ঢাকা বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬

প্রতিবন্ধিতা অন্তর্ভুক্তিমূলক দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসকরণ-অভিজ্ঞতা বিনিময়

প্রতিবন্ধিতা অন্তর্ভুক্তিমূলক দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসকরণ-অভিজ্ঞতা বিনিময়
×

--

প্রকাশ: ১৮ মার্চ ২০২০ | ১২:০০

বাংলাদেশ দুর্যোগপ্রবণ দেশ। দুর্যোগের সময় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরাই বেশি ঝুঁকিতে থাকে। দুর্যোগ মোকাবিলার কর্মসূচি তাই প্রতিবন্ধীবান্ধব হতে হবে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রতিবন্ধীদের ব্যবহার উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে। প্রতিবন্ধিতা অন্তর্ভুক্তিমূলক দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসকরণ-অভিজ্ঞতা বিনিময় শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেছেন। দৈনিক সমকাল ও অ্যাকশন অন ডিজঅ্যাবিলিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এডিডি) ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশে সম্প্রতি পটুয়াখালীতে যৌথভাবে এই বৈঠকের আয়োজন করে
মো. মতিউল ইসলাম চৌধুরী
বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ এলাকা। উপকূলীয় জেলা হিসেবে পটুয়াখালী তথা কলাপাড়া উপজেলা আরও দুর্যোগপ্রবণ ও ঝুঁকিপূর্ণ। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ বিশ্বে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় রোল মডেল। সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর বছরব্যাপী দুর্যোগ মোকাবিলা কর্মসূচির কারণে দুর্যোগের ঝুঁকি আগের চেয়ে অনেক কমে এসেছে। সর্বশেষ ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের সময় এই জেলায় পৌনে ছয় লাখ লোককে আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া সম্ভব হয়েছে প্রশাসনের পূর্ব প্রস্তুতি থাকার কারণে। দুর্যোগের সময় যেসব এলাকা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ, সেগুলোয় প্রশাসনের নজরদারি থাকে বেশি। দুর্যোগের পূর্বাভাসের সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা মাঠে নেমে পড়ে। প্রতিটি আশ্রয়কেন্দ্রে আলোর ব্যবস্থা, নিরাপত্তা ও খাবারের সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়। কেন্দ্রীয়ভাবে জেলা প্রশাসন দুর্যোগ মোকাবিলায় যে নির্দেশনা দেয় তা তৃণমূলে যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হয়। গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ার মধ্যেও লোকজনকে আশ্রয়কেন্দ্রে নিতে তারা কাজ করেন। তিনি বলেন, এসডিজির লক্ষ্য অর্জনে প্রতিবন্ধীদের অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে যথাযথ পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সর্বশেষ নির্বাচনী ইশতেহারেও এ বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করেছেন। বর্তমানে দাতাদের বলা হয় উন্নয়ন সহযোগী। এ দেশের উন্নয়ন কার্যক্রমে তাদের অধিকতর ও কার্যকরী সহযোগিতা আমাদের কাম্য। আমরা মনে করি প্রতিবন্ধীবান্ধব সমাজ গঠনে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।
মো. হেমায়েত উদ্দিন
এডিডি ইন্টারন্যাশনাল দুই বছরের কর্মসূচিটি সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়ন করায় সংশ্নিষ্ট এলাকার প্রতিবন্ধীদের জীবনমানে পরিবর্তন এসেছে বলে জানান পটুয়াখালীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি-জেনারেল) মো. হেমায়েত উদ্দিন। তিনি বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা দুর্যোগ ঝুঁকির বিষয়ে অনেক সচেতন হয়েছে, এটা ধরে রাখতে হবে। বেসরকারি সংস্থা এডিডি যেসব কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে, তা সরকারের সমাজসেবা অফিসের সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে বাস্তবায়িত হচ্ছে। সরকারি ও বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগে সমাজ আরও এগিয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।


মহিউদ্দিন আহমেদ
বাংলাদেশ দুর্যোগপ্রবণ দেশ। আবার দুর্যোগ মোকাবিলায় বিশ্বে স্বীকৃত মডেল। সরকারি সংস্থাগুলোর পাশাপাশি বেসরকারি সংগঠনগুলোর এই অর্জনে ভূমিকা রয়েছে। দুর্যোগের সময় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা বেশি ঝুঁকির মধ্যে থাকে। দুর্যোগ মোকাবিলার কর্মসূচি তাই প্রতিবন্ধীবান্ধব হতে হবে। দুর্যোগের আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রতিবন্ধীদের ব্যবহার উপযোগী করতে হবে।



সুবোধ কুমার দাস
এএসবি/সিবিএমের আর্থিক সহযোগিতায় ডিআইডিআর আর প্রকল্পের উদ্দেশ্য ছিল দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও তাদের সংগঠনগুলোর সমক্ষতা বৃদ্ধি। ২০১৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত দুই হাজারের অধিক ব্যক্তি এ প্রকল্পের উপকারভোগী। কলাপাড়া উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে/পৌরসভায় এ প্রকল্পের কার্যক্রম চলছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রায় ৭০০ শিক্ষার্থীকে দুর্যোগ মোকাবিলায় সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণ পাওয়া শিক্ষার্থীরা নিজেদের পরিবারের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময় করতে পারছে। শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটির সদস্যদেরও সচেতন করা হয়েছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় গাছসহ বিভিন্ন উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। প্রতিটি ইউনিয়নে প্রতিবন্ধী সংগঠনগুলোকে শক্তিশালী করতে কাজ করা হয়েছে। দুর্যোগে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছে দেওয়ার কাজ করা হয়েছে এই কর্মসূচির আওতায়। প্রতি ইউনিয়নের প্রতিবন্ধী ব্যক্তি থাকা পরিবারগুলোকে চিহ্নিত করা গেছে। এই কর্মসূচির কারণে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা নিজেদের বিষয়ে সচেতন হয়েছে। তারা নিজেদের অধিকার নিয়ে স্বতন্ত্র পরিচয়ে বেঁচে থাকার প্রেরণা পেয়েছে।
এসএম রাকিবুল আহসান
সরকারের উদ্যোগের ফলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বিষয়ে সমাজ সহানুভূতিশীল হয়েছে, যেখানে এক সময় পরিবারও এসব ব্যক্তিকে বোঝা মনে করত। কিন্তু এখন সেই ধারণা পাল্টেছে। তবে অনেক এলাকায় এখনও পর্যাপ্ত সাইক্লোন শেল্টারে যাতায়াতের জন্য রাস্তাঘাট নেই। প্রতিটি ওয়ার্ডে রোগীদের বহন উপযোগী সরঞ্জামাদি সরবরাহ করতে হবে। উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে মাটির রাস্তাঘাট করার সুযোগ নেই। এজন্য জেলা প্রশাসনকে উদ্যোগ নিতে হবে। অথবা উপকূলীয় অঞ্চলের উপজেলা পরিষদকে এ বিষয়ে কাজের সুযোগ দিতে হবে।



ডা. মো. রুহুল আমিন
এসডিজির লক্ষ্য অর্জনে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জীবনমানের উন্নয়ন করতে হবে ও তাদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এসডিজির ১৭টি লক্ষ্যের মধ্যে বেশ কয়েকটিতে এই অন্তর্ভুক্তিকরণের কথা বলা হয়েছে। সমাজের সব কার্যক্রমে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিবন্ধী সংগঠনগুলোকে শক্তিশালী করতে বিশেষ করে নারী ও শিশু এবং বয়স্ক লোকদের বিষয়ে আরও কাজ করতে হবে। দুর্যোগে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছানোর বিষয়ে অগ্রাধিকার দিতে হবে। তাদের নিজেদের অধিকার নিয়ে স্বতন্ত্র পরিচয়ে বেঁচে থাকার জন্য উদ্বুদ্ধ করতে হবে।


নজরুল ইসলাম
ফায়ার সার্ভিস এখন শুধু আগুন নেভানোর কাজ করে না। যে কোনো দুর্যোগ-দুর্ঘটনায় সবার আগে ছুটে যান ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। যেসব সংগঠন দুর্যোগ নিয়ে মাঠ পর্যায়ে কাজ করে, তাদের কাছ থেকে খবর পেলে ফায়ার সার্ভিস কাজে নেমে পড়ে। এসব সংগঠনের সঙ্গে ফায়ার সার্ভিস একত্রে কাজ করে। দুর্যোগ মোকাবিলায় যেসব মহড়া হয় তাতেও মাঠের সংগঠনগুলো অংশ নেয়। দুর্যোগ মোকাবিলায়
ফায়ার সার্ভিস আগের চেয়ে অনেক সক্ষম। দুর্যোগের সময় উদ্ধার কাজে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।


তপন কুমার ঘোষ
দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকার পূর্ব প্রস্তুতি নিয়ে থাকে। ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত জরুরি সহায়তা দেওয়া হয়। আশ্রয়কেন্দ্রগুলো ব্যবহারোপযোগী রাখা হয়। সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর বছরব্যাপী দুর্যোগ মোকাবিলা কর্মসূচির কারণে দুর্যোগের ঝুঁকি আগের চেয়ে অনেক কমে এসেছে। এ কর্মকাণ্ডে অন্যদের পাশাপাশি এডিডি ইন্টারন্যাশনালের ভূমিকা প্রশংসনীয়। ঝুঁকিপূর্ণ সেগুলোয় প্রশাসনের নজরদারি থাকে বেশি। দুর্যোগের পূর্বাভাসের সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা মাঠে থাকেন। প্রতিটি আশ্রয়কেন্দ্রে আলোর ব্যবস্থা, নিরাপত্তা ও খাবারের সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়।


আছাদ উজ্জামান খান
দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসের উদ্দেশ্যে সিপিপি ও এডিডি যৌথভাবে অনেক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে, যেমন- 'মকড্রিল'।
কলাপাড়ার সব আশ্রয়কেন্দ্রে 'বুলবুলে'র সময় পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল। দুর্যোগ মোকাবিলায় সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। গাছসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম বিতরণ করা হয়েছে। সতর্কবার্তা প্রচারসহ দুর্যোগে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছে দেওয়ার কাজ করা হয়।

মাহমুদুল হাসান
এডিডি ইন্টারন্যাশনালের সহযোগিতায় তাদের বিদ্যালয়ে দুর্যোগ মোকাবিলায় করণীয় সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে তারা আপৎকালীন কর্মপরিকল্পনা প্রস্তুত করতে পেরেছেন। প্রতি বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়ে আপৎকালীন প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেরা সচেতন হয়। একই সঙ্গে তারা অর্জিত জ্ঞান তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করে।



মো. সাহাবুদ্দিন মুন্সি
ডালবুগঞ্জ ইউনিয়নটি দুর্যোগ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। বেড়িবাঁধের অবস্থা শোচনীয়। অনেক এলাকায় আশ্রয়কেন্দ্র নেই। যেসব আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে, সেগুলোর যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো নয়। যাতায়াতের রাস্তা নেই। প্রতিটি ওয়ার্ডে রোগীদের বহন উপযোগী সরঞ্জামাদি সরবরাহ করতে হবে।




উম্মে তামিমা বীথি
দুর্যোগের ক্ষতির পরিমাণ আগের চেয়ে অনেক কমেছে। সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলো একসঙ্গে কাজ করছে। সবাই সচেতন হচ্ছে। দুর্যোগে নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধীরা সবচেয়ে ঝুঁকির মধ্যে থাকে। তারা যাতে নিরাপদে আশ্রয়কেন্দ্রে আসতে পারে সে বিষয়ে জনপ্রতিনিধিরা সচেতন থাকেন। বিশেষ করে নদীর পাড়ে যাদের বসবাস, তাদের আশ্রয়কেন্দ্রে আগে নেওয়া হয়। এ সময় আশ্রয়কেন্দ্রগুলোয় পর্যাপ্ত আলো, মোমবাতি, শুকনো খাবার দেওয়া হয়।

শাহানাজ বেগম
এবারের বুলবুলের সময় তিনি প্রথম সতর্কবার্তা পান এডিডির মাধ্যমে। এরপর তারা মাঠে নেমে পড়েন স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে। তিনি বলেন, ২০১৮ সাল থেকে এডিডি তার এলাকায় কাজ শুরুর পর জনগণ প্রতিবন্ধীর প্রতি যেরূপ সচেতন হয়েছে তা আগে ছিল না। এখন প্রতিবন্ধী মানুষের অগ্রাধিকার নিয়ে সবাই ভাবে। এই সংস্থা না থাকলেও জন প্রতিনিধিদের দায়িত্ব হবে তাদের কার্যক্রমকে এগিয়ে নেওয়া।



মুফতী সালাউদ্দিন
উপকূলীয় জেলা হিসেবে পটুয়াখালীর দুর্যোগ মোকাবিলা কর্মসূচি বিশেষ অগ্রাধিকার পায়। সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলো একসঙ্গে কাজ করছে। সবাই সচেতন হচ্ছে। দুর্যোগে নারী শিশু ও প্রতিবন্ধীরা সবচেয়ে ঝুঁকির মধ্যে থাকে। তারা যাতে নিরাপদে আশ্রয়কেন্দ্রে আসতে পারে, সে বিষয়ে কাজ করতে হবে। উপযুক্ত সহযোগিতা পেলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা সমাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।



এহসানুল হক
জাতিসংঘ ঘোষিত সনদ, জাতীয় আইন ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি)- এই তিনটি বিষয়কে সমন্বয় করে প্রতিবন্ধীদের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে হবে। জাতীয় কর্মপরিকল্পনা হয়েছে, কিন্তু সেটি সর্বস্তরে পৌঁছায়নি। এর সঠিক বাস্তবায়ন দরকার। অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় কীভাবে সুযোগ কাজে লাগানো যায়, সেটি নিয়ে ভাবতে হবে।



জেমস রাজীব বিশ্বাস
বাংলাদেশ দুর্যোগপ্রবণ দেশ। আবার দুর্যোগ মোকাবিলায় স্বীকৃত মডেল। এ ক্ষেত্রে সরকারি সংস্থার পাশাপাশি বেসরকারি সংগঠনগুলোর ভূমিকা রয়েছে। দুর্যোগের সময় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা বেশি ঝুঁকির মধ্যে থাকেন। দুর্যোগ মোকাবিলায় করণীয় সম্পর্কে জনগণ সচেতন হচ্ছে। এখন ওয়ার্ড পর্যায়ে দুর্যোগ মোকাবিলা কমিটি হচ্ছে। এতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা আরও সহজে ঝুঁকি এড়াতে পারবেন।




শাহাদত হোসেন
সাইক্লোন শেল্টারে প্রতিবন্ধীদের যাতায়াত, পয়ঃনিস্কাশন ব্যবস্থা পর্যাপ্ত নয়। এ জন্য প্রতিবন্ধীরা এ সময় হতাশ হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, এডিডির কর্মসূচির আওতায় তাদের দুর্যোগ সংকেত সম্পর্কে সচেতন করা
হয়েছে। এরপর তারা দল বেঁধে অন্যদের সচেতন করেছেন।




শিল্পী বিশ্বাস
সরকার প্রতিবন্ধীদের উন্নয়নে কাজ করছে। পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থাগুলোও এ বিষয়ে ভূমিকা রাখছে। তারা প্রতি ঘরে ঘরে গিয়ে প্রতিবন্ধীদের বিষয়ে কাজ করছে। প্রতিবন্ধীদের দুর্যোগ মোকাবিলায় করণীয় নিয়ে সভা-সেমিনার প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। দুর্যোগে সবচেয়ে ঝুঁকির মধ্যে থাকে প্রতিবন্ধী, শিশু ও নারীরা। আশ্রয়কেন্দ্রে সব ধরনের মানুষ আশ্রয় নেয়। এখানে নারী বিশেষ করে যারা গর্ভবতী তাদের নিরাপত্তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। মায়েদের জন্য পৃথক ব্যবস্থা রাখতে হবে।


সুপারিশমালা
  -দুর্যোগসংক্রান্ত বিভিন্ন মিটিংয়ে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে দুর্যোগ বিষয়ে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মতামত প্রদানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।
  -ওয়ার্ড দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটিগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি করে অন্যান্য স্থানীয় সংগঠন (ডিপিও) ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সঙ্গে যোগাযোগ শক্তিশালী করা।
- স্থানীয় সরকার ও উপজেলা শিক্ষা অফিসের সহযোগিতায় স্কুল দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির কার্যক্রম চালু রাখা। এ বিষয়ে স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের আরও সম্পৃক্ত করতে হবে।
- আশ্রয়কেন্দ্রগুলো অধিকতর অন্তর্ভুক্তিমূলক করে উন্নত করা এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি করে দুর্যোগ সতর্ক সংকেত প্রচার ও আশ্রয়কেন্দ্রে নিরাপদে স্থানান্তর করার ব্যবস্থা করা।
- স্থানীয় সরকার ও অন্যান্য সংস্থার (এনজিও/সিএসও) কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করে প্রতিবন্ধিতা অন্তর্ভুক্তিমূলক দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে সহযোগিতা করা।
- প্রতিটি ইউনিয়নে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি ও ডিপিওর মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, গর্ভবতী মা, বয়স্ক নারী-পুরুষের তালিকা করে ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি করতে হবে এবং ঘূর্ণিঝড়ের সময় আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার ব্যাপারে সময়মতো সহযোগিতা করতে হবে।
- ডিপিও/সেলফ-হেল্পগ্রুপগুলোকে আরও যোগাযোগ ও পলিসি অ্যাডেভোকেসির ওপর প্রশিক্ষণ দিতে হবে, যাতে তারা স্থনীয় সরকার ও অন্যান্য সেবা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি করতে পারে।
- প্রকল্পের মাধ্যমে শিক্ষণীয় অর্জন ও অভিজ্ঞতাগুলো লিপিবদ্ধ করে অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে আলোচনা করে ভবিষ্যৎ কর্মসূচি প্রণয়ন করা।
- সফলতার কেসগুলো এবং শিক্ষণীয় বিষয়গুলো লিপিবদ্ধ করে অন্যান্য দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় প্রচার ও মতবিনিময় করার উদ্যোগ গ্রহণ করা।
- এ এলাকার এডিডি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সার্বিক উন্নয়ন কর্মসূচি চলমান রাখার মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক দুর্যোগঝুঁকি হ্রাস বিষয়ে কর্মসূচি ও সহযোগিতা চলমান রাখা।
আলোচক
মো. মতিউল ইসলাম চৌধুরী
জেলা প্রশাসক, পটুয়াখালী
মো. হেমায়েত উদ্দিন
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক), পটুয়াখালী

মহিউদ্দিন আহম্মেদ
মেয়র, পটুয়াখালী পৌরসভা

সুবোধ কুমার দাস
হেড অব প্রোগ্রাম, এডিডি ইন্টারন্যাশনাল, বাংলাদেশ

এসএম রাকিবুল আহসান
চেয়ারম্যান, কলাপাড়া উপজেলা পরিষদ

ডা. মো. রুহুল আমিন
কনসালট্যান্ট, প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য
কেন্দ্র, পটুয়াখালী

মো. নজরুল ইসলাম
সহকারী পরিচালক, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, পটুয়াখালী

তপন কুমার ঘোষ
প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, কলাপাড়া উপজেলা

মো. আছাদ উজ্জামান খান
সহকারী পরিচালক, সিপিপি, কলাপাড়া উপজেলা

মাহমুদুল হাসান
সহকারী প্রধান শিক্ষক, ডালবুগঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলাপাড়া

মো. সাহাবুদ্দিন মুন্সি
প্যানেল চেয়ারম্যান, ১১নং ডালবুগঞ্জ
ইউনিয়ন, কলাপাড়া

উম্মে তামিমা বীথি
কাউন্সিলর, কলাপাড়া পৌরসভা

শাহানাজ বেগম
প্যানেল চেয়ারম্যান, ৭নং লতাচাপলী ইউনিয়ন

মুফতী সালাহউদ্দিন
জেলা প্রতিনিধি, সমকাল, পটুয়াখালী

মো. এহসানুল হক
ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর, সিবিডিআইডিআরআর প্রকল্প, এডিডি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ

জেমস রাজীব বিশ্বাস
প্রোগ্রাম অফিসার, ওয়ার্ল্ড কনসার্ন বাংলাদেশ

মো. শাহাদত হোসেন
সভাপতি, আলোর দিশারী প্রতিবন্ধী উন্নয়ন সংগ্রাম সংস্থা, ১১নং ডালবুগঞ্জ ইউনিয়ন

শিল্পী বিশ্বাস
সদস্য, ইউনিয়ন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি

অনুলিখন

হাসনাইন ইমতিয়াজ
স্টাফ রিপোর্টার, সমকাল

আরও পড়ুন

×