চট্টগ্রাম পুলিশে ‘শুদ্ধি অভিযান’
সারোয়ার সুমন, চট্টগ্রাম
প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬ | ০৭:৪৬ | আপডেট: ২০ জুন ২০২৬ | ০৮:৪৬
| প্রিন্ট সংস্করণ
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশে (সিএমপি) চলছে ‘শুদ্ধি অভিযান’। শুরুতে ওসি, পরিদর্শকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে হয়েছে গণবদলি। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে আটজন ওসি ও আট পরিদর্শককে বদলি করা হয়েছে। এর মধ্যে খুলশী ও কর্ণফুলী থানার দুই ওসিকে দুই দিনের ব্যবধানে দুইবার করে বদলি করা হয়েছে চারবার। এখন ধরা হয়েছে আরও ঊর্ধ্বতনদের। দুই অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (এডিসি) এবং তিন উপপুলিশ কমিশনারকে (ডিসি) একযোগে বদলি করা হয়েছে।
দায়িত্বশীলরা মনে করেন, ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে মারধর ও হেনস্তার ঘটনার পর পুলিশ প্রশাসনের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার করা, থানাগুলোতে সেবার মান বাড়ানোর সুযোগ এবং অভিযোগ থাকা ব্যক্তিদের বার্তা দেওয়ার উদ্দেশ্যে এমন গণহারে বদলি করা হচ্ছে।
তবে পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী বলছেন, এটি কোনো শাস্তিমূলক বদলি নয়। জনস্বার্থে এই বদলি আদেশ জারি করা হয়েছে। এতে পুলিশ প্রশাসনের কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।
গত ১৫ জুন রাতে এক আদেশে পাঁচজন ওসি ও তিনজন পরিদর্শককে একযোগে বদলি করা হয়। এর দুই দিন পর ১৭ জুন রাতে একযোগে আরও তিন থানার ওসি ও পাঁচজন পরিদর্শকের বদলি আদেশ আসে। ১৮ জুন আরেক আদেশে বদলি করা হয় দুই অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ও তিন উপপুলিশ কমিশনারকে।
দুই ওসির চার বদলি
কর্ণফুলী থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া কাজী মাসুদ ইবনে আনোয়ারকে দুই দিনের ব্যবধানে দুইবার বদলি করা হয়েছে। ১৭ জুনের আদেশে তাঁকে ডিবি দক্ষিণে বদলি করা হয়। ১৫ জুন সিটিএসবি থেকে এনে তাঁকে কর্ণফুলীর ওসি পদে পদায়ন করা হয়েছিল। একই চিত্র দেখা গেছে খুলশী থানার ওসি মোহাম্মদ সোলাইমানের ক্ষেত্রেও। গত ১৩ জুন বাকলিয়া থেকে বদলি করে সোলাইমানকে খুলশী থানায় আনা হয়েছিল। কিন্তু ১৫ জুন আবার তাঁকে সিটিএসবিতে পদায়ন করা হয়।
১৭ জুন রাতের আদেশে যাদের নাম
গত ১৭ জুনের আদেশ অনুযায়ী, কোতোয়ালি থানার ওসি আফতাব উদ্দিনকে লাইনওয়ারে সংযুক্ত করা হয়েছে। তাঁর স্থানে লাইনওয়ারের পুলিশ পরিদর্শক আবু জায়েদ মোহাম্মদ নাজমুন নূরকে কোতোয়ালি থানার নতুন ওসি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। কর্ণফুলী থানার ওসি কাজী মাসুদ ইবনে আনোয়ারকে বদলি করে তাঁর স্থলে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের পরিদর্শক মো. ইখতিয়ার উদ্দিনকে কর্ণফুলী থানার ওসি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
একইভাবে সদরঘাট থানার ওসি কাজী মো. মাহফুজ হাসান সিদ্দিকীকে ডিবি বন্দরে বদলি করা হয়েছে। তাঁর স্থলে সিএমপির এস্টেট অ্যান্ড বিল্ডিং শাখার পরিদর্শক মোহাম্মদ শরীফকে সদরঘাট থানার ওসি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। এ ছাড়া লাইনওয়ারের পরিদর্শক নুর আহমদকে
কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটে এবং পরিদর্শক হাছান আকতার আহমেদকে ডিবি উত্তরে বদলি করা হয়েছে।
১৫ জুন বদলি করা হয় ৫ ওসিসহ ৮ জনকে
১৫ জুনের অফিস আদেশে, কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহীনুর আলমকে ডবলমুরিং থানায়, খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে সিটিএসবি সিএমপিতে পদায়ন করা হয়েছে। এ ছাড়া ডবলমুরিং থানার ওসি জামাল উদ্দিন খানকে সিটিএসবি সিএমপিতে, কাজী মাসুদ ইবনে আনোয়ারকে কর্ণফুলী থানার ওসি পদে পদায়ন করা হয়েছে।
অপরদিকে খুলশী থানার ওসি সোলাইমানকে সিটিএসবিতে পাঠিয়ে তাঁর স্থলে মোজাম্মেল হককে পদায়ন করা হয়েছে। চকবাজার থানার ওসি বাবুল আজাদকে ডিবি দক্ষিণ এবং চান্দগাঁও থানার ওসি নুর হোসেন মামুনকে চকবাজার থানার ওসি পদে পদায়ন করা হয়েছে। ডিবি দক্ষিণের পরিদর্শক জসিম উদ্দিনকে চান্দগাঁও থানার ওসি পদে পদায়ন করা হয়।
বাদ যাচ্ছে না ঊর্ধ্বতনরাও
সর্বশেষ গত ১৮ জুন পৃথক দুই আদেশে সিএমপি কমিশনার দুই অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ও তিন উপপুলিশ কমিশনারের দায়িত্বে বড় ধরনের রদবদল আনেন। এক আদেশে তিনি অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) এবং প্রশাসন ও অর্থ বিভাগের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা ওয়াহিদুল হক চৌধুরীকে ট্রাফিক বিভাগের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে প্রশাসন ও অর্থ বিভাগের দায়িত্ব দেন। আরেক অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়াকে ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার হিসেবে নতুন দায়িত্ব দেন।
পৃথক আরেক আদেশে ডিবি উত্তর বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) মো. হাবিবুর রহমান প্রাংকে দক্ষিণ জোনের ডিসি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। এ ছাড়া ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড ফোর্স শাখার উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ হাসান মোস্তফা স্বপনকে উত্তর জোনের ডিসির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন ঘটনায় আলোচনা ও সমালোচনার মুখে পড়া সিএমপির উত্তর জোনের ডিসি আমিরুল ইসলামকে এবার ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড ফোর্স শাখায় বদলি করা হয়েছে।
বার্তা বিতর্কিতদের
ক্রিকেটার নাঈম হাসানের ইস্যুটি ডিসি আমিরুল ভালোভাবে সমন্বয় করতে পারেননি। আবার সাংবাদিকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করার অভিযোগও আছে তাঁর বিরুদ্ধে। চসিকের দেয়াল লিখন নিয়ে সৃষ্ট বিতর্কেও নাম এসেছিল তাঁর। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি সবসময় আত্মপক্ষ সমর্থন করে বক্তব্য দিয়েছেন। পুলিশ প্রশাসনও এতদিন তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এবার আর শেষ রক্ষা হলো না তাঁর। খুলশী থানায় ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে হেনস্তা করার অভিযোগ ছিল তখনকার ওসি আরিফুর রহমানসহ তিন পুলিশের বিরুদ্ধেও। এটি নিয়ে তদন্ত চলছে। আরিফুরকে এরই মধ্যে প্রত্যাহার করে পুলিশলাইন্সে সংযুক্ত করা হযে়ছে।
১৭ জুন বদলি হওয়া কোতোয়ালি থানার ওসি আফতাবের বিরুদ্ধে এক লাখ ইয়াবা গায়েব করার অভিযোগ আছে।
- বিষয় :
- অভিযান
