ঢাকা শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

আলোচনা করে খেলা ফেরানোর সিদ্ধান্ত

আলোচনা করে খেলা ফেরানোর সিদ্ধান্ত
×

ছবি: সমকাল

ক্রীড়া প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৯ মে ২০২০ | ১২:০০ | আপডেট: ৩০ মে ২০২০ | ০০:৩৪

করোনাভাইরাস বিস্তারে গত ১৬ মার্চ এক প্রজ্ঞাপন জারি করে দেশের সব ধরনের খেলাধুলা স্থগিত করার ঘোষণা দেয় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। দেখতে দেখতে আড়াই মাস হতে চলল স্থবির হয়ে রয়েছে দেশের ক্রীড়াঙ্গন। ফেডারেশনগুলোর গেটে ঝুলছে তালা। খেলোয়াড়দের পদচারণাহীন স্টেডিয়ামগুলো বিশ্রামে হয়ে উঠেছে সবুজ। খেলায় ফেরার উদাত্ত আহ্বান এই সবুজের। করোনাভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবিলা করে অনেক দেশই খেলাধুলা শুরু করলেও বাংলাদেশে ফেরার অপেক্ষা আরও বাড়তে পারে।

কারণ এখনও নিয়ন্ত্রণে আসেনি দেশের করোনাভাইরাস পরিস্থিতি। বরং দিন দিন আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে চলেছে। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল জানান, খেলাধুলা মাঠে ফেরাতে অপেক্ষার প্রহর গুনছেন তারা। দেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে মাঠে গড়াতে পারে খেলা। সে সিদ্ধান্তটা নিতে হবে স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা করে সর্বসম্মতিতে।

কভিড-১৯ মহামারির কারণে বাতিল করা হয়েছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ ফুটবল মৌসুম। অন্য খেলার অনেক আন্তর্জাতিক ইভেন্টই স্থগিত রয়েছে। তবে খেলা মাঠে ফেরাতে দেশের ফেডারেশনগুলোর মধ্যে ক্রিকেট বোর্ড অগ্রগামী। পরিকল্পনা পর্যায়ে অনেকটাই এগিয়ে গেছে বিসিবি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল থেকে স্বাস্থ্যবিধিও পেয়ে গেছে বোর্ড। দেশের পরিস্থিতি অনুকূলে এলে প্রস্তুতি পর্বে যেতে পারে বিসিবি।

এ ব্যাপারে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, 'সবকিছুই নির্ভর করছে পরিস্থিতির ওপর। এককভাবে সিদ্ধান্ত দেওয়ার সুযোগ নেই। আমাদের স্টেকহোল্ডার যারা আছে, সবার সঙ্গে আলাপ করেই খেলাধুলা স্থগিত করা হয়। আবার স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে কথা বলে জানাতে পারব কখন ও কী পরিসরে খেলা শুরু করা যেতে পারে। অস্ট্রেলিয়া খেলা চালু করছে। ইউরোপে ফুটবল হচ্ছে। পেপারে দেখলাম টি২০ বিশ্বকাপও হবে। বৈশ্বিক খেলা শুরু হলে তাতে আমাদের অংশগ্রহণও নিশ্চিত করতে হবে। দেশে কভিড-১৯ পরিস্থিতির উন্নতি হলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কীভাবে খেলা চালু করা যায় সেটা নিয়ে স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা করে সর্বসম্মতিতে একটা সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।'

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনে এপ্রিলে হওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশ গেমস। বিশাল এই ক্রীড়াযজ্ঞ এ বছর করা সম্ভব হবে কিনা আদৌ জানা নেই। যদিও গেমস আয়োজনের আশা ছাড়ছেন না বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) মহাসচিব শাহেদ রেজা, 'করোনাভাইরাসের প্রকোপ কমে গেলেই আমরা মিটিং ডাকব। নিজেদের মধ্যে আলোচানা করে একটা জায়গায় পৌঁছানোর পর ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বসব। প্রয়োজনে ভাগেভাগে গেমসের খেলা হবে। আশা করি, দেশে শিগগিরই খেলাধুলা ফিরবে।'

খেলাধুলা মাঠে ফেরাতে বেশ কয়েকটি ফেডারেশন তৎপরতা শুরু করেছে। বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান জানালেন, শিগগিরই নির্বাহী কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে অ্যাথলেটিক্স চালুর ব্যাপারে। তিনি বলেন, 'আমরা সভাপতির কাছে একটি সভার তারিখ চেয়েছি। সেটা ঠিক হয়ে গেলে সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে করণীয় সম্পর্কে। পরবর্তী এক বছরের একটা পরিকল্পনা থাকবে। কীভাবে গেমগুলো করব, ক্যাম্পগুলো কীভাবে হবে, সেগুলো নিয়ে চিন্তাভাবনা করছি। সিদ্ধান্তগুলো সভার মধ্যে হবে।'

বাংলাদেশ হ্যান্ডবলের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান কহিনুর জানালেন, 'আমরা সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি। আমাদের সব প্রস্তুতিই আছে। পরিস্থিতি ভালো হলেই নেমে পড়ব। যেহেতু সরকারি অফিসগুলো খুলে দিচ্ছে, মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। মন্ত্রীকে বেজ করেই সিদ্ধান্তগুলো নিতে হবে। আমি মনে করি, খেলাধুলা শুরু করা যায়। যারা সুস্থ আছে তারা খেলবে। এভাবে থেমে থাকলে বরং বিশাল ক্ষতি হয়ে যাবে।' খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিসিবির মতো চটপটে না হলেও দেশের বেশিরভাগ ফেডারেশনই খেলাধুলা মাঠে ফেরাতে পরিকল্পনা করছে।

আরও পড়ুন

×