জলবায়ু সংকট
অর্থনীতির মানবিক রূপান্তর
সৌরবিদ্যুৎ চালিত সেলাই মেশিনের কারণে লায়লা বেগম এখন স্বাবলম্বী। ছবি:: একশনএইড
শাহেরীন আরাফাত
প্রকাশ: ০৩ মে ২০২৬ | ০৭:২৯ | আপডেট: ০৫ মে ২০২৬ | ১৪:১৮
| প্রিন্ট সংস্করণ
একুশ শতকের মানবসভ্যতা আজ এমন এক অভূতপূর্ব যুগসন্ধিক্ষণে এসে দাঁড়িয়েছে, যার একদিকে রয়েছে প্রযুক্তির চোখধাঁধানো উৎকর্ষ আর অন্যদিকে অনিয়ন্ত্রিত কার্বন নির্গমনের ফলে সৃষ্ট ভয়াবহ জলবায়ু বিপর্যয়। এই দুই বিপরীতমুখী স্রোতের জাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছে আমাদের চেনা পৃথিবী। তাকে বাঁচাতে হলে দরকার যুগান্তকারী অর্থনৈতিক ও সামাজিক দর্শন–‘জাস্ট ট্রানজিশন’ বা ‘ন্যায়সংগত রূপান্তর’। লিখেছেন শাহেরীন আরাফাত
-------------------------------------------------------------------------------
‘জাস্ট ট্রানজিশন’ কোনো রাতারাতি গজিয়ে ওঠা তাত্ত্বিক শব্দ নয়। এর শিকড়ে লেগে আছে ঘাম আর সংগ্রামের ইতিহাস। গত শতকের সত্তরের দশকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যখন পরিবেশ দূষণ রোধে ক্ষতিকর কারখানাগুলো বন্ধ করার প্রবল দাবি উঠছিল, তখন সেখানকার ট্রেড ইউনিয়নগুলো একটি মোক্ষম প্রশ্ন ছুঁড়ে দেয়–‘পরিবেশ রক্ষার নামে কারখানা বন্ধ হলে সাধারণ শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ও জীবনের নিরাপত্তা কে দেবে?’
শ্রমিকদের দাবি ছিল অত্যন্ত যৌক্তিক। তারা বুঝিয়ে দিয়েছিল, দূষণকারী শিল্প থেকে বেরিয়ে আসার এই রূপান্তর প্রক্রিয়ায় শ্রমিকদের ‘গিনিপিগ’ বা বলির পাঁঠা বানানো চলবে না। তাদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থান, সামাজিক নিরাপত্তা, পুনর্বাসন এবং ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে হবে। অর্থাৎ পরিবেশ বাঁচানোর লড়াই আর শ্রমিকের অধিকার রক্ষার লড়াই কোনোভাবেই পরস্পরবিরোধী হতে পারে না; বরং তারা একে অপরের পরিপূরক। এই যুগান্তকারী দাবিটিই পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) এবং জাতিসংঘের ২০১৫ সালের ঐতিহাসিক প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে ‘জাস্ট ট্রানজিশন’ বা ‘ন্যায্য রূপান্তর’ হিসেবে বৈশ্বিক স্বীকৃতি লাভ করে।
তাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বর্তমান পরিবেশগত সংকটের মূলে রয়েছে পুঁজিবাদের আগ্রাসী ও মুনাফালোভী চরিত্র। জলবায়ু পরিবর্তন কার্যত মনোপলি পুঁজির কাঠামোগত শোষণেরই এক ভয়াবহ বহিঃপ্রকাশ। পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় প্রকৃতি এবং মানুষ–উভয়কেই সস্তা কাঁচামাল বা ‘কমোডিটি’ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। মার্ক্সবাদ যেমন একটি বৈষম্যহীন সমাজের স্বপ্ন দেখে, ঠিক তেমনি ‘জাস্ট ট্রানজিশন’ কথা বলে এমন এক শোষণমুক্ত রূপান্তরের, যেখানে মুষ্টিমেয় পুঁজিপতির একচেটিয়া আধিপত্যের বদলে সাধারণ মানুষ ও পরিবেশের স্বার্থই হবে শেষ কথা।
অর্থনীতির দুই স্তম্ভ এবং নারী শ্রমিকের ভবিষ্যৎ
বাংলাদেশের শিল্প খাতে প্রায় এক কোটি ২০ লাখ মানুষ ঘাম ঝরান, যা দেশের মোট জিডিপির ৩৪ শতাংশের জোগান দেয়। এর মধ্যে কেবল তৈরি পোশাক ও নির্মাণ খাত (ইট, সিমেন্ট, লোহা ইত্যাদি) শিল্প জিডিপির ৭৪ শতাংশ এবং কর্মসংস্থানের ৮০ শতাংশ (প্রায় এক কোটি শ্রমিক) দখল করে আছে। তৈরি পোশাক খাতের এ বিশাল শ্রমশক্তির প্রাণভোমরা হলেন আমাদের নারী শ্রমিকরা। ভয়াবহ তথ্য হলো, দেশের মোট শিল্পবর্জ্য নির্গমনের প্রায় অর্ধেকই আসে এ দুটি খাত থেকে, যার প্রধান কারণ কারখানায় সরাসরি জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানো।
এই দুই খাতে কর্মরত শ্রমিকদের প্রায় ৯০ শতাংশই অপ্রাতিষ্ঠানিক। তাদের গড় আয় জীবনযাত্রার ন্যূনতম ব্যয়ের চেয়ে প্রায় ৪০ শতাংশ কম। জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কা, তীব্র তাপপ্রবাহ কিংবা গ্রিন টেকনোলজি ও স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রপাতির প্রভাবে কারখানা যখন আধুনিকায়ন করা হয়, তখন সবার আগে চাকরি হারান এই সুবিধাবঞ্চিত ও অদক্ষ নারী শ্রমিকরাই।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘এফএসজি’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আমরা যদি এখনই সচেতন না হই, তবে সবুজ রূপান্তরের নামে নারীর ওপর নেমে আসবে এক নীরব বিপর্যয়। জেন্ডার বৈষম্যের কারণে অটোমেটেড মেশিন চালানোর প্রশিক্ষণ ও দায়িত্ব নারীর বদলে পুরুষদের দেওয়া হবে। এর ফলে পোশাক খাতে নারীর অংশগ্রহণ বর্তমান ৫৫ শতাংশ থেকে ভয়াবহভাবে কমে ২৫ শতাংশে নেমে আসতে পারে। বাধ্য হয়ে এই নারীরা যুক্ত হবেন আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ও স্বল্প আয়ের পেশায়।
উন্নয়ন খাতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা এবং ইন্টেলিক্যাপ অ্যাডভাইজরি সার্ভিসেসের ব্যবস্থাপক (সার্কুলার অ্যাপারেল ইনোভেশন ফ্যাক্টরি) ধীমান হালদার তৈরি পোশাক খাতে নারীর ব্যাপক অংশগ্রহণ সম্প্রতি কমে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, ‘তৈরি পোশাকশিল্পে নারীর অবদান শুধু এই সেক্টরকে সমৃদ্ধ করেছে তাই নয়, এটি তাদের সরাসরি যুক্ত করেছে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে। এখন ডিজিটালাইজেশন এবং অটোমেশনের ফলে তাদের চাকরিতে টিকে থাকার যে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলা করার জন্য সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনা জরুরি। পোশাকশিল্প থেকে একজন নারীর ঝরে পড়া মানে একটি সম্ভাবনার মৃত্যু এবং সন্তানদের শিক্ষা, চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে।’

ডিজিটালাইজেশন, অটোমেশন বা কোনো উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ফলে কেউ যেন জীবিকার অধিকার থেকে বঞ্চিত না হয়। বাস্তবতার নিরিখে জীবিকা পরিবর্তনের দরকার হতে পারে। এ ক্ষেত্রে ন্যায়সংগত রূপান্তর জরুরি।
এ কাজের জন্য দরকার এক বৈচিত্র্যময় অর্থনীতির বিকাশ। ধীমান হালদার জানান, বহুমাত্রিক প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে এই ন্যায়সংগত রূপান্তরের কাজটি করা হয়। প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে তাদের প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হচ্ছে; যেন তারা খাপ খাইয়ে নিতে পারে। অন্যদিকে বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্যও জোর দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে একশনএইড, কেয়ার, আইএলও, এশিয়া ফাউন্ডেশনসহ বেশ কয়েকটি দেশি-বিদেশি সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান এই কাজে যুক্ত রয়েছে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে যেতে হবে
একশনএইড বাংলাদেশ-এর ব্যবস্থাপক–জাস্ট এনার্জি ট্রানজিশন আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘রূপান্তর একটি চলমান প্রক্রিয়া। তবে সভ্যতার বিভিন্ন লগ্নে এই রূপান্তর কখনও কখনও অত্যন্ত দ্রুত ঘটেছে। বর্তমান জলবায়ু পরিবর্তন ও বিপুল প্রযুক্তি উদ্ভাবনের যুগে সমাজ ও সভ্যতার নানামুখী রূপান্তর ঘটছে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে। জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত থেকে এই গ্রহকে সুরক্ষা দিতে হলে প্রচলিত ব্যবস্থার বিপুল পরিবর্তন অত্যাবশ্যক। বিশেষত জ্বালানি রূপান্তর, প্রচলিত জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে যেতে হবে। কারণ জলবায়ু পরিবর্তনের মূল কারণ কার্বন নির্গমন, যার প্রায় ৮০ শতাংশের জন্য দায়ী জ্বালানি খাত। অন্যদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ বিপুল প্রযুক্তি উদ্ভাবনও নানাভাবে মানুষ ও পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। জলবায়ু ও প্রযুক্তি পরিবর্তনের ফলে যে বিপুল রূপান্তরের মধ্য দিয়ে পৃথিবীকে যেতে হচ্ছে তার নেতিবাচক প্রভাব থেকে মানুষ ও পরিবেশকে সুরক্ষা দেওয়াই ন্যায্য রূপান্তরের মূল কথা। প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশকেও ন্যায্য রূপান্তর প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এটি বাস্তবায়ন করতে হলে ন্যায্য রূপান্তর নীতি কাঠামো তৈরি করা জরুরি। বাংলাদেশে এখনও তেমন কোনো নীতি কাঠামো গড়ে ওঠেনি। ন্যায্য রূপান্তর বাস্তবায়ন করতে হলে অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতি কাঠামো গড়ে তোলার ওপর জোর দিতে হবে। যাতে লিঙ্গ, বয়স, জাতি, ধর্ম সবাই অন্তর্ভুক্ত হবে এবং সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। সম্পদের ওপর সবার অধিকার ও সমবণ্টন নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও উন্নত দেশগুলোকেও এ ক্ষেত্রে ইতিবাচকভাবে এগিয়ে আসতে হবে। এখন অনেক সংগঠনই ন্যায্য রূপান্তর নিয়ে কাজ করছে। এই পর্যায়ে প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট অংশীজন ও নাগরিকদের সচেতন ও তথ্যসমৃদ্ধ করার মতো কাজগুলোই বেশি হচ্ছে। এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক পক্ষগুলোর সক্রিয় ভূমিকা না রাখা একটা বড় চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সচেতন হয়ে ওঠা জরুরি এবং একইসঙ্গে ন্যায্য রূপান্তরের নীতি-কাঠামো না থাকাও কাজ করার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ।’
বৈপরীত্য ও নাগরিক দাবিনামা
বাংলাদেশের জ্বালানি খাত এক অদ্ভুত বৈপরীত্যের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। দেশে জীবাশ্ম জ্বালানির উল্লেখযোগ্য কোনো নিজস্ব মজুত নেই, অথচ আমাদের মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৯৭ শতাংশই পূরণ হচ্ছে এই জীবাশ্ম জ্বালানি পুড়িয়ে। এর মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়; যার পেছনে বছরে ব্যয় হয় প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকা। অন্যদিকে, বাংলাদেশে ৫০ থেকে ৩০০ গিগাওয়াট সৌর ও বায়ুবিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে। এ প্রেক্ষাপটে নাগরিক সমাজ ও জলবায়ু অধিকারকর্মীরা বিভিন্ন সময়ে দাবি উত্থাপন করেছেন। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে জরুরি রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও দায়বদ্ধতা। নিম্নোক্ত দাবিগুলোকে রাজনৈতিক দলের কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা দরকার বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
১. বিদেশনির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি সার্বিক ‘জাতীয় জ্বালানি রূপান্তর নীতিমালা’ প্রণয়ন করতে হবে, যা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ভিত্তি হবে।
২. ‘বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন’কে (বিইআরসি) একটি স্বাধীন, শক্তিশালী ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষম প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হবে।
৩. ২০৩০ সালের মধ্যে জাতীয় জ্বালানির কমপক্ষে ৩০ শতাংশ, ২০৪০ সালের মধ্যে ৫০ শতাংশ এবং ২০৫০ সালের মধ্যে ১০০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদনের আইনি বাধ্যবাধকতা তৈরি করতে হবে।
৪. আমদানিনির্ভরতা ন্যূনতম ১০ শতাংশে নামিয়ে আনতে হবে।
৫. নবায়নযোগ্য জ্বালানির যন্ত্রাংশ আমদানিতে আগামী ৫ বছরের জন্য শূন্য শুল্ক বা কর রেয়াত সুবিধা দিতে হবে।
৬. ডিজেলচালিত সেচ পাম্পের অন্তত ৪০ শতাংশকে দ্রুত সৌর পাম্পে রূপান্তর করতে হবে।
৭. বিদ্যুৎকেন্দ্রের নামে কৃষিজমি অধিগ্রহণ বন্ধ করতে হবে। পতিত জমি, জলাশয় (ভাসমান সৌর প্রকল্প) এবং ভবনের ছাদকে (রুফটপ সোলার) অগ্রাধিকার দিতে হবে।
৮. নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তিকে একটি রপ্তানিযোগ্য খাত হিসেবে গড়ে তুলতে গবেষণা ও দেশীয় উদ্ভাবনে অর্থায়ন করতে হবে।
৯. জ্বালানি খাতের নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
১০. শিক্ষাব্যবস্থায় কারিগরি কারিকুলাম অন্তর্ভুক্ত করে তরুণদের জন্য সবুজ কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।
১১. জাতীয় বাজেটে নবায়নযোগ্য জ্বালানির জন্য পৃথক ও পর্যাপ্ত বরাদ্দ রাখতে হবে।
১২. ২০৩১ সালের মধ্যে দেশের প্রতিটি সংসদীয় এলাকায় বিদ্যুতের মোট চাহিদার কমপক্ষে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিতে হবে। সংসদীয় এলাকার সব প্রধান ও উপ-সড়কের পাশে সৌরশক্তি চালিত সড়কবাতি স্থাপন করতে হবে।
‘জাস্ট ট্রানজিশন’ কেবল কোনো কেতাবি শব্দ বা পরিবেশবাদীদের স্লোগান নয়। এটি একুশ শতকের নতুন অর্থনৈতিক দর্শনের ডাক। জলবায়ু পরিবর্তন আজ আর কেবল কোনো ‘পরিবেশগত সমস্যা’ নয়, এটি মানবজাতির অস্তিত্ব রক্ষার এক চূড়ান্ত ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধ’। আমরা যদি এখনই শিল্প খাতে সবুজ প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে না পারি, তবে আমাদের উন্নয়নের এই জাঁকজমকপূর্ণ ‘অর্থনৈতিক অলৌকিকতা’ তাসের ঘরের মতো ধসে পড়বে। একটি বাসযোগ্য, মানবিক ও নিরাপদ পৃথিবীর স্বার্থে এই ‘ন্যায়সংগত রূপান্তর’ আজ কেবল কোনো বিকল্প নয়, বরং আমাদের টিকে থাকার একমাত্র শর্ত।
প্যারিস জলবায়ু চুক্তি কার্যত বৈশ্বিক নীতিগত প্রশ্নে মৌলিক ধারণাগত পরিবর্তন এনেছে। এই চুক্তিতে ন্যায়সংগত রূপান্তরের ধারণাকে প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি দেওয়া হয়। এতে স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশেও এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন আবশ্যক। তবে এর জন্য একটি প্রয়োজনীয় কাঠামো যেমন তৈরি করতে হবে, তেমনি থাকতে হবে সমাজের সব অংশের অংশীদারিত্ব।
