ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

ছোটবেলার পূজার স্মৃতি

ছোটবেলার পূজার স্মৃতি
×

শর্মিলা ঠাকুর

প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২০ | ১২:০০ | আপডেট: ২৪ অক্টোবর ২০২০ | ০৯:১৬

পূজার কথা মনে হলে কলকাতার কথা পড়ে। ছোটবেলায় আমার মনে আছে যে, একমাত্র পূজার সময়ই আমরা সারা বছরের সব জামাকাপড় পেতাম। মহালয়ার দিনে খুব ভোরবেলায় আমাদের পিসিমা জাগিয়ে দিতেন। ঘুম জড়ানো চোখে আমরা রেডিওর সেই অনুষ্ঠান শুনতাম। দেখতে দেখতে ষষ্ঠী চলে আসত। মা, পিসিমা, দিদিমারা সব উপোস করতেন। সেজেগুজে অষ্টমীর দিনে সবাই অঞ্জলি দিতাম। ঠাকুর দেখা তো ছিলই। সব কাজিন ব্রাদার এবং সিস্টারদের সঙ্গে ঘুরতাম। বেশ মজা হতো সেই চারটে দিন। তখন একটা জিনিস দেখতাম যে, পূজার সময়ের খাবার সব কিন্তু বাড়িতেই তৈরি করা হতো। আমার ঠাকুমা সব নিজ হাতে গড়তেন। বাইরে থেকে কিছু আসত না। বিজয়া দশমীর দিন সব ভাইবোন মিলে ঠাকুর বিসর্জনও দেখতে যেতাম। এ ছাড়া বাড়ির কাছে যেসব প্যান্ডেল হতো, সেখানেও ঘুরতাম।
পূজার ক'দিন বাড়িতে অনেক অতিথিও আসতেন। তার পর লক্ষ্মীপূজার সময় বাড়ির আলপনা দেখে ভীষণ ভালো লাগত। ইট ওয়াজ লটস অব ফান। এর পর তো অনেক কিছুর পরিবর্তন হলো। পরে বম্বেতে চলে যাওয়ার পর পূজাতে সেভাবে যোগ দিতে পারতাম না; কারণ ওই সময় ছবির কাজে খুব ব্যস্ত সময় কাটত। মনে আছে, অক্টোবর মাসে মোটামুটি কাশ্মীরেই থাকতাম। তখন বছরে দু'বার আমরা কাশ্মীরে যেতাম। একবার এপ্রিলে আর একবার অক্টোবর মাসে। তা ছাড়া তখন কিন্তু আজকের মতো মুম্বাইতে এত বেশি পূজা হতো না। মাত্র কয়েকটা বাড়িতে পূজা হতো। আমার জানার ভেতর ফিল্মিস্থানের শশধর মুখোপাধ্যায়ের বাড়িতে পূজা হতো। সেটা ছাড়া আরও কয়েকটা বাড়িতে পূজা হতো; কিন্তু এই মুহূর্তে জায়গাগুলোর নাম ঠিক মনে করতে পারছি না। আর সেসব দিনে ঠিক আজকের মতো এত আমন্ত্রণও পেতাম না। এখন যেন সে কলকাতা, দিল্লি বা মুম্বাই হোক, অনেক জায়গা থেকেই ইনভাইটেশন আসে।
গত কয়েক বছরে তো কলকাতার অনেক সার্বজনীন দুর্গাপূজা উদ্বোধন করেছি। অনেক সুন্দর সুন্দর ভাবনাচিন্তা নিয়ে দেখি, আজকাল পূজার সাজসজ্জা করা হয়। সেগুলো দেখতে বেশ ভালোও লাগে। তবে ছোটবেলার দুর্গাপূজার কথা কিন্তু ভোলার নয়। সেই সব স্মৃতি আজও মাঝে-মধ্যে মনে পড়ে।

লেখক: বলিউড অভিনেত্রী

আরও পড়ুন

×