ঢাকা শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

ফাহিমের কাছ থেকে ৭৬ লাখ টাকা চুরি করেন টেরেস

ফাহিমের কাছ থেকে ৭৬ লাখ টাকা চুরি করেন টেরেস
×

ফাহিম সালেহর ব্যক্তিগত সহকারী টেরেসকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ-দ্য নিউইয়র্ক টাইমস

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২০ | ০০:৪১ | আপডেট: ১৮ জুলাই ২০২০ | ০০:৫৮

মোবাইল অ্যাপভিত্তিক রাইড সেবাদাতা পাঠাওয়ের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফাহিম সালেহ খুন হওয়ার ঘটনায় তার ব্যক্তিগত সহকারী টেরেস ডেভোন হাসপিলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ফাহিমের কাছ থেকে টেরেস ৭৬ লাখ টাকা চুরি করেছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

২১ বছর বয়সী টেরেসকে শুক্রবার ভোরে গ্রেপ্তার করা হয়।

ফাহিমের ব্যক্তিগত ও আর্থিক বিষয়াদি দেখভাল করতেন টেরেস। শুক্রবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে নিউইয়র্ক পুলিশ জানায়, ফাহিমের কাছ থেকে প্রায় ৯০ হাজার মার্কিন ডলার চুরি করেন টেরেস, যা বাংলাদেশি অঙ্কে ৭৬ লাখ টাকা। বিষয়টি জানার পর ফাহিম তাকে চাকরিচ্যুত করলেও তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেননি। উল্টো মনস্থির করেছিলেন যে, ডলার ফেরত পাওয়ার পর সেখান থেকে টেরেসকে একটা অংশ দেবেন। 

টেরেসের বিরুদ্ধে হত্যা ও অন্যান্য অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। খবর দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির ম্যানহাটনে নিজ অ্যাপার্টমেন্ট থেকে ফাহিমের খণ্ডবিখণ্ড লাশ উদ্ধার করা হয়। আগের দিন থেকে ভাইকে ফোনে না পেয়ে তার ছোট বোন মঙ্গলবার ভবনটির সপ্তম তলায় ফাহিমের অ্যাপার্টমেন্টে ছুটে যান। সেখানে গিয়ে তিনি দেখেন, শরীর থেকে মাথা, হাত ও পা বিচ্ছিন্ন অবস্থায় ফাহিমের লাশ পড়ে আছে এবং শরীরের একটা অংশ পাশের একটি প্লাস্টিক ব্যাগে ভরা। পাশেই পড়ে আছে একটি ইলেকট্রিক করাত।

নিউইয়র্ক পুলিশ জানিয়েছে, ফাহিমকে স্থানীয় সময় সোমবার কোনো এক সময়ে হত্যা করে হত্যাকারী চলে যান। হত্যার ঘটনাকে অন্যদিকে মোড় দিতে পরদিন আবার ওই অ্যাপার্টমেন্টে ফিরে আসেন। 

এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ফাহিম সালেহকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। কোপানোর আগে কোনো কিছু দিয়ে আঘাত করে তাকে অচেতন করা হয়েছিল। হত্যাকারী কালো রঙের স্যুট, সাদা শার্ট ও টাই এবং কালো মাস্ক পরে ফাহিম সালেহর পেছন পেছন ওই অ্যাপার্টমেন্টে ঢুকেছিলেন। এ সময় হত্যাকারীর হাতে একটি ব্যাগও ছিল। লিফটের ভেতর থেকে সংগৃহীত সিকিউরিটি ক্যামেরা থেকে সংগৃহীত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, হত্যাকারী নিজের উপস্থিতি এড়ানোর জন্য বিশেষ কৌশলে ভ্যাকুয়াম ক্লিনার ব্যবহার করেন। হত্যার আলামত মুছে ফেলতে ফাহিমের ক্রেডিটকার্ড ব্যবহার করে ২৩ ম্যানহাটন স্ট্রিট থেকে ফ্লোর ও ঘর পরিষ্কারের সামগ্রী কেনেন। 

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একজন কর্মকর্তা এই হত্যাকাণ্ডকে ‘পেশাদার খুনির মতো কাজ’ বলে উল্লেখ করেছেন।

পুলিশ আরও জানায়, হত্যাকারী ফাহিমের শরীর টুকরো টুকরো করে ব্যাগে ভরার সময় তার বোন ওই অ্যাপার্টমেন্টে প্রবেশ করেন। বিষয়টি টের পেয়ে এরপর সে অ্যাপার্টেন্টের পেছনের দরজা ও সিঁড়ি দিয়ে পালিয়ে যায়।

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ৩৩ বছর বয়সী ফাহিম চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের হরিসপুরের আইবিএমের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার সালেহ আহমেদের ছেলে। ফাহিমের জন্ম ১৯৮৬ সালে। যুক্তরাষ্ট্রের বেন্টলি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইনফরমেশন সিস্টেম নিয়ে পড়াশোনা করতেন ফাহিম। নাইজেরিয়া আর কলম্বিয়াতে তার দুটি রাইড শেয়ারিং অ্যাপ কোম্পানি রয়েছে। পেশায় ওয়েবসাইট ডেভেলপার ফাহিম অ্যাডভেঞ্চার ক্যাপিটাল গ্লোবাল নামক একটি ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠানেরও উদ্যোক্তা ছিলেন।


আরও পড়ুন

×