দেশে নতুন স্বৈরাচারের উত্থান দেখা যাচ্ছে: নাহিদ ইসলাম
ব্যর্থতার দায় নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি
ছবি: সমকাল
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬ | ২০:০৬
হাজারো মানুষের রক্তের বিনিময়ে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে একটি স্বৈরাচারী শাসনের অবসান হয়েছে কিন্তু দেশে এখন নতুন স্বৈরাচারের উত্থান দেখা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, পতিত স্বৈরাচার ও নব্য স্বৈরাচার- দুই শক্তিকেই পরাজিত করা হবে। ব্যর্থতার দায় নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হবে। অন্যথায় আন্দোলনের কর্মসূচি আরও বিস্তৃত করা হবে।
শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে চার দফা দাবিতে আয়োজিত গণবিক্ষোভ সমাবেশে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম।
সমাবেশে নাহিদ ইসলাম বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। জনগণের নিরাপত্তা দিতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। এ ব্যর্থতার দায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের ওপর সবচেয়ে বেশি বর্তায়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনের পরিবর্তে তিনি সংবিধান সংশোধনের কাজে ব্যস্ত রয়েছেন।
এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ও জুলাই সনদের ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত গণভোটের অন্যতম প্রতিশ্রুতি ছিল সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি উপেক্ষা করে একতরফাভাবে সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠন করা হয়েছে। অবিলম্বে এ কমিটি বাতিল করে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করতে হবে। একই সঙ্গে জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, নির্বাচনী ইশতেহার, ৩১ দফা ও জুলাই সনদে দেওয়া প্রতিশ্রুতি থেকে সরে যাচ্ছে বিএনপি। তারেক রহমানের দেশ পরিচালনার সুস্পষ্ট পরিকল্পনা নেই। সরকার দুর্নীতি, লুটপাট, চাঁদাবাজি ও দখলদারত্ব প্রতিষ্ঠার পথে এগোচ্ছে।
ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগের ফিরে আসার প্রসঙ্গ তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, বর্তমান সরকার তাদের মোকাবিলা করতে পারবে না। এ পরিস্থিতিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শক্তি ও তরুণদের আবারও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের প্রসঙ্গেও কথা বলেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র চলছে। সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিক হত্যা, পাহাড়ে অশান্তি এবং ভারতের বিভিন্ন স্থানে মুসলমানদের নিপীড়নের বিষয়গুলো তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ব্যর্থ হয়েছে।
বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে ভারতকে করিডর দেওয়ারও বিরোধিতা করেন এনসিপির আহ্বায়ক। তিনি বলেন, কোনো অবৈধ করিডর বাংলাদেশের জনগণ মেনে নেবে না। আগামী ডিসেম্বরে গঙ্গা চুক্তি ন্যায্যভাবে নবায়ন না হলে জনগণ আবারও আন্দোলনে নামবে।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, সন্ত্রাস ও দখলদারত্ব থেকে মানুষকে মুক্ত করতে এনসিপি কাজ করবে। আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং উত্তরে আসিফ মাহমুদ নির্বাচন করবেন। তাদের বিজয়ী করতে এনসিপি, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থানের নেতাকর্মীরা মাঠে থাকবেন।
সমাবেশে এনসিপির সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেন, নির্বাচনের পর দেশ ঠিক হওয়া তো দূরের কথা, বিএনপি নিজেরাই ঠিক হয়নি। গ্যাসের দাম নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, কলকাতায় এক হাজার টাকায় গ্যাস পাওয়া গেলে বাংলাদেশে কেন আড়াই হাজার টাকা দিতে হবে?
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সমালোচনা করে আখতার হোসেন বলেন, বাজেটের সময় সাধারণত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ে। কিন্তু বিএনপি সরকার দাবি করেছে, বাজেটের সময় কোনো পণ্যের দাম বাড়েনি। বাস্তবে বাজেটের আগে, পরে এবং এখনো প্রতিটি জিনিসের দাম বাড়তির দিকে।
এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, নতুন বাংলাদেশ গঠনের জন্য দলের আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। জনগণের দুঃখ-দুর্দশা দূর করে নতুন বাংলাদেশ গড়াই তাদের লক্ষ্য। ঢাকাকে নতুন করে গড়ে তোলার আন্দোলন শাহবাগ থেকে শুরু হয়েছে। ভবিষ্যতে এ গণবিক্ষোভ দেশের প্রতিটি শহর ও অলিগলিতে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, জুলাইয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ার যে শপথ নেওয়া হয়েছিল, তা বাস্তবায়ন করতে হবে। গণঅভ্যুত্থানে নিহত ব্যক্তিদের হত্যার বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি ওসমান হাদির হত্যার বিচারও বাংলাদেশে নিশ্চিত করতে হবে।
এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এনসিপি ক্ষমতায় যাওয়ার উপযুক্ত হবে। সমাবেশে অংশ নেওয়া মানুষের উদ্দেশে তিনি বলেন, আগামী দিনে তাদের সংখ্যা দ্বিগুণ, পাঁচ গুণ, এমনকি ১০ গুণ হবে বলে তিনি আশাবাদী।