ঢাকা শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

‘ব্যাবাক খালি কথা দিছে, কেউ কথা রাখেনি’

‘ব্যাবাক খালি কথা দিছে, কেউ কথা রাখেনি’
×

হাসেম আলী খান -সমকাল

নাজিরপুর (পিরোজপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২০ | ২৩:০৩

বয়সের ভারে নুব্জ্য হাসেম আলী খান। বার্ধক্যজনিত কারণে নানা রোগে-শোকে দীর্ঘদিন ধরে ভুগছেন তিনি। বয়স হয়েছে ৯৭ বছর। চিকিৎসা দূরের কথা, তিন বেলা খাবার জোটানোও তার জন্য কষ্টকর। জীবনের শেষ সময়ে একটু সচ্ছলতার আশায় বয়স্ক ভাতার কার্ডের জন্য ধরনা দিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে। আশ্বাস মিললেও এখনো জোটেনি কোনো কার্ড।

হাসেম আলী খানের বাড়ি পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলার শাখারীকাঠী ইউনিয়নের চালিতাবাড়ী গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের মৃত সোনামুদ্দিন খান ছেলে। জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী তার জন্ম তারিখ ১৯২৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, বয়স্ক ভাতা পাওয়ার ক্ষেত্রে নারীর বয়স সর্বনিম্ন ৬২, আর পুরুষের বয়স সর্বনিম্ন ৬৫ বছর। সে অনুযায়ী হাসেম আলী খানের অনেক আগেই বয়স্ক ভাতা পাওয়ার যোগ্য হলেও এত দিনেও কেউ তার সহযোগিতায় এগিয়ে আসেনি।

এলাকাবাসী ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হাসেম আলী খানের স্ত্রী বছর খানেক আগে মারা গেলে তিনি আরো অসহায় হয়ে পড়েন। তিন ছেলে বিয়ে করে তাদের স্ত্রী সন্তান নিয়ে আলাদা সংসারে থাকেন। দুই মেয়ের অনেক আগেই বিয়ে হয়ে গেছে। তারাও তাদের ছেলে মেয়ে নিয়ে স্বামীর বাড়িতে বসবাস করেন। হাসেম আলী খান তার বড় ছেলে কৃষক শাহজাহান খানের ঘরে বসবাস করলেও তিনিই তার সংসার চালতে হিমশিম খাচ্ছেন। সেখানে পিতা ভরণপোষণ ও চিকিৎসার ব্যয় বহন করা তার জন্যও কঠিন হয়ে পড়ছে।

স্থানীয়রা মো. জাকারিয়া মোল্লা বলেন, হাসেম আলী খান আমার প্রতিবেশী। তার ছেলেদের অবস্থাও তেমন একটা ভালো না। অর্থনৈতিক সংকট ও অসুস্থতাজনিত কারণে হাসেম আলী খান বর্তমানে অনেকটা মনবেতর জীবন যাপন করছের।

হাসেম আলী খান বলেন, ‘স্ত্রী মারা গেছে বছর খানেক আগে। সে মরে গিয়ে বেঁচে গেছে। আমি এখন অসহায়ভাবে বেঁচে আছি। এটাকে বেঁচে থাকা বলে না। ছেলেরা তাদের সংসারই ঠিকমতো চালাতে পারে না। সেখানে আমার ভরণ পোষণ ও চিকিৎসা ব্যয় কিভাবে বহন করবে। বড় ছেলে শাহজাহান খানের ঘরে থাকলেও মাঝে মাঝে আত্মীয় স্বজন ও বিয়ে দেয়া দুই মেয়ে কিছু সাহায্য করে, তা দিয়ে নিজে হাট বাজার করে এই মাঝে মাঝে বয়সে রান্না করেও খেতে হয়। অসুস্থ হলে ঠিকমতো ওষুধ কিনে খেতে পারি না। একটু খেয়ে-পড়ে চলার জন্য ম্যালা দিন ধরে চেয়ারম্যান-মেম্বারদের বয়স্ক ভাতার কর্ডের জন্য কত্তবার গেছি, হিসাব নাই। ব্যাবাক খালি কথা দিছে, কেউ কথা রাখেনি। আর কত বয়স হলে আমাকে কার্ড দিবে?’

এ ব্যাপারে শাখারীকাঠী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আকতারুজ্জামান গাউস বলেন, ‘এত বয়স্ক একজন অসহায় মানুষের এখনো ভাতার কার্ড হয়নি, এটা আমার জানা ছিল না। আমি চেয়ারম্যান হওয়ার পর তিনি আমার কাছে এ ব্যাপারে আসেননি। তবে স্থানীয় ইউপি সদস্যের সঙ্গে কথা বলে আমি তার একটা বয়স্ক ভাতার কার্ড করে দেওয়ার ব্যবস্থা করে দেব।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ওবায়দুর রহমান বলেন, ৯৭ বছর বয়সেও বয়স্ক ভাতার কার্ড না পাওয়ার বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। তিনি যাতে কার্ড পান অবশ্যই সে ব্যবস্থা করা হবে।

আরও পড়ুন

×