মজাদার ফল
শরীরের পুষ্টি চাহিদা অনেকটাই পূরণ করে মৌসুমি ফল
জান্নাতুন নূর নাঈমা
প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬ | ০৭:১৪
| প্রিন্ট সংস্করণ
সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে প্রতিদিন মৌসুমি ফল খাওয়া অত্যন্ত জরুরি। এসব ফলে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন, মিনারেল, খাদ্যআঁশ (ফাইবার), পানি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা শরীরকে সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
এখন বর্ষাকাল চলছে। তারপরও মিলছে নানা ধরনের গ্রীষ্মের ফল। বাজারে এখন পাওয়া যাচ্ছে আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু, লটকন, আনারস, তরমুজ, পেয়ারাসহ নানা ধরনের মৌসুমি ফল। ক্যালোরির চাহিদা অনুযায়ী এ ধরনের মৌসুমি ফলগুলো গ্রহণ করতে পারলে শরীরের পুষ্টি চাহিদা অনেকটাই পূরণ করা সম্ভব। এখন বিভিন্ন ধরনের আম বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। এটি বাঙালির খুব পছন্দের একটি ফল। আমে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-সি, ভিটামিন-এ, ফোলেট, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ফ্রুক্টোজ। যে কোনো বয়সের মানুষই সারাদিন একটা থেকে দুটি আম গ্রহণ করতে পারেন। যাদের শারীরিক জটিলতা রয়েছে, তারা অন্য ফলের পরিবর্তে কিংবা অন্য কোনো খাবারের সঙ্গে বদল করে আম গ্রহণ করতে পারেন ১০০-১৫০ গ্রামের মতো।
জাতীয় ফল কাঁঠাল কার্বোহাইড্রেট, ফাইবার, পটাশিয়াম এবং ভিটামিন-এ এর ভালো উৎস। স্বাভাবিক মানুষ পাঁচ বা ছয় টুকরার মতো কাঁঠাল খেতে পারেন। তবে যারা ওজন কমাতে চাচ্ছেন বা যাদের ট্রাই গ্লিসারাইড হাই বা ডায়াবেটিস রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে, অন্যান্য ফল কিংবা খাবারের পরিবর্তে ২ বা ৩ পিস গ্রহণ করা উচিত।
লিচুতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-সি, পটাশিয়াম এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। যাদের উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে বা পটাশিয়াম কম তাদের জন্য লিচু ভালো উৎস হতে পারে। সে ক্ষেত্রে অবশ্যই সারা দিনে পাঁচ থেকে ছয়টা লিচু গ্রহণ করা যেতে পারে। তবে যাদের ব্লাড সুগার বেশি থাকে বা হজমে সমস্যা রয়েছে, অবশ্যই তিন থেকে চারটার বেশি না খাওয়াই ভালো।
তরমুজ খুবই হাইড্রেটিং একটা ফল। তরমুজে রয়েছে লাইকোপ্যান, ভিটামিন-এ এবং ভিটামিন-সি। ১০০-১৫০ গ্রাম তরমুজ স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করা যেতে পারে। যাদের পানিশূন্যতার সমস্যা রয়েছে তাদের জন্য তরমুজ খুবই উপকারী। ডায়াবেটিক এবং কিডনি রোগীদের জন্য খুব একটা না খাওয়াই ভালো।
আনারসও রসালো একটি ফল। এতে রয়েছে ভিটামিন-সি, ম্যাঙ্গানিজ ও কপার। স্বাভাবিক মাত্রায় ১০০-১৫০ গ্রামের মতো আনারস খাওয়া যেতে পারে।
জ্বরের রোগীদের জন্য আনারস খুব ভালো কাজ করে। ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে থাকলে ডায়াবেটিক রোগীরাও অল্প পরিমাণে খেতে পারবেন।
জাম খুবই লো ক্যালোরির একটি ফল। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আয়রন, ভিটামিন-সি, ফাইবার এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। যারা ওজন কমাতে চান বা ব্লাড সুগার হাই থাকে বা যাদের অ্যানিমিয়ার সমস্যা রয়েছে তাদের জন্য জাম খুবই ভালো একটি ফল। এ ক্ষেত্রে ১৫০-২০০ গ্রাম জাম তারা অনায়াসে গ্রহণ করতে পারেন।
লটকনে রয়েছে ভিটামিন-সি, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, আয়রন এবং ফাইবার। কম ক্যালোরির ফল হওয়ার কারণে যে কোনো ধরনের মানুষই গ্রহণ করতে পারেন ছয় থেকে সাতটির মতো। তবে যাদের গ্যাসের সমস্যা রয়েছে তারা এড়িয়ে চলতে পারেন।
মূলত যে কোনো একটি ফলের ওপর জোর না দিয়ে সব ধরনের মৌসুমি ফল পরিমিত পরিমাণে এবং ভিন্ন ভিন্ন দিনে গ্রহণ করতে পারলেই সুস্বাস্থ্য বজায় রাখা অনেকটাই সম্ভব।
লেখক: চিফ ডায়েটিশিয়ান, ইউনিকো হসপিটাল
- বিষয় :
- ফল
