ঢাকা মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

খুলনার শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্প

১৩ বছরে তিন দফায় সংশোধন ব্যয় বেড়ে তিন গুণ, ভোগান্তি

১৩ বছরে তিন দফায় সংশোধন  ব্যয় বেড়ে তিন গুণ, ভোগান্তি
×

 হাসান হিমালয়, খুলনা 

প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৬ | ০৭:৪৪

| প্রিন্ট সংস্করণ

১৩ বছর পার হলেও শেষ হয়নি খুলনার মাত্র পৌনে চার কিলোমিটারের শিপইয়ার্ড সড়ক প্রকল্পের কাজ। তিন দফার সংশোধনীতে প্রাথমিক ব্যয়ের চেয়ে তিন গুণ বেড়ে এখন খরচ দাঁড়িয়েছে ২৮০ কোটি টাকায়। গত ৯ মাস ধরে কাজ পুরোপুরি বন্ধ থাকায় ভাঙাচোরা সড়কে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী। প্রকল্পটির এই মন্থরগতির জন্য খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) চরম অব্যবস্থাপনা ও ঠিকাদারের গাফিলতিকেই দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা। 

সরেজমিন দেখা গেছে, দীর্ঘ ৯ মাস ধরে সড়কটির নির্মাণকাজ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। সংস্কারের অভাবে রূপসা সেতুর অ্যাপ্রোচ অংশের গর্তগুলো এখন ডোবায় রূপ নিয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ছে রাস্তাটি। ভাঙাচোরা আর কাদা-পানির 
এই সড়কে প্রতিনিয়ত ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। দুর্ভোগ লাঘবে এই সড়কের দাবি জাতীয় সংসদ পর্যন্ত গড়িয়েছে। খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) প্রশাসক এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের চিঠি দিলেও বাস্তবে কাজের কোনো গতি নেই। 

১৩ বছরে ব্যয় বাড়ল ১৮১ কোটি টাকা 
কেডিএ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালের ৭ মে যখন প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন পায়, তখন এর প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল ৯৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা। নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শুরু করতে না পারায় ২০২০ সালে প্রথম সংশোধনীতে ব্যয় বাড়িয়ে করা হয় ২৫৯ কোটি টাকা। সে সময় একনেক সভায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কাজ শেষ না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু তাতেও টনক নড়েনি কর্তৃপক্ষের। এরপর আরও পাঁচ বছর পার হলেও প্রকল্পের কাজ অর্ধেকও শেষ হয়নি। নির্মাণ সামগ্রীর দাম বাড়া এবং নকশা পরিবর্তনের অজুহাতে সম্প্রতি তৃতীয় দফায় প্রকল্প সংশোধন করে ব্যয় ধরা হয়েছে ২৮০ কোটি টাকা। গত মার্চে প্রকল্পটি পূর্ত মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। চলতি মাসেই সংশোধিত প্রকল্পটি একনেক সভায় ওঠার কথা রয়েছে। 
মাত্র ৩ দশমিক ৭৮ কিলোমিটারের এই সড়ক প্রশস্তের প্রকল্পটিতে জমি অধিগ্রহণ করতেই কেডিএ সময় পার করেছে দীর্ঘ ৯ বছর। ২০২২ সালের জানুয়ারিতে ১৫৫ কোটি টাকার মূল কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আতাউর রহমান লিমিটেড অ্যান্ড মাহাবুব ব্রাদার্স প্রাইভেট লিমিটেড। ১৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে তাদের সড়কটি চার লেনে প্রশস্ত করে পুনর্নির্মাণ, দুই পাশে ড্রেন ও ফুটপাত, সড়কের মাঝে দশমিক ৯২ মিটার ডিভাইডার, লবণচরায় ৬৬ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতু এবং মতিয়াখালীতে স্লুইসগেট ও কালভার্ট নির্মাণের জন্য কথা ছিল। ২০২৪ সালের জুনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও দুই বছরে তারা অর্ধেক কাজও করতে পারেনি। গাফিলতির অভিযোগে গত বছরের আগস্টে তাদের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে কেডিএ। ২৪ আগস্ট নতুন দরপত্র আহ্বান করা হলেও কোনো যোগ্য প্রতিষ্ঠান খুঁজে না পাওয়ায় কাজ বর্তমানে পুরোপুরি বন্ধ। 

প্রকল্পের এমন বেহাল অবস্থার বিষয়ে খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক আরমান হোসেন জানান, রূপসা সেতুর অ্যাপ্রোচ অংশে কার্পেটিং করার কথা ছিল। যানবাহনের চাপ বেড়ে যাওয়ায় ওই অংশে রিজিড পেভমেন্ট (কংক্রিট ঢালাই) দেওয়ার সিদ্ধান্ত হওয়ায় ব্যয় কিছুটা বেড়েছে। তিনি বলেন, সংশোধিত প্রকল্প পাসের প্রক্রিয়া চলছে এবং নতুন ঠিকাদার নিয়োগ করে দ্রুত কাজ শুরু হবে। এবার ২০২৭ সালের ৩০ জুনের মধ্যে কাজ শেষ করা সম্ভব হবে বলেও জানান তিনি। 
খুলনার এই গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়কটির এমন দশায় ক্ষুব্ধ নগরবাসী। স্থানীয়দের অভিযোগ, ১৩ বছরেও মাত্র পৌনে ৪ কিলোমিটার রাস্তা না 
হওয়া প্রশাসনের চরম ব্যর্থতা। কাজ বন্ধ থাকায় ব্যবসা-বাণিজ্য ও যাতায়াতে যে ক্ষতি হচ্ছে, তার দায় কে নেবে? 

আরও পড়ুন

×