ঢাকা শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬

ফেসবুকে ধর্মীয় অবমাননা নিয়ে উত্তেজনা

ভোলায় পুলিশ-জনতা সংঘর্ষে নিহত ৪, আহত শতাধিক

ভোলায় পুলিশ-জনতা সংঘর্ষে নিহত ৪, আহত শতাধিক
×

আহত একজনকে উদ্ধার করে নিয়ে যাচ্ছে বিক্ষোভকারীরা -সমকাল

ভোলা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০১৯ | ০১:৫৯ | আপডেট: ২০ অক্টোবর ২০১৯ | ০৯:৪১

ফেসবুকে একটি বিভ্রান্তিকর তথ্যের সূত্র ধরে রোববার তুলকালাম ঘটে গেছে ভোলার বোরহানউদ্দিনে। ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে সেখানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের এক যুবকের বিচারের দাবিতে 'তৌহিদী জনতা'র ব্যানারে বিক্ষোভ থেকে পুলিশের সঙ্গে এলাকাবাসীর ব্যাপক সংঘর্ষ বাধে। একপর্যায়ে পুলিশের গুলিতে এক কিশোরসহ চারজন নিহত হন। 

দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে ১০ পুলিশ সদস্যসহ শতাধিক লোক আহত হয়েছেন। রোববার সকাল ১১টার দিকে উপজেলা সদরের বোরহানউদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয় এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। 

নিহতরা হলেন-বোরহানউদ্দিন উপজেলার মহিউদ্দিন পাটওয়ারীর ছেলে স্থানীয় মাদ্রাসাছাত্র মাহবুব পাটওয়ারী (১৪), উপজেলার কচিয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের দেলোয়ার হোসেনের ছেলে পলিটেকনিকের ছাত্র মো. শাহিন, বোরহানউদ্দিন পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মাহফুজ (৪৫) ও মনপুরা হাজিরহাট এলাকার বাসিন্দা মিজানুর রহমান (৪০)। 

আহতদের বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ভোলা সদর হাসপাতাল ও বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে, সংঘর্ষ চলাকালে উত্তেজিত জনতা বোরহানউদ্দিন বাজারে ভাওয়াল বাড়ির একটি মন্দির ও সাতটি ঘর ভাঙচুর করেছে বলে জানা গেছে।

বিপ্লব চন্দ্র শুভ নামের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের এক যুবকের ফেসবুক থেকে হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে কটূক্তির একটি স্ক্রিনশট ভাইরাল হলে দু'দিন ধরে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। পুলিশ বলছে, বিপ্লব নামের ওই যুবকের হ্যাক হওয়া আইডি থেকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার বক্তব্য ছড়ানোর ঘটনা থেকে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের বিপ্লব নামের এক যুবকের ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে উপজেলাজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। নিজের ফেসবুক হ্যাকড হয়েছে জানিয়ে শনিবার থানায় জিডি করতে গেলে ওই যুবককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে পুলিশ। ওই যুবকের বিচার চেয়ে রোববার স্থানীয় ঈদগাহ মাঠে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেয় 'তৌহিদী জনতা' ব্যানারে স্থানীয় লোকজন। সমাবেশের জন্য পুলিশ অনুমতি দেওয়ার আগে থেকেই তারা মাইকিং করে। কিন্তু সমাবেশের জন্য পুলিশ অনুমতি না দিলেও সকাল ৯টা থেকে লোকজন মাঠে জড়ো হতে থাকে। মিছিল করতে না পেরে সেখানেই অবস্থান নেয় তারা। পরে পুলিশ 'বাটামারা পীর সাহেব' মাওলানা মহিবুল্লাহকে সেখান থেকে সরে যাওয়ার অনুরোধ করে এবং তাকে ঈদগাহ জামে মসজিদের দোতলায় নিয়ে যায়। ওই সময় গুঞ্জন ওঠে, মাওলানা মহিবুল্লাহকে পুলিশ আটক করেছে। এ গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনার পর পরই বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। দুপুরের পর থেকে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। সেখানে বিপুলসংখ্যক বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশ ও কোস্টগার্ডের সদস্য মোতায়েন রয়েছেন বলে জানিয়েছেন বোরহানউদ্দিন থানার ওসি এনামুল হক।

পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার বলেন, বিপ্লব চন্দ্র শুভ নামের একজনের আইডি হ্যাকড করা নিয়ে এ ঘটনা ঘটেছে। হ্যাকডে যারা জড়িত, সন্দেহজনক এমন কয়েকজনকে পুলিশ আটক করেছে। শনিবার বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ইমামদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলাম। বৈঠকে তারা আশ্বস্ত করেছিলেন, রোববার প্রোগ্রাম হবে না। কিন্তু সকাল থেকে জানতে পারলাম, মাইক এনে মঞ্চ বানাচ্ছে। পরে পুলিশ মোতায়েন করি এবং আমি ঘটনাস্থলে আসি। শুরুতে পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ ছিল। আমি কথা বলার পর সবাই চলে যাবে বলেছিল। মঞ্চ থেকে নেমে চলে যাওয়ার সময় উত্তেজিত জনতা আমাদের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। তখন আমরা ঈদগাহ মাঠসংলগ্ন মসজিদের দোতলায় অবস্থান নিই। ওইখানে আক্রমণ করে দরজা-জানালা ভেঙে ফেললে আত্মরক্ষার্থে শটগানের ফাঁকা গুলি করি।

আরও পড়ুন

×