ফরিদগঞ্জে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপে সংঘর্ষ
সংঘর্ষের সময় ভাঙচুর করা গাড়ি
চাঁদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৮ মে ২০২২ | ১১:০৮ | আপডেট: ০৮ মে ২০২২ | ১১:০৮
চাঁদপুরে ফরিদগঞ্জে এমপি ও উপজেলা চেয়ারম্যান সমর্থক ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের দফায় দফায় সংঘর্ষে উভয়পক্ষের কমপক্ষে ২০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের কারণে চাঁদপুর-ফরিদগঞ্জ-রায়পুর সড়কে যান চলাচল কিছু সময় বন্ধ হয়ে যায়।
সংঘর্ষ চলাকালে বেশকিছু সিএনজি চালিত স্কুটারসহ গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। সংঘর্ষে গুরুতর আহত ব্যক্তিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ নানা স্থানে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তবে তাদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
রোববার সকালে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া শুরু হয়। দুই গ্রুপের একটি ফরিদগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম রোমানের সমর্থক হিসেবে পরিচিত। অন্যটি ফরিদগঞ্জের এমপি মুহাম্মদ শফিকুর রহমানের সমর্থক হিসেবে পরিচিত।
স্থানীয়রা জানায়, সকাল থেকেই ছাত্রলীগের দু'গ্রুপের উত্তেজনা সংঘর্ষ শুরু হয় যা সন্ধ্যা পর্যন্ত চলতে থাকে। স্থানীয় কালির বাজার চৌরাস্তা, ভাটিয়ালপুর চৌরাস্তা, কড়ৈইতুলী চৌরাস্তা, জামতলা নারিকেলতলাসহ বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ ছড়ায়। উভয়পক্ষের নেতাকর্মীরা লাঠিসোটা, ইটপাটকেল নিয়ে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ায় লিপ্ত হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ১৪ এপ্রিল ফরিদগঞ্জের সাবেক সাংসদ শামছুল হক ভূঁইয়ার অনুসারী উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মাহাবুব আলম সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম সুজনকে সরিয়ে ফরিদগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম রোমান অনুসারীদের মধ্য থেকে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জহির উদ্দিন মিজি ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন খান নতুন উপজেলা ও পৌর কমিটি অনুমোদন দেন। এতে বাকি বিল্লাহকে সভাপতি এবং জহির পাটওয়ারীকে সাধারণ সম্পাদক করে ফরিদগঞ্জ উপজেলা কমিটি ও রাকিবুল হাছানকে সভাপতি ও সাহাদাত হোসেন শান্তকে সাধারণ সম্পাদক করে ফরিদগঞ্জ পৌর কমিটির (আংশিক) অনুমোদন দেওয়া হয়।
পরে এই কমিটি মেনে না নিয়ে সড়ক অবরোধসহ ফরিদগঞ্জে মিছিল করে পদবঞ্চিত ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফরিদগঞ্জের এমপি শফিকুর রহমান জেলা ছাত্রলীগের অনুমোদিত কমিটিকে বাদ দিয়ে কামরুল হাছানকে সভাপতি ও আল আমিন আহমেদকে সাধারণ সম্পাদক করে ফরিদগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগ ও গাজী আলী নেওয়াজকে সভাপতি ও হৃদয় মিজিকে সাধারণ সম্পাদক করে ফরিদগঞ্জ পৌর কমিটি ঘোষণা দেন। এর পরপরই সংঘর্ষ আর ক্ষোভ নতুন করে শুরু হয়। যা ফরিদগঞ্জের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে এবং রোববার সংঘাতের রূপ নেয়।
এদিকে আইনশৃঙ্খলার বিষয়ে ফরিদগঞ্জের ওসি মোহাম্মদ শহিদ হোসেন বলেন, পুরো ফরিদগঞ্জের বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশ কাজ করছে। পরিস্থিতি এখন পুলিশের নিয়ন্ত্রণে। আমরা আইনশৃঙ্খলার অবনতি হয় এমন কোনকিছু দেখলেই কঠোর থেকে কঠোর অবস্থান নেব।
