ঢাকা শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

১২তলা ভবন তুলতে পাহাড়খেকোদের সর্বনাশা কাণ্ড

১২তলা ভবন তুলতে পাহাড়খেকোদের সর্বনাশা কাণ্ড
×

ভবন নির্মাণের জন্য চট্টগ্রামের এসএস খালেদ রোডে কাটা হচ্ছে পাহাড় - সমকাল

আহমেদ কুতুব, চট্টগ্রাম

প্রকাশ: ২৯ মে ২০২০ | ১২:০০ | আপডেট: ৩০ মে ২০২০ | ০০:২৩

বারো তলা ফ্ল্যাট বাড়ি তুলতে পাহাড়খেকোদের কুনজর পড়েছে এবার চট্টগ্রাম নগরের এসএস খালেদ রোডের গ্রিন্ডলেজ ব্যাংক হিসেবে পরিচিত পাহাড়ের ওপর। করোনাকালে সাধারণ ছুটিতে শহর ফাঁকা থাকার সুযোগ কাজে লাগিয়ে পাহাড়টির তিন ভাগের এক ভাগ ইতোমধ্যে সাবাড় করে দিয়েছে খেকোরা। সাত থেকে আটজনের একটি সিন্ডিকেট পাহাড়টি কম দামে কিনে নিয়ে নিশ্চিহ্ন করে দিচ্ছে। মানুষের চোখ ফাঁকি দিয়ে ধীরে ধীরে পাহাড়টি কাটতে তিন দিকে প্রায় ২৫ ফুট উচ্চতার টিনের ঘেরাও দিয়েছে তারা। এক মাস ধরে সুকৌশলে কাটতে থাকে লোভনীয় পাহাড়টি। নগরীর অন্যতম প্রাণকেন্দ্র জামালখান লাগোয়া রিমা কমিউনিটি সেন্টারের বিপরীত দিকেই চলছে এই পরিবেশ ধ্বংসের সর্বনাশা কাণ্ড। পাহাড় কাটার বিষয়টি স্বীকার করে পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মহানগরের পরিচালক মো. নুরুল্লাহ নূরী বলেন, 'শহরের ভেতর কৌশলে পাহাড় কাটার তথ্য পেয়ে সরেজমিনে গিয়ে প্রমাণ পেয়েছি। পাহাড় কাটার সঙ্গে বেশ কয়েকজন জড়িত। তবে সনজীব দত্ত ও চিকিৎসক দারদাউস শাহ নামের দুইজনকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। পাহাড় কাটার বিষয়ে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। পাহাড় কেটে ফ্ল্যাট ভবন করতে দেওয়া হবে না। আমরা অ্যাকশনে যাব।'

সরেজমিনে দেখা যায়, নগরীর জামালখান মোড় থেকে একটু সামনে কাজীর দেউড়ি যেতে এসএস খালেদ সড়কের পাশেই প্রায় ৮০ ফুট লম্বা ও ৪০ ফুট প্রশস্ত লোভনীয় পাহাড়টি। পাহাড়টির বাঁ পাশে এবিসি টাওয়ার আর ডান পাশে রয়েছে মিশন টাওয়ার। সামনে দিয়ে চলে গেছে প্রধান সড়ক। করোনার কারণে সাধারণ ছুটি শুরুর পর সাধারণ মানুষের ঘরের বাইরে প্রবেশ সীমিত হয়ে পড়ার সুযোগে মাসখানেক আগে টিন দিয়ে তিনদিকে ঘেরাও দেয় পাহাড়খেকোরা। ধীরে ধীরে কাটা শুরু করে পাহাড়টি। টিনের বিশাল ঘেরাওয়ের কারণে সড়ক কিংবা বাইরে থেকে ভেতরে কী হচ্ছে, তা দেখার কোনো উপায় নেই। পাহাড়ের পাশের ভবনের বাসিন্দারা জানান, মাসখানেক ধরে ২০ থেকে ২৫ শ্রমিক পাহাড়টি কাটে। রাতে কৌশলে কাটা পাহাড়ের মাটিগুলো ট্রাকে করে সরিয়ে ফেলা হয়। গত সপ্তাহে পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে একজন ইন্সপেক্টর পাহাড় কাটার স্থানটি পরিদর্শন করেন। তখন পাহাড় কাটা কয়েক দিন বন্ধ ছিল। গতকাল শুক্রবার সকালে গিয়েও ৮ থেকে ১০ জন শ্রমিককে পাহাড় কাটতে দেখা গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা নাজমুল হক জানান, পাহাড়টি দারদুস শাহ নামের এক চিকিৎসক ব্যক্তির ছিল। কিন্তু তার কাছ থেকে জনৈক সজল চৌধুরী, খোকন ধর, রুপন সেন ঝুলন, সনজীব দত্তসহ কয়েকজনের একটি সিন্ডিকেট কিনে নেয়। হাতবদলের পরই মূলত শুরু হয় পাহাড় কাটা। ১২ তলা ফ্ল্যাট বাড়ি তুলবেন বলে নতুন মালিকরা বলছেন। যত দিন আগের মালিকের কাছে ছিল তিনি কোনোদিন এক টুকরো মাটিও কাটেননি।

পাশের এবিসি টাওয়ারের বাসিন্দা এক ব্যবসায়ী জানান, একটি সবুজ পাহাড় কীভাবে কেটে সাবাড় করছে, তার সাক্ষী আমরা। পাহাড়টিতে অনেক গাছপালা ছিল। এরা প্রথমে গাছপালাগুলো কেটে শেষ করে ফেলে। তারপর ধীরে ধীরে মাটি কেটে এখন একটি বিশাল অংশ সমতলও করে ফেলেছে। এই অসৎ মানুষগুলো করোনার লকডাউনের ফাঁকে এ জঘন্য কাজটি করছে।

পাহাড় কাটার তদারকির দায়িত্বে থাকা সনজীব দত্তের মোবাইলে ফোন করলেও তা বন্ধ পাওয়া গেছে।

পরিবেশবিদ ড. ইদ্রিস আলী বলেন, 'পাহাড় কাটা আইনে নিষিদ্ধ। এটি বন্ধ হওয়া উচিত। পাহাড় কেটে বসতি স্থাপন করাও আইনসিদ্ধ নয়। পরিবেশ ধ্বংস করার কারণে পৃথিবী আজ নানা ধরনের রোগ সৃষ্টি হয়ে তার খেসারত দিতে হচ্ছে মানুষকে। পরিবেশ অধিদপ্তরের এ পাহাড়খেকোদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

আরও পড়ুন

×