ঢাকা শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন

খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন
×

পরিবারের পুরুষ সদস্যরা গেছেন আম্পানে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামতের কাজে। তারা ফিরলেই সংস্থান হবে খাবারের। সেই আশায় অপেক্ষায় শিশুসহ নারীরা। খুলনার কয়রা উপজেলার ঘাটাখালী গ্রামের ছবি- সমকাল

খুলনা ব্যুরো, কয়রা ও দাকোপ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৯ মে ২০২০ | ১২:০০ | আপডেট: ২৯ মে ২০২০ | ১৪:৫১

দাকোপ পৌরসভার পশুর নদের তীরে খাসজমিতে টিনের ঘর তুলে বাস করতেন ফেরিওয়ালা আবু জাফর হোসেন। ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রথম ধাক্কায় ঘরের চালসহ একাংশ উড়ে যায়। পরে জোয়ারের ধাক্কায় পুরো ঘরই নদে ভেসে গেছে।

আবু জাফর সমকালকে জানান, গত ৯ দিন তিন শিশু ও স্ত্রীকে নিয়ে নদের তীরে উঁচু জায়গায় পলিথিন দিয়ে ঝুপড়ি ঘর বেঁধে থাকছি। জোরে বাতাস এলেই শিশুরা ভয়ে কেঁপে উঠছে। কেউ কোনো সাহায্য করছে না।

কয়রা উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের দশহালিয়া গ্রামে চিংড়িচাষি মিজানুর মোড়লের বাড়ি। ভেঙে যাওয়া বাঁধের পানিতে দু'বেলা তলিয়ে যাচ্ছে তার বাড়ি। একই অবস্থা আশপাশের ৫২টি পরিবারের। মিজানুর মোড়ল বলেন, সবাই দেখতে আসছেন, সাহায্য নিয়ে আসছেন না কেউই।

আম্পানের তাণ্ডবে ঘর হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছেন খুলনার উপকূলীয় কয়রা, দাকোপসহ পাঁচটি উপজেলার লক্ষাধিক মানুষ। এখনও খোলা আকাশের নিচে বাস করছেন অনেকেই। সরকারি সাহায্য পৌঁছেনি দুর্গত এসব এলাকায়। বেসরকারি পর্যায়ের ত্রাণ তৎপরতাও চোখে পড়ছে না। দাকোপ ও কয়রা উপজেলা ঘুরে ঘূর্ণিঝড়-পরবর্তী মানুষের কষ্ট ও সংগ্রামের নানা দৃশ্য দেখা যায়। এর মধ্যে কয়রার অবস্থা সবচেয়ে করুণ। রাস্তায় ক্ষুধার্ত নারী ও শিশুকে খাবারের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

দাকোপ উপজেলা সদরের চালনা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পশুর নদের তীরে নোলোপাড়া। ভূমিহীনরা এখানে খাসজমিতে বাস করেন। তাদেরই একজন দিনমজুর হেলাল সরদার। তিনি সমকালকে বলেন, ঝড়ে সব শেষ। এখন পাশের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছি। করোনার জন্য কাজ নেই। ছয়জনের পরিবার নিয়ে না খেয়ে মরার অবস্থা হয়েছে। দাকোপ ইউএনও আবদুল ওয়াদুদ বলেন, ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্য ও বেড়িবাঁধ দ্রুত সংস্কারের জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে। কয়রার ইউএনও শিমুল কুমার সাহা বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে যেটুকু পেয়েছি, তা বণ্টন করেছি। আরও বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে দেখলেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী :দাকোপ ও পাইকগাছায় আম্পানে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা শুক্রবার পরিদর্শন করেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক। এ সময় খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য হুইপ পঞ্চানন বিশ্বাস, খুলনা-৬ আসনের সংসদ সদস্য আক্তারুজ্জামান বাবু, সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য গ্লোরিয়া ঝর্ণা সরকার, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মাহমুদুল ইসলাম, পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত মহাপরিচালক হাবিবুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন

×