ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

নদীতে রোমাঞ্চের খোঁজে

‘প্রমত্তা পদ্মাকে জয় করেছি’

‘প্রমত্তা পদ্মাকে জয় করেছি’
×

প্রবাল বর্মণ

প্রবাল বর্মণ

প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৫ | ০৭:২৩ | আপডেট: ১৯ অক্টোবর ২০২৫ | ২০:২৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

বছরের নির্দিষ্ট সময়ে বঙ্গোপসাগরের বুকে আয়োজিত হচ্ছে ‘বাংলা চ্যানেল প্রতিযোগিতা’। এখানে অংশ নেওয়া অনেকেই আন্তর্জাতিক মঞ্চে বিদেশের মাটিতে নানা আয়োজনের অংশ হয়েছেন। ইংলিশ চ্যানেলেও পৌঁছে গেছে লাল-সবুজের পতাকার গল্প। তবে সবকিছুকে ছাপিয়ে গেছে দেশের কয়েকজন দুঃসাহসিক অভিযাত্রীর সাঁতারের রোমাঞ্চকর স্মৃতি। নদীমাতৃক দেশের পানিপথে সাঁতরে নিজেদের অভিজ্ঞতার ঝুলিতে ভরেছেন নানা জনপদের বেঁচে থাকার লড়াই, চ্যালেঞ্জের আড়ালে সৌন্দর্য আর নদী বাঁচানোর স্বপ্ন। এমন সব স্মৃতিকথা নিয়ে আয়োজন সাজিয়েছেন আশরাফুল ইসলাম আকাশ–
-------------------------------------------------------------------------------------

প্রবাল বর্মণ। বেড়ে উঠেছেন বুড়িগঙ্গার তীরঘেঁষা জনপদ কেরানীগঞ্জে। স্বাভাবিকভাবেই নদীর সঙ্গে ভালো বোঝাপড়া তাঁর। সুযোগ এলেই ঝাঁপিয়ে পড়তেন বুড়িগঙ্গায়। পরিণত বয়সে সেটি আর সম্ভব হয়ে ওঠেনি। দীর্ঘদিন পর আবারও পানির সংস্পর্শে এলেন। এবার পেশাদার সাঁতার শিখলেন। তবে সাঁতারু হতে নয়, ফুসফুসের শ্বাস-প্রশাসের কার্যকারিতা বাড়িয়ে পর্বত আরোহণ করাই তাঁর লক্ষ্য ছিল। নিয়তি হয়তো অন্যকিছুই লিখে রেখেছিল। পর্বত আরোহণের পাশাপাশি প্রবাল শুরু করলেন নদী সাঁতরানো।

২০২৩ সালে বাংলা চ্যানেল পাড়ি দিয়েছেন প্রবাল বর্মণ। সাগর সাঁতরালেও তাঁর মনের কোণে জমা হয়েছিল একরাশ আক্ষেপ! দেশের ভেতরে বেয়ে চলা সুন্দর নদীগুলোয় সাঁতরানো হয়নি। যেই চিন্তা সেই কাজ। শুরু করলেন মায়ের দেশের নদী সাঁতরানো। একে একে মেঘনায় চলতি বছরের ১৭ এপ্রিল দুই কিলোমিটার, ধলেশ্বরীতে আগস্ট মাসে দফায় দফায় ৩০ কিলোমিটার এবং প্রমত্তা পদ্মায় ১২ সেপ্টেম্বর সাত কিলোমিটার সাঁতার কেটেছেন তিনি।

‘দ্য গ্রেটার পদ্মা’ অভিযানে সাত কিলোমিটার সাঁতরাতে হয়েছে প্রবালকে। নওডোবা থেকে পদ্মা সেতুর ৩৯, ৪০ ও ৪১ নম্বর পিলার ধরে পালের চরের দিকে এগিয়েছেন। এই অঞ্চলে প্রমত্তা পদ্মার ভয়াবহতা তুলনামূলক কম। স্রোতের অনুকূলে সাঁতার কাটা সহজ। সহজ চ্যালেঞ্জ উতরে পৌনে তিন ঘণ্টায় এই পথ অতিক্রম করেছেন তিনি।

অভিযানটি ক্যারিয়ার সেরা অভিজ্ঞতা জানিয়ে প্রবাল বলেন, ‘সাগরে বাংলা চ্যানেল পাড়ি দিয়েছি। বেশকিছু নদীতেও নেমেছি। তবে পদ্মার মতো বিরল অভিজ্ঞতা এবং ভয়ংকর সুন্দর কিছুই দেখিনি। সাঁতরানোর সময় কখনও দেখেছি মুহূর্তেই বাঁধ ভেঙে নিয়ে যাচ্ছে পদ্মা। হতবাকের মতো চেয়ে চেয়ে দেখছে জনপদের মানুষ। কখনও কখনও আমিও দিকহারা হয়েছি। বিশাল পদ্মার বুকে সঙ্গীদের হারিয়েছি। স্রোতের অনুকূল থেকে প্রতিকূলের মুখোমুখি হয়েছি। তবু হাল ছাড়িনি, মনোবল হারায়নি। প্রমত্তা পদ্মাকে জয় করেছি।’

আরও পড়ুন

×