ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬

সচেতনতা

দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে পথ পাঠাগার

দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে পথ পাঠাগার
×

সৃজনশীল বইয়ের পাশাপাশি শিশুদের মাঝে পাঠ্যবইও বিতরণ করেন ‘পথ পাঠাগার’-এর স্বেচ্ছাসেবকরা

রুবেল মিয়া নাহিদ

প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২৬ | ০৭:৩১ | আপডেট: ২৩ আগস্ট ২০২৬ | ০৭:৩৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

২০২০ সালের ২ জুন ‘পাঠাগার’ শিরোনামে ময়মনসিংহ বিভাগের বিভিন্ন স্থানে পাঠাগার গড়ে তোলেন নাজমুল হুদা সারোয়ার। ব্যতিক্রমী এই পাঠাগার একে একে ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন স্থানে। গড়ে তোলা হয় বিভন্ন স্যালন ও হোটেলে। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এসব পাঠাগারে বই পড়ার হিড়িক পড়ে যায়। নতুন প্রজন্মের মাঝে বই পড়ার চর্চা আর সমাজের নানা ক্ষয়ে যাওয়া কর্মকাণ্ড থেকে বেরিয়ে আসতে ব্যতিক্রমী পথ পাঠাগার কার্যক্রমের সূচনা। নিজের অর্থায়নে গ্রামগঞ্জে, লোকালয়ে, হাট-বাজারে, দোকানে, স্যালন ও ফার্মেসিতে বই, সেলফ এবং একটি ব্যানার দিয়ে বই পাঠের উপযুক্ত স্থান তৈরি করে দেন নাজমুল। এসব পাঠাগারে বই পড়তে পারেন সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ। 

নেত্রকোনার জেলার দুর্গাপুর পৌর শহরের বাগিচাপাড়া এলাকায় জন্ম নাজমুলের। বাবা হাজি মো. নজরুল ইসলাম (প্রয়াত)। মাতা হেলেনা বেগম (প্রয়াত)। চার ভাই এক বোন। সবার ছোট তিনি। আজন্ম শৈল্পিক চিন্তা আর ভাবনার কল্পনায় ব্যস্ত রাখেন নিজেকে। ছাত্রাবস্থায় থেকেই শিল্পসাহিত্য ও সংস্কৃতি অঙ্গনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। দুই বাংলার কবিদের নিয়ে কবিতা উৎসের আয়োজন করেণ। দুর্গাপুর সাহিত্য সমাজের প্রতিষ্ঠাতা ও জ্ঞানী ব্যক্তিদের পুরস্কারের প্রবক্তা হিসেবেও রয়েছে তাঁর খ্যাতি। গ্রামের জনবহুল স্থানে পথ পাঠাগার স্থাপনের মধ্য দিয়ে পাঠাভ্যাস তৈরি করে আগামীর প্রজন্মকে বইমুখী করার প্রয়াস ছড়িয়ে দিচ্ছেন নাজমুল হুদা সারোয়ার। তাঁর এ উদ্যমী পথচলা শুরু থেকেই সর্বস্তরের লোকজনের প্রশংসা কুড়িয়েছে। 
নাজমুল হুদা সারোয়ার এ পর্যন্ত পথ পাঠাগারের ১১টি শাখা স্থাপন করেছেন দুর্গাপুর পৌর শহরে। এম কে সি এম মোড় এলাকার সুমন সাহা টি স্টলে পথ পাঠাগার শাখা সম্প্রতি স্থাপিত হয়। এছাড়া চণ্ডিড়গ ইউনিয়নের সাতাশি বাজারের  আজিজুল ইসলামের ফার্মেসি শাখা, উপজেলা প্রেস ক্লাব মোড় এলাকায় খোকন মিয়ার হোটেল শাখায়, নাজিরপুর মোড় এলাকায় তোতা মিয়ার অলম্যান স্যালন শাখায়, রিকশালক তারা মিয়ার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় ভ্রাম্যমাণ শাখায় বইয়ের সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। 

কুল্লাগড়া ইউনিয়নের ভেন্নাকান্দা চৌরাস্তা গ্রামের আশরাফুল ইসলামের ফার্মেসি শাখা, বহেরাতলী গ্রামে মোবারক হোসেন মিলনের স্যালন শাখা ও  ধোবাউড়া উপজেলার চারুয়াপাড়া গ্রামে শামসুল হক মৃধার ফার্মেসি শাখায় বাড়াতে চান বইয়ের সংখ্যা। 
শুরু থেকেই নাজমুলের সঙ্গে স্বেচ্ছায় শ্রম দিচ্ছেন  একদল উদ্যমী তরুণ। পথ পাঠাগার পরিচালনা পর্ষদের দায়িত্ব পালন করছেন রাজেশ গৌড়, তন্ময় সাহা, জিয়াউল হক শুভ, শফিকুল আলম সজীব, নির্মল রবিদাস, এ কে এম মইনুল ইসলাম ও লতিফা আক্তার। তাদের তত্ত্বাবধানে এসব পাঠাগারে নিয়মিত বই পড়েন শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার বইপ্রেমী মানুষ।
পথ পাঠাগারের উদ্যোক্তা নাজমুল হুদা সারোয়ার বলেন, ‘পাঠকদের উপস্থিতি বলে দেয় আজকে পথ পাঠাগার কানায় কানায় সুশোভিত। সবার সহযোগিতায় পথ পাঠাগার এগিয়ে যাবে বহুদূর এবং বিভিন্ন অপকর্ম থেকে দূরে থাকবে তরুণ সমাজ। তথ্যনির্ভর ও আধুনিক সমাজ বির্নিমাণে নতুন প্রজন্ম এগিয়ে যাবে বইয়ের আলোয়!’ u

আরও পড়ুন

×