকে থেকে রাজনৈতিক জোটে রুপান্তর হয়েছে। সংসদের ভেতরে ও বাইরে এই জোটে রয়েছে এনসিপি। সাধারণ সভায় সিদ্ধান্ত হয়, গণভোটের ফলাফল অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারে জোটে থাকবে দলটি।
গত মার্চে ৫ সিটি করপোরেশনে দল সমর্থিত মেয়র প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করে এনসিপি। গত সপ্তাহে ১০০ উপজেলা ও পৌরসভার জন্য দল সমর্থিত প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, সাধারণ সভায় এনসিপি নেতারা বক্তৃতায় জানতে চান, আসলেই দলটি এককভাবে নির্বাচন করবে কিনা? এককভাবে নির্বাচন করার মত সক্ষমতা এনসিপির রয়েছে কিনা?
পরে জ্যেষ্ঠ নেতারা বলেন, এককভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেবে এনসিপি। উপজেলা, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জোটের প্রয়োজন রয়েছে কিনা- তা তপশিলের পর যাচাই করা হবে।
গত শুক্রবার প্রকাশিত সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবীর সমিতির নির্বাচনের ফলাফলও সাধারণ সভার আলোচনা উঠে। এই নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থীরা গড়ে আড়াই হাজারের বেশি ভোট পেয়েছেন। জামায়াত সমর্থিত জোটের প্যানেলের প্রার্থীরা গড়ে ৮০০ করে ভোট পেয়েছেন। ১৪টি পদের একটিতে জয়ী হয়েছে জামায়াত প্যানেল। এনসিপি প্যানেল একটি পদেও জিততে পারেনি। গড় ভোট ১০০। এ উদাহরণ দিয়ে জোটবদ্ধভাবে স্থানীয় নির্বাচনের মতামতও আসে। জ্যেষ্ঠ নেতারা বলেন, সিদ্ধান্ত হবে অবস্থা বুঝে।
সভায় সিদ্ধান্ত হয়, জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন পরিষদ পর্যায়ে এনসিপির সাংগঠনিক সংগঠনের বিস্তৃতিতে ১০ সাংগঠনিক বিভাগে একজন করে সাংগঠনিক সম্পাদককে দায়িত্ব দেওয়া হবে। তাদের সঙ্গে থাকবেন দুইজন করে সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক। তাদের দায়িত্ব হবে; এসব বিভাগের আওতাধীন জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের কমিটি গঠন। বর্তমানে মুখ্য সংগঠক, মুখ্য সমন্বয়ক, মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করা নেতারা সাংগঠনিক সম্পাদকের ভূমিকায় থাকতে পারেন।
আরিফুল ইসলাম আদীব সমকালকে বলেছেন, আগামী এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন হবে। কমিটিতে আহ্বায়ক, যুগ্ম আহ্বায়ক, সদস্য সচিব, যুগ্ম সদস্য সচিব, সাংগঠনিক সম্পাদক এবং প্রয়োজনীয় কিছু সম্পাদক পদ থাকবেন।
- বিষয় :
- স্থানীয় সরকার নির্বাচন
- এনসিপি
