করোনাকাল
প্রাণ পেয়েছে প্রকৃতি
সবুজে ছেয়ে আছে বান্দরবানের মেঘলা লেক-সমকাল
উজ্জ্বল তঞ্চঙ্গ্যা, বান্দরবান
প্রকাশ: ২৯ মে ২০২০ | ১২:০০ | আপডেট: ২৯ মে ২০২০ | ১৪:৫১
কচি পাতা ও ফুলে ভরে গেছে রাস্তার দু'পাশের গাছের সারি। ডালে ডালে পাখিদের আনাগোনা। রাস্তায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে পাতা আর ফুল। চারদিকে সবুজে ভরপুর। পাখির কলকাকলি, ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক, সরীসৃপদের নির্ভয় চলাচল- অচেনা এক প্রকৃতি নেমে এসেছে বান্দরবানের পর্যটন স্পট নীলাচলে। অবশ্য শুধু নীলাচল নয়- মেঘলা, শৈলপ্রপাত, চিম্বুক, নীলগীরিসহ অন্যান্য পর্যটন স্পটগুলোতেও দেখা দিয়েছে প্রকৃতির মুক্ত খেলা।
করোনাভাইরাসের প্রভাবে এবার পর্যটন মৌসুমেও পর্যটকদের পা পড়েনি বান্দরবানের স্পটগুলোতে। এই সুযোগে প্রকৃতি এসব স্থানে দেখা দিয়েছে আপন খেয়ালে।
ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রভাবে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি থাকলেও গত বুধবার সরেজমিন নীলাচল পর্যটন স্পটে গিয়ে দেখা মেলে প্রকৃতির এই অপার সৌন্দর্যের। দেখা মেলে সাপ, গুইসাপ থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রজাতির সরীসৃপের। দেখা যায়, রাস্তায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে ঝরা পাতা ও ফুল। রাস্তার দু'পাশে নেই ময়লা-আবর্জনা। মনে হয় এখানে মানুষের পা পড়েনি বহু বছর ধরে। প্রকৃতির এই সৌন্দর্যে স্থানীয়রাও আনন্দিত।
এ প্রসঙ্গে নীলাচলের টাইগার পাড়ার বাসিন্দা অর্জুন তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, 'সৌন্দর্যপিপাসু পর্যটকরা যদি মন থেকে প্রকৃতিকে ভালোবেসে উপভোগ করত, তাহলে প্রকৃতি বোধহয় সব সময় এমন রূপেই ধরা দিত।'
তবে কভিড-১৯-এর প্রভাবে প্রকৃতি তার রূপ ফিরে পেলেও পর্যটন খাতে নেমেছে ধস। পর্যটনের ওপর নির্ভরশীল কয়েকশ মানুষ বেকার হয়ে পড়েছে এখানে। কর্মহীন হয়ে পড়েছে গাড়ির চালক, হেলপার, ট্যুরিস্ট গাইড, হোটেল-মোটেলের কর্মচারীরা। জানুয়ারি থেকে এপ্রিল- এই চার মাসকে বান্দরবান জেলায় পর্যটন মৌসুম হিসেবে ধরা জয়। যদিও পর্যটকদের আসা-যাওয়া সারা বছরই থাকে। এবার এই মৌসুমে লকডাউন চলায় লোকসান গুনতে শুরু করেছে হোটেল-মোটেল ও কটেজ মালিকরা।
জেলা হোটেল-মোটেল, কটেজ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সিরাজ জানান, তাদের অধীনে ৬০টি হোটেল-মোটেল ও কটেজ রয়েছে। পর্যটন মৌসুমে তাদের দৈনিক ৫০ লাখ টাকা আয় হয়। এ ছাড়া অন্যান্য সময়ে সারা বছর দৈনিক আয় হয় ৩০ লাখ টাকা। সে হিসাবে লকডাউন শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত কয়েক হাজার কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। এ ক্ষতি পূরণ হওয়ার নয়। জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. শামীম হোসেন বলেন, 'প্রকৃতি এতদিন বন্দি ছিল। এই সুযোগে তা মুক্তি পেয়েছে। নিজস্ব রূপ ফিরে পেয়েছে। প্রকৃতির এই রূপ যেন হারিয়ে না যায়। পরিবেশ-প্রকৃতির সঙ্গে সমঝোতা করেই মানুষকে এগোতে হবে।'