প্রেরণা
পরিশ্রমে গড়া জীবন
লামিনে ইয়ামাল ছবি : সংগ্রহ
ইমরান খান
প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৭:৩৩
| প্রিন্ট সংস্করণ
লামিন ইয়ামাল। স্পেনের সবচেয়ে কম বয়সী তারকা ফুটবলার। বার্সেলোনা এবং স্পেন জাতীয় ফুটবল দলের হয়ে খেলা তরুণ এ ফুটবলারের বিভিন্ন সাক্ষাৎকার থেকে অনুপ্রেরণার কথা তুলে এনেছেন ইমরান খান
১৬ বছর পূর্ণ হওয়ার অপেক্ষা না করে কোচ জাভি হার্নান্দেজ আমাকে মাঠে নামিয়েছিলেন। লা লিগায় আমার সেই অভিষেক নিজের কাছে ছিল অনেক বড় চ্যালেঞ্জ! প্রথম ম্যাচে নামার সময় কোচ বলেছিলেন, ‘কিছু করার চেষ্টা কর।’ এই কথা আমার কানে বাজে সবসময়। সে জন্যে আমি মাঠে নামলে কিছু করার চেষ্টা করি।
বেড়ে ওঠা...
স্পেনের মাতারো শহরের রোকাফোন্দা এলাকায় খুব সাধারণ এক পরিবারে আমার জন্ম। বুঝ হওয়ার পর থেকে দেখছি, আমার পরিবার সংগ্রাম করে যাচ্ছে টিকে থাকার জন্য। আমার মায়ের বাড়ি গিনি আর বাবার বেড়ে ওঠা মরক্কোয়। বাবা মুনির নাসরাওয়ানি এবং মা শিলা অভিবাসী হিসেবে স্পেনে থিতু হয়েছিলেন। ফলে তাদের জীবনসংগ্রামী হওয়াটা স্বাভাবিক! তো জন্ম শহর রোকাফোন্দায় অসংখ্য অভিবাসী পরিবারের ছেলেমেয়ের সঙ্গে আমার বেড়ে ওঠা।
পোস্টকোডে গোল উদযাপন
মাত্র চার বছর বয়সে স্থানীয় ক্লাব লা তরেতার হয়ে ফুটবলযাত্রা শুরু আমার। দুই বছর শেষ না হতে মানে ছয় বছর বয়সে বার্সেলোনার বিখ্যাত লা মাসিয়া একাডেমিতে যোগ দিই। তখন থেকে আমি পরিশ্রম করতাম আর লিওনেল মেসি, নেইমার ও রোনালদিনহোর খেলা দেখতাম। ছোটবেলা থেকে গোল উদযাপনের একটা বিশেষ ভঙ্গির কথা ভাবতাম। ভাবতে ভাবতে হাত দিয়ে ৩০৪ দেখানোর বিশেষ উদযাপন পদ্ধতি খুঁজে বের করলাম। এই ৩০৪ হচ্ছে আমার শহরের পোস্টকোডের শেষ তিন ডিজিট।
আগের দিনের চেয়ে আরও ভালো হতে চাই
বিশ্বকাপ আমার জীবনের বড় অর্জনের একটি–এ কথা বলতে পারি। তাই বলে এখানেই স্বপ্ন শেষ করতে চাই না। আমি প্রতিনিয়ত নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার জন্য পরিশ্রম করি। ব্যক্তিগতভাবে আমি প্রতিদিন আগের দিনের চেয়ে আরও ভালো খেলোয়াড় হতে চাই।
মা-বাবার জীবনের লড়াই
অনেকে বিশ্বকাপের আগে-পরে আমার কাছে জানতে চেয়েছিলেন, এত বড় আসরে খেলা আমার কাছে চাপ হয়ে ধরা দেয় কিনা? আমি আসলে ফুটবল খেলাকে বড় চাপ মনে করি না। যতটা চাপ মনে করি আমার মা-বাবার জীবনের লড়াইটাকে। মা যখন কিশোরী ছিলেন তখন তাঁকে অনেক কষ্ট করে সংসার চালাতে হয়েছে। ভরণপোষণ জোগাতে বাবাও করেছেন অমানবিক কষ্ট। সেই কষ্টের চেয়ে ফুটবল খেলা বড় সুযোগ বটে।
সতীর্থদের প্রতি কৃতজ্ঞতা
বার্সা এবং জাতীয় দলের হয়ে আমি প্রতিনিয়ত পরিশ্রম করি। এ পরিশ্রমের প্রতি আছে আমার অগাধ বিশ্বাস। অসংখ্য পরাজয় বা ব্যর্থতা আমাকে কষ্ট দিয়েছে। আমি পরিশ্রম করে ফের ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। সতীর্থরা সবসময় আমাকে সাপোর্ট দিয়েছে। আমার যত একক এবং দলগত সাফল্য সব পরিশ্রম আর সতীর্থদের কল্যাণে। সে জন্যে আমি সবসময় তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ।
- বিষয় :
- প্রেরণার কথা