কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে সখ্য
শাহেরীন আরাফাত
প্রকাশ: ০৪ এপ্রিল ২০২৬ | ০৭:৪৮ | আপডেট: ০৫ এপ্রিল ২০২৬ | ১৯:১৬
| প্রিন্ট সংস্করণ
সভ্যতার ইতিহাসে প্রতিটি বড় প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন মানুষের জীবনযাত্রা বদলে দিয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’ (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স–এআই) যেভাবে আমাদের দৈনন্দিন জীবনে প্রবেশ করেছে, তা অতীতের যে কোনো প্রযুক্তির চেয়ে আলাদা এবং অভূতপূর্ব। এই নতুন বাস্তবতাকে অনুকূলে রাখতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কাজে লাগানোর কৌশল রপ্ত করা জরুরি। লিখেছেন শাহেরীন আরাফাত
--------------------------------------------------
আজকাল করপোরেট কনফারেন্স রুম থেকে শুরু করে স্কুলের শ্রেণিকক্ষ, হাসপাতালের স্বাস্থ্য পরীক্ষা থেকে শুরু করে ডাইনিং টেবিলের আড্ডা–সবখানেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স–এআই)। কিন্তু অতীতের প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের সঙ্গে এর মূল পার্থক্য কোথায়? সহজ কথায় বলতে গেলে, এই উন্নত সিস্টেম এমন সব কাজ করতে সক্ষম, যা আগে শুধু মানুষের পক্ষেই করা সম্ভব ছিল। সবচেয়ে বড় কথা, এরা কাজ করে মানুষের চেয়েও দ্রুতগতিতে।
২০১০-এর দশক থেকেই স্মার্টফোন বা সামাজিক মাধ্যমে অ্যালগরিদমের আড়ালে এআইয়ের ব্যবহার বেড়ে চলছিল। কিন্তু বিশ্বজুড়ে এআই নিয়ে বর্তমানের এই প্রবল উন্মাদনার প্রকৃত সূচনা হয় ২০২২ সালের নভেম্বরে, যখন ওপেনএআই বাজারে নিয়ে আসে ‘চ্যাটজিপিটি’। এটি প্রথম এমন ধরনের চ্যাটবট, যা অভাবনীয় বৈচিত্র্যময় কাজ করতে এবং অবিকল মানুষের মতো কথোপকথন চালিয়ে যেতে সক্ষম। এটি দ্রুতই মানুষের মন জয় করে নেয় এবং ইতিহাসের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল সফটওয়্যার অ্যাপ্লিকেশন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে–মাত্র দুই মাসের মধ্যে এর ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছাড়িয়ে যায় ১০ কোটি!
পিউ রিসার্চ সেন্টারের সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের এক-তৃতীয়াংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ এআই চ্যাটবট ব্যবহার করেছেন এবং কিশোর-কিশোরীদের প্রায় সমান একটি অংশ প্রতিদিন এর সঙ্গে কথা বলে। ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা সত্ত্বেও এআইয়ের গল্পটি এখনও শুরুর পর্যায়েই রয়েছে এবং প্রযুক্তিটি কোনোভাবেই ত্রুটিমুক্ত নয়। তবে এর অভূতপূর্ব কম্পিউটিং ক্ষমতাকে চাইলেই আপনি নিজের সুবিধার্থে কাজে লাগাতে পারেন।
জটিল ডেটা বিশ্লেষণ, বড় কোনো গবেষণাপত্রকে সারসংক্ষেপ করা বা নিজের এলোমেলো নোটগুলোকে একটি কাঠামোর মধ্যে আনার ক্ষেত্রে এআই অতুলনীয়। এআইয়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্যবহারটি হলো ‘ক্রিয়েটিভ থট পার্টনার’ বা সৃজনশীল চিন্তার সঙ্গী হিসেবে। আপনি একটি বাগান করার পরিকল্পনা করছেন, নিজের জীবনবৃত্তান্ত উন্নত করতে চাইছেন, একটি সিনেমার স্ক্রিপ্ট লিখছেন অথবা ছোট ব্যবসার মার্কেটিং কৌশল খুঁজছেন–যে কোনো ক্ষেত্রে এআইয়ের সঙ্গে ব্রেইনস্টর্মিং করতে পারেন। বিশ্বের বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের নির্বাহীরাও বর্তমানে কাজের ফিডব্যাক দেওয়ার জন্য বা যুক্তির ফাঁকফোকর ধরিয়ে দিতে এআই ব্যবহার করছেন।
ব্যক্তিগত জীবনেও এটি দারুণ সহায়ক হতে পারে। রান্নার রেসিপিতে জটিল হিসাবনিকাশ মেলানো থেকে শুরু করে পুরো সপ্তাহের ডায়েট প্ল্যান সাজানো–সবকিছুতেই এআই আপনাকে সাহায্য করতে পারে। আপনি শুধু আপনার পছন্দ-অপছন্দ, সময় এবং বাজেট এআই-কে জানিয়ে দিন; সে আপনাকে এমন একটি রুটিন তৈরি করে দেবে, যা আপনার সময় বাঁচানোর পাশাপাশি মানসিক চাপও কমাবে।
এআই মূলত কী?
এআই হলো এমন একটি প্রযুক্তি, যা কম্পিউটার এবং মেশিনকে মানুষের বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে যুক্ত জটিল কাজগুলো (যেমন: শেখা এবং সমস্যা সমাধান করা) করার সক্ষমতা দেয়। বর্তমানে মানুষ যখন এআই নিয়ে কথা বলে, তখন তারা মূলত ‘জেনারেটিভ এআই’ বা সৃজনশীল এআইয়ের কথা বোঝায়; যা নিজ থেকে লেখা, ছবি, ভিডিও এবং কম্পিউটার কোড তৈরি করতে পারে।
আরও নির্দিষ্ট করে বললে, তারা এআই চ্যাটবট এবং ভার্চুয়াল সহকারীদের কথা বলে, যেগুলো মূলত ‘লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল’ দ্বারা পরিচালিত। এ মডেলগুলো হলো এমন এক অত্যাধুনিক সফটওয়্যার, যা মানুষের ভাষার বিশাল ডেটা ভান্ডার থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত।
আপনি যদি কখনও অ্যামাজনের অ্যালেক্সা বা অ্যাপলের সিরির সঙ্গে কথা বলে থাকেন, তবে আপনি ইতোমধ্যে এআইয়ের প্রাথমিক রূপের সঙ্গে পরিচিত। তবে চ্যাটজিপিটি, গুগলের জেমিনি বা অ্যানথ্রপিকের ক্লডের মতো আধুনিক চ্যাটবটগুলো আরও অনেক বেশি উন্নত। এরা শুধু কণ্ঠস্বরে সীমাবদ্ধ নয়, আপনি এদের দিয়ে টাইপ করাতে পারেন, বিশ্লেষণ করার জন্য বড় কোনো নথিপত্র পাঠাতে পারেন, এমনকি ছবি দিয়েও নানা প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে পারেন।
বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে, এআই সিস্টেমগুলো মূলত বিশাল আকারের ‘প্যাটার্ন-বিশ্লেষক প্রেডিকশন মেশিন’ হিসেবে কাজ করে। ইন্টারনেট জগতে থাকা প্রায় সব টেক্সট বা লেখাকে এই সিস্টেমে ইনপুট দেওয়া হয়েছে, যেন তারা মানুষের ভাষার সম্ভাব্য প্যাটার্নগুলো চিনতে পারে। যখন আপনি চ্যাটবটকে কোনো নির্দেশ বা ‘প্রম্পট’ দেন, তখন এটি তার ডেটা সেট ব্যবহার করে অনুমান করে যে এর পরের শব্দটি কী হওয়া উচিত, যাতে একটি যৌক্তিক ও বোধগম্য বাক্য তৈরি হয়। অর্থাৎ সে নিজে থেকে কিছু জানে না; কিন্তু সে মানুষের কথা বলার ধরন অনুকরণ করতে ও নিখুঁত অনুমান করতে দারুণ পারদর্শী। এআই কি আসলেই মানুষের মতো ‘চিন্তা’ করতে পারে? অক্সফোর্ড এবং কার্নেগি মেলন বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স ও ফিলোসফির অধ্যাপক ভিনসেন্ট কনিটজারের মতে, ‘চেতনা বা ভাবনার প্রশ্নগুলো সব সময়ই খুব কঠিন। এআই ঠিক কোন অর্থে চিন্তা করতে পারে, তা বুঝতে হলে আমাদের আরও অনেক গবেষণা প্রয়োজন।’ তবে একটি বিষয় নিশ্চিত করে বলা যায়, বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনির সিনেমায় দেখানো মানববিধ্বংসী সুপার-ইন্টেলিজেন্স বা স্বয়ংক্রিয় বুদ্ধিমান সত্তা থেকে বর্তমানের এআই যোজন যোজন দূরে।
এআই থেকে সেরাটা বের করে আনার কৌশল
এআই থেকে সেরা ফল পাওয়ার মূল চাবিকাঠি হলো সুনির্দিষ্ট প্রম্পট দেওয়া। এআই শূন্যস্থান পূরণে বেশ পটু, তাই নির্দেশনায় অস্পষ্টতা থাকলে সে নিজের মতো করে এমন কিছু বানিয়ে দেবে, যা আপনার কোনো কাজেই আসবে না। বিজ্ঞাপন সংস্থা ডব্লিউপিপির প্রিন্সিপাল ইঞ্জিনিয়ার এরেন চেলেবির মতে, ‘আপনাকে ভাবতে হবে আপনি এআই দিয়ে কী অনুমান করাতে চান এবং কোন বিষয়গুলো সুনির্দিষ্ট করে বলে দেওয়া প্রয়োজন।’
মনে রাখবেন, এআইয়ের উত্তরের মান সম্পূর্ণ নির্ভর করে আপনার প্রশ্নের মানের ওপর। আপনি যদি শুধু বলেন, ‘আমাকে একটি ব্যবসা শুরু করতে সাহায্য করো’, তবে সে গতানুগতিক উত্তর দেবে। এর বদলে তাকে পটভূমি বুঝিয়ে বলুন–আপনি কে, আপনার বাজেট কত, আপনি কোন ধরনের ব্যবসা করতে চান এবং আপনার লক্ষ্যমাত্রা কী।
এআইয়ের সঙ্গে কাজ করার সময় ‘প্রেক্ষাপট বা কনটেক্সট’ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বসের কাছে একটি কঠিন ই-মেইল লিখতে চাইলে আগে এআই-কে বুঝিয়ে বলুন ই-মেইলটি লেখার কারণ কী, বসের সঙ্গে আপনার সম্পর্ক কেমন, আপনি কতটা বিনয়ী বা দৃঢ় হতে চান। এরপর দেখুন এআই কীভাবে জাদুর মতো একটি নিখুঁত ই-মেইল লিখে দেয়!
ঝুঁকি ও সতর্কতা
যে কোনো শক্তিশালী প্রযুক্তির মতোই এআইয়েরও কিছু অন্ধকার দিক রয়েছে। হার্ভার্ড বিজনেস রিভিউর এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মানুষ এখন থেরাপি এবং নিঃসঙ্গতা কাটানোর সঙ্গী হিসেবে জেনারেটিভ এআই-কে ব্যবহার করছে। এর ফলে অনেকেই বাস্তব জগৎ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে এবং এআইয়ের প্রতি মানসিকভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। এমআইটির এক গবেষণায় দেখা গেছে, চ্যাটবটের অতিরিক্ত ব্যবহার মানুষের মধ্যে একাকিত্বের অনুভূতি আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। দুঃখজনকভাবে, চ্যাটবটের সঙ্গে আসক্তির কারণে আত্মহত্যার মতো ঘটনাও ঘটেছে, যা নিয়ে বিভিন্ন এআই কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলাও চলছে।
আরেকটি বড় সমস্যা হলো, হেলুসিনেশন বা কল্পিত তথ্য প্রদান। চ্যাটবটগুলো প্রায়ই সম্পূর্ণ ভুল বা বানোয়াট তথ্যকে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সত্য বলে উপস্থাপন করে। তাই স্বাস্থ্য, আইন বা আর্থিক বিনিয়োগের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে কখনোই এআইয়ের ওপর অন্ধভাবে নির্ভর করা উচিত নয়। যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের ক্ষেত্রে এআইয়ের কাছে সোর্স বা ওয়েবসাইটের লিঙ্ক চেয়ে নিন এবং নিজে তা যাচাই করুন। ডেটা প্রাইভেসির বিষয়টিও মাথায় রাখা জরুরি। এআইয়ের কাছে নিজের একান্ত ব্যক্তিগত তথ্য, পাসওয়ার্ড বা গোপনীয় ব্যবসায়িক নথি শেয়ার করা থেকে বিরত থাকুন। আপনি যা ইনপুট দিচ্ছেন, তা এআই কোম্পানিগুলোর সার্ভারে জমা হচ্ছে। ‘এআই-কে ঠিক ততটুকুই বিশ্বাস করুন, যতটুকু আপনি একজন অপরিচিত গাড়ির ডিলারকে করেন,’ এরেন চেলেবির এই সতর্কবাণী সবসময় মনে রাখবেন। এআই আপনার কর্মী নয়, এটি বিশাল প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি ব্যবসায়িক পণ্য।
ভবিষ্যতের এআই
প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এখন ‘এআই এজেন্ট’ তৈরিতে কাজ করছে। এগুলো শুধু আপনাকে পরামর্শই দেবে না, বরং আপনার হয়ে নিজে থেকে কাজও করতে পারবে। ধরুন, আপনি শুধু বললেন, ‘আগামী মাসে আমার কক্সবাজার ভ্রমণের ব্যবস্থা করো।’ এরপর এআই এজেন্ট নিজে থেকেই ইন্টারনেটে সার্চ করে, আপনার পছন্দ অনুযায়ী হোটেল খুঁজবে এবং আপনার ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে ফ্লাইট ও হোটেল বুকিং কনফার্ম করে দেবে!
ভবিষ্যতের এই এআই এজেন্টগুলো আক্ষরিক অর্থেই আপনার ব্যক্তিগত সহকারীর মতো কাজ করবে–ইমেইলের রিপ্লাই দেওয়া, মিটিং শিডিউল করা থেকে শুরু করে প্রতিদিনের কাজের রিমাইন্ডার দেওয়া, সবকিছুই তারা সামলাবে। সায়েন্স ফিকশনের সেই ভবিষ্যৎ এখন আমাদের দোরগোড়ায়।
প্রযুক্তি জগতে একটি কথা খুব প্রচলিত–এআই কীভাবে বিবর্তিত হবে, তা কেউই নিশ্চিত করে বলতে পারে না। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এআই নিজে থেকে আমাদের নিয়ন্ত্রণ করবে না; মানুষ হিসেবে আমরাই সিদ্ধান্ত নেব একে কীভাবে ব্যবহার করব, কতটুকু বিশ্বাস করব এবং এর জন্য কী ধরনের নীতিমালা প্রণয়ন করব।
দৈনন্দিন জীবনে এআইয়ের জাদুকরী ব্যবহার
এআই দিয়ে কী করা যায়, তার আসলে কোনো সীমারেখা নেই। কেউ হয়তো এআই ব্যবহার করে তার সন্তানের জন্য একটি সচিত্র গল্পের বই বানাচ্ছেন, কেউ ওয়ার্কআউট প্ল্যান তৈরি করছেন, আবার কেউ শখের পোষা প্রাণীর নাম খুঁজছেন। একজন ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা থেকে জানা যায়, তিনি তাঁর পায়ের পাতার এবং পুরোনো জুতোয় হওয়া ক্ষয়ের ছবি আপলোড করে এআইয়ের কাছে জানতে চেয়েছিলেন কোন রানিং শু-টি তার জন্য সবচেয়ে আরামদায়ক হবে! অনেকে এআই-কে নিজের ব্যক্তিগত ‘চিফ অব স্টাফ’ হিসেবে ব্যবহার করেন। সারাদিনের ক্লান্তি শেষে মাথায় ঘুরপাক খাওয়া দুশ্চিন্তা, অসমাপ্ত কাজের তালিকা এবং এলোমেলো ভাবনাগুলো তারা ক্লড বা চ্যাটজিপিটিতে লিখে ফেলেন। এরপর এআই সেই অগোছালো ভাবনাগুলোকে সুবিন্যস্ত করে পুরো সপ্তাহের একটি সুন্দর রুটিন তৈরি করে দেয়।
স্টিয়ারিং হুইলটা আপনার হাতেই থাকুক
এআইয়ের দুনিয়ায় প্রবেশের সবচেয়ে সহজ উপায় হলো ছোট ছোট কাজ দিয়ে শুরু করা। দেখুন দৈনন্দিন জীবনের কোন একঘেয়ে কাজগুলো এআই সহজে করে দিতে পারে, অথবা কীভাবে এটি আপনার সৃজনশীলতাকে আরও শানিত করতে পারে।
এআই কোথায় আপনাকে সাহায্য করছে আর কোথায় অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি তৈরি করছে, সে বিষয়ে সচেতন থাকুন। আপনার জীবনের কোন কাজগুলো আপনি নিজেই উপভোগ করেন এবং কোন কাজগুলো এআইয়ের হাতে ছেড়ে দিতে চান, তার নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণ আপনার নিজের হাতেই রাখুন।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কোনো জাদুর কাঠি নয়, এটি একটি অত্যন্ত শক্তিশালী হাতিয়ার। এই হাতিয়ারের স্টিয়ারিং হুইলটা সবসময়ের জন্য মানুষের হাতেই থাকা উচিত।
