ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

উদ্যোগ

৬৪ দিনে ৬৪ জেলা

পরিবেশের জন্য ভ্রমণ চ্যালেঞ্জ

৬৪ দিনে ৬৪ জেলা
×

সমকাল কার্যালয় থেকে ভ্রমণ শুরু করেন তরুণ স্বপ্নরাজ... ছবি : সমকাল

আশিক মুস্তাফা

প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৭:৩২

| প্রিন্ট সংস্করণ

২০২৫ সালে হেঁটে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া ভ্রমণ করেছেন তরুণ স্বপ্নরাজ। তিন বছর আগে সাইকেলে ঘুরেছেন পুরো বাংলাদেশ!
এবার ৬৪ দিনে ৬৪ জেলা ভ্রমণের চ্যালেঞ্জ নিয়ে বেরিয়েছেন ২২ আগস্ট। যাওয়ার আগে এসেছিলেন সমকাল কার্যালয়ে। জানতে চাইলাম, আপনার ভ্রমণে যে চ্যালেঞ্জের কথা বলছেন, এ চ্যালেঞ্জটা আসলে কিসের? স্বভাবসুলভ মুচকি হেসে তরুণ স্বপ্নরাজ বলেন, ‘গল্পের চ্যালেঞ্জ। নিজের জন্য একটা গল্প বলার চ্যালেঞ্জ। যে গল্প আমি বলে বেড়াতে চাই অনন্তকাল। পরিবেশ, সমাজ এবং তরুণদের ঘিরে গড়ে উঠবে এই গল্পের শরীর। এক জেলা এক দিনে শেষ করতে চাই সাইকেলের প্যাডেল চেপে। খুঁজতে চাই বলার মতো একটা গল্প!’  

স্থানীয় উদ্যোক্তাদের সঙ্গে...
এত এত বিষয় থাকতে গল্পের খোঁজে ঘুরে বেড়াবেন তিনি, বিষয়টি কৌতূহলেরও! এই কৌতূহল চেপে তাঁর কাছে জানতে চাইলাম, আপনার এবারের ভ্রমণে আর বিশেষ কী থাকছে? উত্তরে স্বপ্নরাজ বলেন, ‘আমি বেশ কিছুদিন ধরে ৬৪ জেলার উদ্যোক্তাদের একটা খসড়া তালিকা তৈরি করেছি। যে জেলায় যাব সে জেলার স্থানীয় উদ্যোক্তাদের খুঁজে বের করে তাদের সঙ্গে গল্প করার চেষ্টা করব। প্রতি জেলা থেকে অন্তত একজন হলেও উদ্যোক্তার গল্প শুনতে চাই। মূলত তাদের উদ্যোক্তা হওয়ার গল্প জেনে তা নোট করে রাখব। ভ্রমণ শেষে এ ৬৪ গল্প দিয়ে প্রকাশ করতে চাই বিশেষ গ্রন্থ। আমি নিশ্চিত, এই তরুণ উদ্যোক্তাদের গল্প আগামীর উদ্যোক্তাদের অনুপ্রেরণা জোগাবে। শেখাবে দেশাত্মবোধও!’  

যেখানে ভিন্নতা
স্বপ্নরাজ আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রতিটি জেলা নানান কারণে বিখ্যাত। যখন যে জেলায় থাকব সেই জেলার বিখ্যাত জিনিসের গল্প তুলে ধরব এবং তরুণ যারা সেসব বিষয় নিয়ে কাজ করতে চায় তাদের যোগাযোগ করিয়ে দেব স্থানীয় উদ্যোক্তাদের সঙ্গে। কেননা, অনলাইনের কারণে মানুষ যেমন সহজে অনেক কিছু পাচ্ছে, তেমনি প্রতারিতও হচ্ছে। এই প্রতারণা ঠেকাতে আমি তরুণদের সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়ার চেষ্টা করব।’ 
বই পড়ুয়া এই তরুণ ভ্রমণে বের হওয়ার আগে পড়েছেন ভ্রমণবিষয়ক বেশ কিছু বই। তরুণ যারা সাইকেলে কিংবা হেঁটে দেশ ভ্রমণে বের হতে চান তাদের জন্য কোনো পরামর্শ দিতে চান? এই প্রশ্নে স্বপ্নরাজ বলেন, ‘সবার আগে ভ্রমণবিষয়ক বই পড়তে হবে। কেননা, ভ্রমণে বের হওয়ার প্রথম প্রস্তুতি হচ্ছে মানসিক প্রস্তুতি। এই মানসিক প্রস্তুতি হচ্ছে বই 
পড়া। দেশের অনেকে ভ্রমণবিষয়ক বই লিখেছেন। সেসব বই পড়ে মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে এগোতে হবে।’  

বাড়ির আঙিনা থেকে সমগ্র বাংলাদেশ
স্বপ্নরাজের বই পড়া, গাছ লাগানো এবং মানুষকে সচেতন করার গল্পটা কেবল নিজের মধ্য সীমাবদ্ধ নয়। তিনি শৈশব থেকে বই পড়াবিষয়ক নানান কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত। বাড়িতে গড়ে তুলেছেন পাঠাগার। যদিও সেই পাঠাগার নিয়ে রয়েছে তাঁর হৃদয়ভাঙা গল্প। বাবা বুঝতে না পেরে ভেঙে দিয়েছিলেন পাঠাগারটি। ভাঙতে পারেননি স্বপ্নরাজের স্বপ্ন। নিজের কাজ সম্পর্কে স্বপ্নরাজ বলেন, ‘আমার কাজ দেশের প্রকৃতির জন্য। তরুণদের জন্য। তরুণরা বই পড়লে, গাছ লাগালে, নিজে ভালো কাজ করলে এবং অন্যকে ভালো কাজে উৎসাহিত করলে এগিয়ে যাবে দেশ!’ 

আরও পড়ুন

×