বাজার
সুযোগসন্ধানীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন
--
প্রকাশ: ১৮ মার্চ ২০২০ | ১২:৫৬
যে কোনো অজুহাতে বাজারে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধিতে অসাধু ব্যবসায়ীদের সুযোগসন্ধান আমাদের দেশে নতুন কিছু নয়। সংকট তাদের কাছে হীনস্বার্থ হাসিলের লক্ষ্য হয়ে ওঠে। করোনাভাইরাসে বিশ্ব পরিস্থিতি যখন টালমাটাল, তখনও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের ভোক্তারা স্বভাবতই প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাদ্যপণ্য কিনে রাখার প্রতি ঝুঁকেছেন। বুধবার সমকালে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানীতে হঠাৎ করে সব ধরনের চালের দাম বেড়ে গেছে। বুধবার বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, প্রত্যেকটি পণ্যের যথেষ্ট মজুদ আছে। আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। তিনি এ-ও বলেছেন, ক্রেতারা বেশি পরিমাণ পণ্য কিনছেন দেখে বাজারে অস্থিরতার সৃষ্টি হয়েছে। তিনি ক্রেতাদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি আরও বলেছেন, সচেতন না হলে লাখ লাখ ব্যবসায়ীকে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়বে।
কেউ বাড়তি সুবিধা নিতে চাইলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন। আমরা তার বক্তব্যের প্রতিফলন কার্যক্ষেত্রে দেখতে চাই। ভোক্তাদের সচেতন হওয়ার কথা বলে দায়িত্ব শেষ করার অবকাশ আছে, তা আমরা মনে করি না। অসাধু ব্যবসায়ীরা কারসাজি করে কীভাবে ভোক্তার পকেট কেটে নেয়, সাম্প্রতিক অতীতে পেঁয়াজের বাজারে আমরা দেখেছি। তাদের হীনস্বার্থ চরিতার্থকরণের ব্যাপারে সংশ্নিষ্ট দায়িত্বশীলদের প্রতিকারের ক্ষেত্রে ব্যর্থতার নজিরও কম নেই। যারা সুযোগ বুঝে নিজেদের লাভালাভের অঙ্ক কষেন, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত না করে শুধু ক্রেতাদের সচেতন হওয়ার পরামর্শ কতটা যুক্তিযুক্ত? শুধু চালই নয়, কাঁচাবাজার থেকে শুরু করে অন্যান্য নিত্যপণ্যের দামও এরই মধ্যে এক দফা বেড়ে গেছে। চালের দাম কেজিপ্রতি পাঁচ থেকে সাত টাকা পর্যন্ত বেড়েছে, যা কোনো অবস্থায়ই স্বাভাবিক নয়।
আমাদের বাস্তবতায় চাল অত্যন্ত স্পর্শকাতর পণ্য। মোটা চালের ওপর নিম্ন ও নিম্নমধ্যবিত্ত এমনকি মধ্যবিত্ত শ্রেণিও নির্ভরশীল। অথচ তুলনামূলকভাবে মোটা চালের দামই বেড়েছে বেশি। সুযোগসন্ধানীরা বাজারে যখন-তখন নিজেদের হীনস্বার্থ হাসিলে তৎপর হয়ে উঠবেন অথচ এর বিপরীতে দায়িত্বশীলদের কিছুই করার থাকবে না, তা তো হতে পারে না। 'সিন্ডিকেট' করে বাজারে ইতোমধ্যে নানারকম তুঘলকি কাণ্ড ঘটলেও দৃষ্টান্তযোগ্য প্রতিকারের চিত্র বিরল। এমতাবস্থায় তাদেরকে অপকর্ম থেকে নিবৃত্ত করা যাবে কী করে? আমাদের অভিজ্ঞতায় আছে, যে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগেও বাজারে অসাধু ব্যবসায়ীরা হীনতৎপরতায় মেতে ওঠেন। এবার চালসহ অন্যান্য নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি ফের সেই বিষয়টিই সামনে এলো। আমাদের ব্যবসায়ীরা মুক্তাবাজর অর্থনীতির তত্ত্বের কথা বড় গলায় বলেন। ব্যবসা-বাণিজ্যে সরকারের হস্তক্ষেপ বন্ধের দাবিতে সোচ্চার থাকেন। কিন্তু মজুদ-সরবরাহে কোনো ঘাটতি না থাকলেও এবং মূল্য হ্রাসে সহায়ক পদক্ষেপ গ্রহণ করার পরও কেন বাজারে অস্থিরতা? সরকারকে বাজার স্বাভাবিক রাখার বলিষ্ঠ পদক্ষেপ নিতেই হবে। ভাঙতে হবে অসাধু ব্যবসায়ীদের আঁতাত। অসাধুদের আইনের আওতায় নিতে হবে। পাশাপাশি সরবরাহ ব্যবস্থাও নির্বিঘ্ন রাখতে হবে।
- বিষয় :
- বাজার
