ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬

বুদ্ধিরাজ

শারীরিক ভাষা কতটা বুঝতে পারেন?

শারীরিক ভাষা কতটা বুঝতে পারেন?
×

শরীরের ভাষায় ফুটে উঠুক আত্মবিশ্বাস ছবি: সমকাল

ইয়াসিন মাসুম

প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০২৬ | ০৭:৪০

| প্রিন্ট সংস্করণ

শারীরিক ভাষা বা বডি ল্যাঙ্গুয়েজ নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করে যাচ্ছেন জেমস বার্গ। তাঁর মতে, মানুষ তাঁর অভিব্যক্তির ৯৩ শতাংশই শরীরী ভাষা দিয়ে প্রকাশ করতে সক্ষম। মাত্র সাত শতাংশের জন্য তাঁকে শাব্দিক ভাষা ব্যবহার করতে হয়। এ শরীরী ভাষা দিয়েই আমরা বুঝতে পারি, কার মনের অবস্থা কেমন, শরীরের অবস্থা কেমন। বাকপ্রতিবন্ধীদের যদি কথা বলতে হয়, তবে ওদের মুখ থেকে শব্দটি বেরোয় না। যেটি বেরোয়, সেটি বোঝার সাধ্য কার? কিন্তু তাদের অঙ্গভঙ্গি দেখেই বোঝা যায়, তারা কী বলতে চায়।  

বোঝার উপায়
কাছে আসতে দিন: কেউ যখন আপনার কাছে আসবে তাঁকে ভালো মতো পর্যবেক্ষণ করুন। আপনি যদি তাঁর কাছাকাছি যেতে চান, তবে নিজেও খানিকটা এগিয়ে যান। যদি দেখেন আপনার সঙ্গী বা সঙ্গিনী ওখানে থেমে গেছেন কিংবা দূরে সরে গেছেন, তবে বুঝতে হবে তিনি আপনার কাছাকাছি আসতে চাইছেন না। যদি আপনার কাছে একটু একটু করে এগিয়ে আসেন, বুঝতে হবে তিনি আপনাকে পছন্দ করেন।
মাথা নাড়ানোর ভঙি: সঙ্গী বা সঙ্গিনীর মাথা নাড়ানো দেখেও বোঝা যায় অনেক কিছু। কারও প্রতি সহানুভূতি, রাগ, অভিমান প্রকাশ করা যায় কেবল মাথা নাড়িয়েই। কেউ মাথা নিচু করে থাকলে বুঝতে হবে আপনার কাছ থেকে কিছু লুকাতে চাইছে। অথবা সে লজ্জিত। অথবা সে আপনাকে সম্মান দেখাচ্ছে। আপনি যদি বস হন, তবে আপনার সামনে অধস্থন কেউ যদি মাথা উঁচু করে থাকে, বুঝতে হবে আপনাকে তোয়াক্কা করে না।

চোখে চোখ: কেউ মিথ্যা বলছে কিনা, নার্ভাস কিনা বোঝা যায় চোখের দিকে তাকালে। আমাদের অনেক আবেগ আছে, যা চোখ দিয়েই বোঝা যায়। বলা যায়, মনের কথাগুলোই চোখ বলে দেয়। বিখ্যাত সেই গানটির কথাই তখন মনে হয়, চোখ যে মনের কথা বলে। চোখের না বলা ভাষা দিয়েই বুঝিয়ে দেওয়া যায়, আমি তোমায় কতটা ভালোবাসি কিংবা তোমায় কতটা ঘৃণা করি। তবে চোখের ভাষা বুঝতে হলে চোখের দিকে তাকাতে হবে গভীর মনোযোগ দিয়ে।

অনুকরণের ভাষা: খেয়াল করে দেখুন তো কেউ আপনাকে অনুকরণ করছে কিনা। এই অনুকরণের ভাষা কথায় হতে পারে, কাজে হতে পারে, অঙ্গভঙ্গিতেও হতে পারে। যদি বুঝতে পারেন কেউ আপনাকে অনুকরণ করছে, তবে সে আপনার কাছাকাছি আসতে চায়। পেতে চায় আপনার সহানুভূতি। কিংবা আপনার সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে চায়।
কেউ কী বিচলিত: খেয়াল করুন কেউ আপনার সামনে এসে নার্ভাস বা বিচলিত হয়ে পড়ছে কিনা। এটি বোঝা যাবে তার কথা বলার ভঙিতে। গলার স্বরে। তার চোখের ভ্রু দেখেও বোঝা যায়। বিচলিত হওয়ার সময় আমাদের চোখের ভ্রু খানিকটা কুঁচকে যায়। যদি এমন হয় তবে বুঝতে হবে, আপনার কোনো সিদ্ধান্ত সে একমত হতে পারছে না। কিংবা আপনার কাছ থেকে কিছু লুকোচ্ছে। মিথ্যা বলছে।
পা দেখেও বোঝা যায়: কোথাও বেড়াতে গেলেন। কয়েক বন্ধু পায়ের বুড়ো আঙুলের ওপর ভর দিয়ে নাচার চেষ্টা করছে। বুঝতে হবে তারা খোশমেজাজে রয়েছে। কিংবা কেউ দুবা হাঁটু লাগিয়ে বসে আছে। তার মানে কিছু একটা করার সংকল্প করছে। কিংবা জরুরি কিছু ভাবছে বা কোনো সংকটে পড়েছে। আবার সে মানুষটি যখন বসে বসে পা নাচাতে থাকে তখন বুঝতে হবে সংকট কেটে গেছে।
বদলে ফেলুন শরীরের ভাষা
অনেক সময় শরীরের ভাষা বিরক্তির কারণ হয়। বিরক্তিকর শরীরের ভাষা থাকতে পারে আপনারও। এ সুযোগে বদলে ফেলুন সেটিও। ভাবছেন কীভাবে বদলাবেন? বদলানোর আগে নিজের শরীরের ভাষা তো বুঝতে হবে। নিজের শরীরের ভাষা বোঝার সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে আয়নার সামনে চর্চা করা। 

আরও পড়ুন

×