ঢাকা মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

বাবা পাষণ্ড!

বাবা পাষণ্ড!
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৫ জানুয়ারি ২০২০ | ১৩:৩০

মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশে থাকেন মা। তাই বাবার সঙ্গে থাকত ১৩ বছরের শিশুটি। সেই বাবাই যে এমন পাষণ্ড হয়ে উঠবে, তা ভাবতেও পারেনি সে। মুরগি ব্যবসায়ী আবুল হোসেনের কাছ থেকে ধার নেওয়া টাকা শোধ করতে না পেরে তার কুপ্রস্তাবে রাজি হয় বাবা। মেয়েকে তুলে দেয় ওই ব্যবসায়ীর হাতে। আর দিনের পর দিন শিশুটিকে ধর্ষণ করে আসছিল আবুল। পাশবিক এ ঘটনা ঘটেছে রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর এলাকায়। সম্প্রতি প্রতিবেশী এক নারী ঘটনাটি জানতে পেরে জাতীয় জরুরি সেবা '৯৯৯'-এ কল করে সহায়তা চান। অভিযোগ পাওয়ার পর মঙ্গলবারই পাষণ্ড বাবাকে গ্রেপ্তার করে কামরাঙ্গীরচর থানা পুলিশ। ধর্ষককে ধরতে বিভিন্ন স্থানে চলছে অভিযান।

কামরাঙ্গীরচর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) সিকদার মহিতুল আলম বলেন, 'ধর্ষণের শিকার মেয়েটিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। মেয়েটি তার বাবার সঙ্গে যে বাসায় ভাড়া থাকত, সেই বাড়িওয়ালা বাদী হয়ে মামলাটি করেছেন। এতে মেয়েটির বাবা ও ব্যবসায়ী আবুল হোসেনকে আসামি করা হয়েছে।'

সংশ্নিষ্টরা জানান, শিশুটির বাবা ওই মুরগি ব্যবসায়ীর দোকানে শ্রমিক হিসেবে কাজ করে। পাশাপাশি রিকশাভ্যানও চালায়। গত বছর একটি প্রয়োজনে সে আবুল হোসেনের কাছ থেকে ছয় হাজার টাকা ধার নেয়। পরে তা আর শোধ করতে পারেনি। এ জন্য প্রায়ই চাপ দিত আবুল। এক পর্যায়ে সে শিশুটির ব্যাপারে কুপ্রস্তাব দেয়। আর এতে রাজি হয় তার বাবা। সে আবুলের চাহিদা অনুযায়ী বেশ কয়েকবার মেয়েকে ওই ব্যবসায়ীর হাতে তুলে দিয়েছে। কখনও কখনও মেয়েটিকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে ওই ব্যবসায়ীর কাছে দেওয়া হতো। সর্বশেষ গত ১১ জানুয়ারি সে ধর্ষণের শিকার হয়। এর পর অতিষ্ঠ শিশুটি প্রতিবেশী নারীকে ঘটনাটি জানায়। ওই নারী ৯৯৯-এ ফোন করেন। সেখান থেকে কামরাঙ্গীরচর থানাকে বিষয়টি অবহিত করে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।

পুলিশ জানায়, মেয়েটির বাবা-মায়ের মধ্যে বিচ্ছেদ হয়েছে। সে ও তার বড় ভাই বাবার সঙ্গে থাকত। ভাই একটি প্রতিষ্ঠানে সামান্য বেতনে চাকরি করে। মা সৌদি আরবে থাকায় শিশুটি কারও কাছে নির্যাতনের বিষয়টি প্রকাশ করতে পারেনি। তা ছাড়া তার বাবা ও ধর্ষক এ ব্যাপারে মুখ না খুলতে হুমকি দিয়ে রেখেছিল। এসব ব্যাপারে মেয়েটির কাছ থেকে বিস্তারিত অভিযোগ শুনে লিপিবদ্ধ করেছে পুলিশ।

ওসিসিতে মেয়েটির প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ধর্ষণ প্রমাণে প্রয়োজনীয় ডাক্তারি পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। শিশুটি এখনও আতঙ্কে আছে। অচেনা লোকজন দেখলেই ভয় পাচ্ছে।

কামরাঙ্গীরচর থানার এসআই শেখ মোর্শেদ আলী সাংবাদিকদের জানান, আবুল হোসেনকে পালানোর সুযোগ করে দেয় শিশুটির বাবা। মামলার বিষয়টি জানতে পেরে সেই আবুলকে ফোন করে পালিয়ে যেতে বলে। তবে তার পক্ষে বেশি দিন পালিয়ে থাকা সম্ভব হবে না। পুলিশের একাধিক ইউনিট তাকে গ্রেপ্তারে কাজ করছে।

এদিকে মেয়েকে ধর্ষণে সহায়তার অভিযোগে গ্রেপ্তার তার বাবাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। গতকাল বুধবার দুপুরে কামরাঙ্গীরচর থানা পুলিশ তাকে আদালতে হাজির করে। এ সময় তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তা। শুনানির পর ঢাকা মহানগর হাকিম মইনুল ইসলাম তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

আরও পড়ুন

×