একসঙ্গে বাবা-মায়ের লাশ দেখে বাকরুদ্ধ সবুজ
একসঙ্গে বাবা-মায়ের লাশ দেখে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন সবুজ-সমকাল
চাঁদপুর প্রতিনিধি ও কসবা সংবাদদাতা
প্রকাশ: ১২ নভেম্বর ২০১৯ | ০১:৫৫ | আপডেট: ১২ নভেম্বর ২০১৯ | ০৭:১৫
একসঙ্গে বাবা-মায়ের নিথর দেহ পড়ে আছে। নিজের চোখকেও বিশ্বাস করাতে পারছেন না সবুজ। হতবাক আর বাকরুদ্ধ হয়ে উঠেন তিনি। কান্নার সঙ্গে বিলাপে ভারী হয়ে উঠে আশপাশ। চোখের পানি আটকে রাখতে পারেনি কেউই। সবুজের সামনে এখন কেবল ঝড় আর অন্ধকার, সামনে দুঃখের পারাবার।
সোমবার গভীর রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ডরিয়ার কসবায় যাত্রীবাহী দ্ইু ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষে মারা যান সবুজের বাবা চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার ১নং রাজারগাঁও ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের বেপারী বাড়ির মজিবুর রহমান (৫০) ও তার স্ত্রী কুলসুম বেগম (৪২)। এতে জীবন প্রদ্বীপ নিভে যায় আরও ১৬ জনের।
সবুজের বাবা মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে কসমেটিক পণ্যের ব্যবসা করতেন। মজিবুর রহমান তার স্ত্রী ও তিন ছেলেকে নিয়ে সেখানেই থাকতেন। সোমবার রাতে স্ত্রী কুলসুমকে সঙ্গে নিয়ে উদয়ন ট্রেনে শ্রীমঙ্গল থেকে বাড়ি যাচ্ছিলেন তিনি। তাদের আর বাড়ি যাওয়া হলো না। স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গেই চলে গেলেন না ফেরার দেশে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে কসবায় ছুটে আসেন ছেলে সবুজ। প্রথমে বাবা-মার কোনো খোঁজ পাচ্ছিলেন না। পরে বায়েক শিক্ষা সদন উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে সারিবদ্ধভাবে রাখা মরদেহগুলো থেকে বাবা-মায়ের লাশ শনাক্ত করেন সবুজ। একসঙ্গে বাবা-মায়ের লাশ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
মজিবুর রহমানের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় সবাই মরদেহের জন্য অপেক্ষা করছে। এ ঘটনায় আত্মীয়-স্বজনদের মাঝে চলছে শোকের মাতম।
পারিবারিক সূত্র জানায়, মজিবুর রহমান ও তার স্ত্রী সোমবার রাতে সিলেট থেকে আন্তনগর উদয়ন এক্সপ্রেসে করে লাকসামে যাচ্ছিছিলেন। সেখান থেকে ভিন্ন রুটে চাঁদপুরে আসার কথা ছিল তাদের। কিন্তু রাত ৩টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার ঢাকা-চট্রগ্রাম রেলপথের মন্দভাগ রেলওয়ে স্টেশনে উদয়ন এক্সপ্রেসের সঙ্গে ঢাকাগামী তূর্ণা-নিশীথা এক্সপ্রেস নামের একটি ট্রেনের সংঘর্ষ হয়। এতে ওই দম্পতি মারা যান।
রাজারগাও উত্তর ইউপি চেয়ারম্যন মো. আব্দুল হাদি মিয়া বলেন, ‘আমরা খবর পেয়ে তাদের স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। এরপর তাদের লাশ আনার জন্য লোকও পাঠানো হয়েছে। লাশ এলে তাদের পরিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।’